সোমনাথ দাস, দাসপুর (পশ্চিম মেদিনীপুর): তৃণমূল ও বিজেপির অভিযোগ, পাল্টা অভিযোগে ফের উত্তপ্ত পশ্চিম মেদিনীপুরের দাসপুর। সেখানকার নাড়াজোল গ্রামে চার বিজেপি কর্মী আক্রান্ত হওয়ার ঘটনায় গেরুয়া শিবিরের দাবি, তাদের কর্মীদের ওপর হামলা চালিয়েছে তৃণমূল। যদিও এই অভিযোগ অস্বীকার করে রাজ্যের শাসক দল পাল্টা দাবি করেছে, তাদের ওপরই আক্রমণ করেছে পদ্মশিবির।

ঠিক কী ঘটেছে?

গেরুয়া শিবির দাবি করেছে, শনিবার রাতে তাদের কয়েকজন কর্মীর ওপর আচমকা লাঠিসোটা নিয়ে চড়াও হয় তৃণমূলের লোকজন। লাঠির ঘায়ে আহত হয়েছেন চারজন বিজেপি কর্মী। এঁদের মধ্যে দু’জন কর্মী ঘাটাল সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

কিন্তু কেন এই আক্রমণ বলে মনে করছে গেরুয়া শিবির?

বিজেপির ঘাটাল সাংগঠনিক জেলা সম্পাদক রামকুমার দে জানাচ্ছেন, 'আমাদের কর্মীদের ভয় দেখাতে, এলাকায় আতঙ্ক তৈরি করতেই এমন হামলা চালায় তৃণমূল। 

পাল্টা তৃণমূলের কী দাবি?

আক্রমণের অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে পাল্টা পদ্মশিবিরের ঘাড়েই দোষ চাপিয়ে দিয়েছে তৃণমূল। পশ্চিম মেদিনীপুরের বিধায়ক ও তৃণমুল কংগ্রেসের জেলা কমিটির সদস্য অজিত মাইতির বক্তব্য, 'বিজেপির লোকজন মদ্যপ অবস্থায় অসভ্যতা করছিল। আমাদের ছেলেরা তার প্রতিবাদ করলে তাদের মারধর করা হয়। আমাদের কর্মীরাই কয়েকজন এখন ভর্তি হাসপাতালে। 

এদিকে, বিজেপি কর্মীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে রবিবার দুপুরে ঘাটাল-পাঁশকুড়া রাজ্য সড়ক অবরোধ করে এবিভিপি। ঘণ্টাখানেক পর অবরোধ উঠে গেলেও যানজটে নাকাল হন সাধারণ যাত্রীরা। 

পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল ও বিজেপি সংঘর্ষ নতুন কোনও ঘটনা নয়। খাস কলকাতা থেকে জেলার বিভিন্ন প্রান্ত, প্রায়ই এই খবর পাওয়া যায়। এছাড়াও মেদিনীপুরেই আজ জোড়া শ্যুটআউটের খবরও সামনে আসে। দু’জায়গায় গুলি চলে। এক দুষ্কৃতীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। অভিযোগ, রাত ৮টা নাগাদ যমুনাবালি এলাকায় একটি ধাবায় ঢুকে ১ লক্ষ টাকা তোলা চায় কয়েকজন দুষ্কৃতী। ধাবার মালিক না থাকায় এক কর্মচারীকে মারধর করে শূন্যে ২ রাউন্ড গুলি চালায় তারা। হোটেলের সিসি ক্যামেরায় ধরা পড়েছে গোটা ঘটনা।