কলকাতা: ফিরহাদ হাকিমের নিরাপত্তায়ও কাটছাঁট। কনভয় নয়, শুধুমাত্র নিজের গাড়িতে চেপে কলকাতা পুরসভায় পৌঁছলেন মেয়র।অর্থাৎ প্রাক্তন পুরমন্ত্রী ফিরহাদের কনভয়ও তুলে নেওয়া হয়েছে। কমানো হয়েছে পুলিশের সংখ্যাও। গতকালও কনভয় নিয়ে পুরসভায় এসেছিলেন ফিরহাদ। তবে আজ শুধু নিজের গাড়িতে চেপে পৌঁছলেন। (Firhad Hakim Security Reduced)

Continues below advertisement

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে পরাজিত হয়েছে তৃণমূল। ফিরহাদ যদিও নিজের আসন কলকাতা বন্দরে জয়ী হয়েছেন। পাশাপাশি, এখনও কলকাতার মেয়র তিনি। ফলে কলকাতা পুরসভায় রোজই যাতায়াত করতে হয় তাঁকে। তবে বৃহস্পতিবার যখন পুরসভায় ঢুকলেন তিনি, কার্যতই অবাক হয়ে যান সকলে। কারণ শুধুমাত্র নিজের গাড়িতে চেপেই সেখানে পৌঁছন তিনি। (TMC News)

Continues below advertisement

আরও পড়ুন: ‘এখানে নাটক করবেন না’, হাইকোর্টে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কটাক্ষ জনৈক আইনজীবীর, তৃণমূলনেত্রী বললেন...

এতদিন দেখা যেত, ফিরহাদের কনভয় ছিল। তাঁর গাড়ির সামনে এবং পিছনে একটি করে পুলিশের গাড়ি থাকত। গতকাল যখন পুরসভায় ঢোকেন ফিরহাদ, সেই সময়ও তাঁর সঙ্গে কনভয় ছিল। কিন্তু বাড়ি যাওয়ার পরই তাঁর নিরাপত্তার গাড়ি কমিয়ে দেওয়া হয়। আজ শুধু ফিরহাদের গাড়িটিই ঢোকে। নিরাপত্তারক্ষীরাও গাড়ির ভিতরেই ছিলেন। অর্থাৎ নিরাপত্তা থাকলেও, তাতে কাটছাঁট করা হয়েছে। 

আরও পড়ুন: হাইকোর্ট থেকে বেরনোর সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে ‘চোর’ ‘চোর’ স্লোগান, শুভেন্দু অধিকারী বললেন…

রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের পর, অনেক কিছুই বদলে গিয়েছে। তৃণমূল সাংসদ তথা দলের সর্বভারতীয় সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়তি নিরাপত্তায় কাটছাঁট করা হয়েছে। সাংসদ হিসেবে প্রাপ্য নিরাপত্তাই শুধুমাত্র রয়েছে এই মুহূর্তে। বহু বছর ধরে Z+ ক্যাটেগরির নিরাপত্তা পেতেন অভিষেক। এমনকি যে পাইলট কারের সুবিধা পেতেন, তাও প্রত্যাহার করা হয়। অভিষেকের বাড়ি 'শান্তিনিকেতন' থেকে সরিয়ে ফেলা হয় পুলিশের স্ক্যানার। নিরাপত্তা সংক্রান্ত সামগ্রী সরিয়ে নেওয়া হয়।

ভোটের ফলপ্রকাশের পর থেকেই অভিষেকের নিরাপত্তা কমতে শুরু করে। তৃণমূল সরকারের জমানায় কড়া পুলিশি নিরাপত্তার জালে মোড়া থাকত ক্যামাক স্ট্রিট এলাকা। তবে রাজ্যে পালাবদলের পর প্রথমেই ক‍্যামাক স্ট্রিটে অভিষেকের দফতরের সামনে থেকে পুলিশ প্রহরা সরিয়ে দেওয়া হয়। পরে তাঁর বাড়ির সামনে থেকেও নিরাপত্তা কমানো হয়। তাঁর বাড়ি শান্তিনিকেতন থেকে সরিয়ে ফেলা হয় পুলিশের স্ক্যানার। পুলিশি নিরাপত্তা সংক্রান্ত যে সব সামগ্রী ছিল অভিষেকের বাড়িতে, সে সবও ফাঁকা করে দেওয়া হয়। শুধু তা-ই নয়, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির সামনের নিরাপত্তাতেও কাটছাঁট করা হয়। ১৮৮এ, হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিট মমতার বাসভবন। রাজ্যে পালাবদলের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই মমতার বাড়ি যাওয়ার গলির মুখে থাকা ‘সিজ়ারস ব্যারিকেড’ সরিয়ে নেওয়া হয়। পরে তাঁর বাড়ির সামনে থাকা অতিরিক্ত নিরাপত্তাও সরিয়ে দেয় লালবাজার।

এর পর রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের বাড়িতে যাওয়ার পথে রাস্তায় থাকা সিজার্স ব্যারিকেডও তুলে নেওয়া হয়। বাড়ির সামনে মোতায়েন থাকা অতিরিক্ত নিরাপত্তা প্রত্যাহার করে নেয় লালবাজার। তবে এই মুহূর্তে মমতা আগের মতোই নিরাপত্তা পাচ্ছেন। রাজ্যের নবনিযুক্ত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী পুলিশের সঙ্গে বৈঠকে জানিয়ে দেন,  "মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিরাপত্তা একই রকম বহাল থাকবে। উনি তিন বারের মুখ্যমন্ত্রী। সেই সঙ্গে দেখবেন, ওঁর যেন কোনও অসম্মান না হয়। বাড়ির সামনে গিয়ে কেউ যেন অসুবিধা করতে না পারে।" এবার ফিরহাদের কনভয়েও কাটছাঁট করা হল।