গঙ্গাসাগর: হঠাৎ ঘন কালো মেঘে ঢেকে গেল আকাশ। তার পরই সমুদ্রের বুকে দেখা গেল এক অস্বাভাবিক দৃশ্য। জলরাশির উপর তৈরি হল বিশাল ঘূর্ণি। দেখে মনে হচ্ছিল, সমুদ্রের জল যেন পাক খেতে খেতে উঠে যাচ্ছে আকাশের দিকে! বৃহস্পতিবার সকালে দক্ষিণ ২৪ পরগনার গঙ্গাসাগরে কপিলমুনির আশ্রমের কাছে এমনই এক প্রাকৃতিক ঘটনার সাক্ষী থাকলেন পুণ্যার্থী, পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দারা। সমুদ্রের বুকে তৈরি হওয়া এই ঘূর্ণিকে বলা হয় ‘ওয়াটারস্পাউট’ (Waterspout) বা জলঘূর্ণি। আচমকা এমন দৃশ্য দেখে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে গোটা সৈকত এলাকায়।

Continues below advertisement

স্থানীয় সূত্রের খবর, বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা নাগাদ গঙ্গাসাগরের উপকূলীয় এলাকার আকাশে ঘন কালো মেঘ জমতে শুরু করে। আবহাওয়ার পরিবর্তনের মধ্যেই সকাল সাড়ে ৯টা নাগাদ কপিলমুনির আশ্রম সংলগ্ন ২ নম্বর স্নানঘাটের কাছে সমুদ্রের উপর বিশাল জলঘূর্ণি তৈরি হতে দেখা যায়।প্রথমে অনেকেই বুঝতে পারেননি ঠিক কী ঘটছে। সমুদ্রের উপর তৈরি হওয়া ঘূর্ণায়মান জলস্তম্ভ দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন উপস্থিত মানুষজন। প্রায় ৩০ মিনিট ধরে এই দৃশ্য দেখা যায় বলে স্থানীয় সূত্রে দাবি করা হয়েছে। পরিস্থিতি দেখে পুণ্যার্থী ও পর্যটকদের অনেকেই নিরাপদ জায়গায় সরে যান। আবার কেউ কেউ মোবাইল ফোনে গোটা ঘটনার ভিডিয়োও রেকর্ড করেন।

গঙ্গাসাগরের মতো গুরুত্বপূর্ণ তীর্থস্থানে এমন ঘটনা ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ তৈরি হয়। বিশেষ করে কপিলমুনির আশ্রম সংলগ্ন সৈকতে উপস্থিত মানুষজনের মধ্যে আতঙ্ক ছড়ায়। তবে স্বস্তির বিষয়, জলঘূর্ণিটি সমুদ্রের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। স্থলভাগে আছড়ে পড়েনি। প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই ঘটনায় কোনও হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতিরও খবর নেই। ঘটনার পর সৈকত এলাকায় নজরদারি বাড়িয়েছে স্থানীয় প্রশাসন, যাতে নতুন করে কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি না হয়।

Continues below advertisement

আবহাওয়াবিজ্ঞানের ভাষায় ওয়াটারস্পাউট হল জলভাগের উপর তৈরি হওয়া ঘূর্ণায়মান বায়ুস্তম্ভ। সাধারণত সমুদ্র বা বড় জলাশয়ের উপরে এই ধরনের ঘূর্ণি দেখা যায়। বিশেষ কিছু বায়ুমণ্ডলীয় পরিস্থিতিতে জলভাগের উপরে ঘূর্ণায়মান বাতাসের সঙ্গে মেঘের সংযোগ তৈরি হতে পারে।দূর থেকে অনেক সময় মনে হয়, সমুদ্রের জল যেন সরাসরি আকাশে উঠে যাচ্ছে। বাস্তবে ঘূর্ণির চারপাশে জলকণা ও জলীয় বাষ্পের ঘনীভবনের কারণে এমন দৃশ্য তৈরি হয়। সব ওয়াটারস্পাউট সমান শক্তিশালী নয়। তবে শক্তিশালী জলঘূর্ণি নৌকা, মাছ ধরার ট্রলার এবং জলপথে চলাচলকারীদের জন্য বিপজ্জনক হতে পারে।

গঙ্গাসাগরের কপিলমুনির আশ্রম ঘিরে সারা বছরই পুণ্যার্থীদের আনাগোনা থাকে। বিশেষ করে সৈকত ও স্নানঘাট এলাকায় মানুষের উপস্থিতি থাকে। সেই জায়গার কাছেই সমুদ্রের বুকে আচমকা জলঘূর্ণি তৈরি হওয়ায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে ঘূর্ণিটি স্থলভাগে না আসায় বড়সড় বিপর্যয় এড়ানো গিয়েছে। আপাতত এই প্রাকৃতিক ঘটনার ভিডিয়ো ও প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিজ্ঞতা ঘিরে আলোচনা চলছে। একই সঙ্গে উপকূলবর্তী এলাকায় আবহাওয়ার আকস্মিক পরিবর্তনের সময় সতর্ক থাকার প্রয়োজনীয়তাও সামনে এসেছে।