কলকাতা: প্রাক্তন তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনকে গ্রেফতার করল কলকাতা পুলিশ। বুধবার সকাল থেকেই CGO কমপ্লেক্সে ছিলেন তিনি। ED-র জিজ্ঞাসাবাদের পরে বাইরে বেরোতেই পাকড়াও করে পুলিশ। তদন্তে অসহযোগিতার অভিযোগে CGO কমপ্লেক্স থেকেই প্রাক্তন মন্ত্রীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। CGO কমপ্লেক্স থেকে লালবাজার নিয়ে যাচ্ছে কলকাতা পুলিশ। কী অভিযোগ তাঁরা বিরুদ্ধে ? কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ ইন্দ্রনীল সেনকে গ্রেফতার করেছে। অভিযোগ, 'মাস আর্ট' নামে একটি সংস্থা তৈরি করে ২০২৩ ও ২০২৪ সালে তিনি প্রচুর টিকিট বিক্রি করেছিলেন দুর্গাপুজো দেখার জন্য। যে টিকিটগুলো বিক্রি করা হয়েছিল সেগুলো সব উনিস্কোর নাম ভাঙিয়ে। অর্থাৎ, তিনি উনিস্কোর নাম ব্যবহার করে, কলকাতা শহরের বড় পুজোগুলোর মধ্যে ২৪টা পুজোকে বেছে নিয়ে, এই পুজোগুলো যারা আগে দেখতে চান, তাঁরা টিকিট কেটে দেখতে পারেন। অন্যথায় এই সব পুজো আগে দেখা যাবে না। এই টিকিটের মূল্য ছিল ১৮০০ থেকে ৪৫০০টাকা। আবার কোনও কোনও টিকিট-এর মূল্য ছিল ১২,০০০ টাকা। এই মূল্যের টিকিট কেটে দর্শকদের পুজো প্যান্ডেলে ঢুকতে সুযোগ করে দেওয়া হত, অন্য কোনও সাধারণ মানুষকে পুজোর মুখে ৪ দিন এই সব প্যান্ডেলে ঢুকতে দেওয়া হত না। রীতিমতো একটি সংস্থা খুলে এই ধরণের কাজ করতেন তিনি। মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের নাম কীভাবে সামনে এল ?
ED-র নজরে ৩০ লক্ষ টাকার লেনদেন। ED-র একটি বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছিল যে, ইন্দ্রনীল সেনের মালিকানাধীন সংস্থা থেকে টাকা গেছিল মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের অ্য়াকাউন্টে। প্রেস বিবৃতিতে ED আরও দাবি করে যে, অকটেভ রেকর্ডস নামে ইন্দ্রনীল সেনের মালিকানাধীন সংস্থায় জমা পড়ে ৩ কোটি ৮০ লক্ষ টাকা। এই অকটেভ রেকর্ডস-এর অ্যাকাউন্ট থেকে ৩০ লক্ষ টাকা যায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অ্যাকাউন্টে। ED জানিয়েছে, এনিয়ে প্রশ্ন করা হলে, ইন্দ্রনীল সেন দাবি করেন, রয়্য়ালটি হিসেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অ্যাকাউন্টে ওই টাকা গেছে।
সূত্রের দাবি, ইন্দ্রনীল সেনের কাছে ED-র তদন্তকারীরা জানতে চান, অকটেভ রেকর্ডস-এর অ্যাকাউন্ট থেকে যে টাকা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়েছিল, তা কীসের রয়্য়ালটি? প্রেস বিবৃতিতে ED জানিয়েছে, মন্ত্রী থাকাকালীন ইন্দ্রনীল সেন তাঁর দুই ঘনিষ্ঠ, ধ্রবজ্য়োতি বসু ও দীপেশ রায়ের সংস্থাকে ৮৫ কোটিরও বেশি টাকার টেন্ডার পাইয়ে দেন। এরপরই দেখা যায়, ইন্দ্রনীল সেনের দুই ঘনিষ্ঠের সংস্থা থেকে টাকা পাঠানো হয় ইন্দ্রনীল সেনের আত্মীয়দের নিয়ন্ত্রণাধীন সংস্থায়। ইন্দ্রনীল সেনের আত্মীয়দের নিয়ন্ত্রণাধীন সেই সংস্থা থেকে টাকা তোলা হয়। এই দুর্নীতির অভিযোগ সামনে আসে ৮ জুন। যখন বউবাজার থানায় এনিয়ে অভিযোগ দায়ের করেছিলেন জয়দীপ মুখোপাধ্যায়। ইউনেস্কোর নাম ভাঙিয়ে আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ করা হয় ইন্দ্রনীল সেন ও 'মাস আর্ট' নামে একটি সংস্থার বিরুদ্ধে, যে সংস্থার মাথায় রয়েছেন ইন্দ্রনীল সেনের স্ত্রী মধুছন্দা সেন।
