কলকাতা: ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে লক্ষ কণ্ঠে গীতাপাঠ কর্মসূচিতে এসে পশ্চিমবঙ্গের হিন্দুদের এক হওয়ার বার্তা দিলেন সুকান্ত মজুমদার। এদিন সনাতন সংস্কৃতি সংসদের উদ্যোগে আয়োজিত গীতাপাঠ অনুষ্ঠানে এসে কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী জানান, ''এই লক্ষ্য কণ্ঠে গীতাপাঠ সব হিন্দুদের একত্রিত হওয়ার একটি অনুষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। এখন বাংলার যা পরিস্থিতি তাতে হিন্দুরাই কোনঠাসা। হিন্দু ধর্ম, সংস্কৃতি যদি রক্ষা করতে হয়, যার জন্য পশ্চিমবঙ্গ তৈরি হয়েছিল। হিন্দুদের জন্যই তো পশ্চিমবঙ্গ তৈরি হয়েছিল, নইলে তো এর দরকার ছিল না। পুরোটাই পূর্ব পাকিস্তানে চলে যেত।''

Continues below advertisement

সুকান্ত মজুমদার আরও বলেন, ''আজকে কিছু লোক বলছে ৯০ আসল তাঁদের। থাকতে সবাই পারে এখানে। কিন্তু ভাগ তো হয়েছিল হিন্দুদের জন্য। কিন্তু হিন্দুরাই যদি এখানে পরবসী হয়ে যায়, তবে তো চিন্তার বিষয়।'' আগামী বছর নির্বাচন। তার আগে এই গীতাপাঠ অনুষ্ঠানের আয়োজনে কি কোথাও রাজনৈতিক অভিসন্ধি রয়েছে? সেই সম্ভাবনা উড়িয়ে দিয়ে বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি বলেন, ''এই কর্মসূচির সঙ্গে রাজনীতির কোনও যোগ নেই। পুরোটাই ভিত্তিহীন কথা।''

Continues below advertisement

ঠিক একই প্রশ্ন করা হয়েছিল বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষকেও। তিনিও কিন্তু রাজনীতির সঙ্গে এর কোনও যোগ পাচ্ছেন না। উল্টো তৃণমূলকে আক্রমণ করে জানান, 'তো ওদের করতে না কে বলেছে ? কর দম থাকলে, আমরা করব। রাম মন্দির করেছি, কৃষ্ণ মন্দির করেছি, এটাও করবএদিন দিলীপ আরও বলেন, 'পশ্চিমবাংলা বিভাজনের শিকার হয়েছে হিন্দু-মুসলমানের নেতৃত্বে। হিন্দু সমাজ সংগঠিত ছিল না, তাই বিভাজনের বলি হয়েছি আমরা। লক্ষ লক্ষ মানুষ এখনও দাস জীবন যাপন করছে। বাংলাদেশে আমাদের ভাইয়েরা অত্যাচারিত হচ্ছেন। মঠ মন্দির ধ্বংস করে, মা-বোনদের ইজ্জত নষ্ট হচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গে সেই ঘটনা না হোক, সেই জন্য এখানে হিন্দু জাগরণের দায়িত্ব নিয়েছেন সন্তরা।''

উল্লেখ্য, গত বছর, লোকসভা ভোটের আগেও, ব্রিগেডেই হয়েছিল লক্ষ কণ্ঠে গীতাপাঠ।আর কয়েক মাস পরে পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভার মহারণ!তার আগে রবিবার সেই ব্রিগেডেই '৫ লক্ষ কণ্ঠে গীতাপাঠে'র আয়োজন করেছে সনাতন সংস্কৃতি সংসদ। তারই শেষ মুহুর্তের প্রস্তুতি চলছে ব্রিগেডে। রবিবার সকাল ৯টা থেকে শুরু হয়েছে গীতা পাঠের অনুষ্ঠান। চলবে দুপুর ২ টো পর্যন্ত। গীতা পাঠের আগে হবে বেদ পাঠ। ৩টি ভাগে ভাগ করে তৈরি করা হয়েছে মঞ্চমূল মঞ্চের নাম দেওয়া হয়েছে পার্থসারথি মঞ্চএখানেই বসবেন দেড়শো জন সাধু সন্ত।