কলকাতা: গিরিশ পার্কের অশান্তির ঘটনায় ধৃত ৯ জনের ১৯ মার্চ পর্যন্ত পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিল আদালত। শশী পাঁজা-সহ একাধিক তৃণমূল কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে সরব হয়েছে বিজেপি। পাল্টা বিজেপির বিরুদ্ধেও অভিযোগ দায়ের করেছে তৃণমূল। বৌবাজার থানার আহত OC সহ এক কনস্টেবল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে দাবি করেছে পুলিশ। গিরিশপার্ককাণ্ডে গ্রেফতার ৯, ধৃতদের মধ্যে বেশিরভাগ বিজেপিকর্মী, অভিযোগ বিজেপির। প্রতিবাদে গিরিশপার্ক থানার সামনে বিক্ষোভ বিজেপির। 

Continues below advertisement

শনিবার, নরেন্দ্র মোদির ব্রিগেড সমাবেশের দিন তৃণমূল-বিজেপি সংঘর্ষে এভাবেই রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় গিরিশ পার্ক। ওই ঘটনায়, এখনও পর্যন্ত বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শনিবারের ঘটনায় শশী পাঁজা-সহ একাধিক তৃণমূল কাউন্সিলরদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলল বিজেপি। শনিবার গিরিশ পার্ক থানা ও কলকাতা পুলিশ কমিশনারের কাছে মেল মারফত এই অভিযোগ জানিয়েছেন এক বিজেপি নেত্রী।

তাঁর দাবি, শনিবার বেলা সাড়ে ১২টা নাগাদ, শশী পাঁজার বাড়ির সামনে বিজেপি কর্মীদের গাড়ি আটকে দেওয়া হয়েছে বলে খবর আসে। বিজেপি কর্মীরা প্রতিবাদ করলে পাল্টা তাঁদের বাস লক্ষ্য করে পাথর ছোড়া হয়। বিজেপি নেত্রীর আরও অভিযোগ, মন্ত্রী শশীর পাঁজার নেতৃত্বে অন্ততপক্ষে ৪০ থেকে ৫০ জনকে হামলা করতে দেখা যায়।

Continues below advertisement

শনিবারের হামলার ঘটনার পর থেকেই মন্ত্রী শশী পাঁজার বাড়ির বাইরে নতুন করে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। রবিবার, ওই এলাকা দিয়ে CRPF জওয়ানদের নিয়ে রুটমার্চ করে গিরিশ পার্ক থানা। পুলিশ সূত্রে খবর, শনিবারের অশান্তির ঘটনায় ৮ জন পুলিশকর্মীও আহত হয়েছেন। যাদের মধ্যে ৬ জনকে প্রাথমিক চিকিৎসার পর ছেড়ে দেওয়া হলেও, উডল্যান্ডস হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বৌবাজার থানার OC বাপ্পাদিত্য নস্কর সহ ১ জন কনস্টেবল।

গভীর রাতে তৃণমূল ও বিজেপির তরফে দুটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। একদিকে তৃণমূলের দাবি, মন্ত্রীর বাড়িতে হামলা ও তৃণমূল কর্মীদের ওপরে হামলার অভিযোগ করা হয়েছে। পাল্টা বিজেপির অভিযোগ, গতকাল ব্রিগেডে যাওয়ার সময়ে তাদের গাড়ি থামিয়ে ভাঙচুর চালায় তৃণমূল কর্মীরা। পুলিশ সূত্রে খবর, বিজেপির এক নেত্রীর অভিযোগপত্রে মন্ত্রী শশী পাঁজা সহ ৩ জন কাউন্সিলরেরও নাম রয়েছে। মেল মারফত এই অভিযোগপত্র পাঠিয়েছেন ওই বিজেপি নেত্রী। সব মিলিয়ে এই ঘটনায় মোট ৩টি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর, ইতিমধ্যেই বিভিন্ন সিসিটিভি ক্যামেরা ফুটেজ খতিয়ে দেখে অশান্তির ঘটনায় যুক্তদের তল্লাশি চালানো হচ্ছে।