কলকাতা : পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক বিরাট পরিবর্তন ঘটেছে ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে। ১৫ বছরের তৃণমূল কংগ্রেসের শাসনকালকে একেবারে ধূলিসাৎ করে বাংলায় প্রথম বার সরকার গঠন করেছে বিজেপি। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। বিরাট জয়ের জন্য সোমবার ক্যামাক স্ট্রিটে ধন্যবাদ জ্ঞাপন অনুষ্ঠানের আয়োজন করে রাজ্য বিজেপি। এই সভামঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বাংলার দুর্নীতি ও নেপথ্যের দুর্নীতিবাজদের কথা উল্ল্যেখ করেন। স্পষ্ট করে জানান, ''৪ জনের নাম বলব, তারা কীভাবে বাংলাকে লুঠ করেছে আপনাদের জানা নেই।''

Continues below advertisement

২০২১-এ নন্দীগ্রামের পর এবার ভবানীপুরে। দু-বারই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। ২০২৬-এর নির্বাচনে তৃণমূলকে পরাজিত করে সরকার গড়েছে বিজেপি। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর, একের পর এক বড় পদক্ষেপ নিচ্ছেন তিনি। বিশেষ করে দুর্নীতি নিয়ে কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এবার সেই আগুনেই ঘি ঢেলে এমন ৪ জনের নাম বললেন তিনি, যা এই মুহূর্তে রাজ্য রাজনীতিতে শোরগোল ফেলে দিয়েছে। শুধু নাম নয়, বাংলাকে লুঠ করে তাঁদের কত সম্পত্তি রয়েছে, তার হিসেবেও দিলেন শুভেন্দু অধিকারী। 

তৃণমূলের কার কার নাম ও সম্পত্তি ফাঁস করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ?

Continues below advertisement

১. বেলেঘাটার রাজু নস্কর - ১৮ টা সম্পত্তি রয়েছে তাঁর নামে।  ২. কসবার সোনা পাপ্পু - ২৪ টা সম্পত্তি রয়েছে তাঁর নামে। ৩. ভাইপো অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় - তাঁর কোম্পানি লিপ‌্স অ্যান্ড বাউন্ডস-এর ১৪টা , নিজের নামে ৪টা, অভিষেকের বাবার নামে ৬টা সম্পত্তি। মোট ২৪ টা সম্পত্তি রয়েছে। ৪. জাভেদ খানের ছেলে - তাঁর নামে ৯০ টা সম্পত্তি রয়েছে।  আরও পড়ুন - 'আপনাদের ভাই পাশে থাকবে, একটা নম্বর দিয়ে যাব', ধন্যবাদ জ্ঞাপন অনুষ্ঠানে কী বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর

এই তথ্য প্রকাশ্য জনসভায় ফাঁস করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আর জি কর থেকে কামদুনি, কসবা ল কলেজ থেকে শুরু করে রামপুরহাট, সব অপরাধ ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী। 

এর পাশাপাশি ক্যামাক স্ট্রিটে ধন্যবাদ জ্ঞাপন অনুষ্ঠানমঞ্চ থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক কেরিয়ার নিয়েও মন্তব্য করেন মুখ্যমন্ত্রী।  তিনি বলেন, "সবচেয়ে বড় কী জিনিস জানেন ? মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেখানে ভোট দিয়েছেন...মিত্র ইনস্টিটিউশন...চারটি বুথেই আপনাদের শুভেন্দুর লিড। যিনি নিজের বুথে জিততে পারেন না, তাঁকে দরজা দেখিয়ে দিয়েছে বাংলার মানুষ। আপনার রাজনৈতিক দিন শেষ। টা টা, বাই বাই, খতম...পুরা খতম।"