সমীরণ পাল, উত্তর ২৪ পরগনা: গোয়ায় কাজ করতে যাওয়া টাকির পরিযায়ী শ্রমিকের রহস্যমৃত্যু। মৃতের পরিবারের অভিযোগ, বাংলা বলায় পিটিয়ে খুন করা হয়েছে তাঁকে। পরপর বিজেপি শাসিত রাজ্যে পশ্চিমবঙ্গের পরিযায়ী শ্রমিকদের হেনস্থার ঘটনাকে হাতিয়ার করে ফের একবার আক্রমণ শানিয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। পাল্টা জবাব দিয়েছে বিজেপি। এই আবহেই আবার বিহারের মধুবনীতে বাংলাদেশি সন্দেহে ভারতীয় যুবককে পেটানোর ভিডিও ভাইরাল হয়েছে।

Continues below advertisement

আরও পড়ুন, এসআইআরের নামে হেনস্থার অভিযোগে সরব অভিষেক

Continues below advertisement

তৃণমূল কংগ্রেস সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, পশ্চিমবঙ্গ থেকে যাঁরা যাচ্ছে, তাঁদের ওপর অত্য়াচার করা হচ্ছে। গত ৮ মাসে এরকম ১২০০-১৪০০ ঘটনা আমাদের কাছে এসেছে। কারও বাড়ি মেদিনীপুরে, কারও কোচবিহারে। কারও জলপাইগুড়িতে। কারও দিনাজপুরে। কারও মালদায়। কারও মুর্শিদাবাদে। তাঁদের ত্রুটি কী? তাঁরা পশ্চিমবঙ্গের। 

রাজ্য বিজেপি মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার বলেন, অভিষেক এইসব বাংলা বাঙালির অত্যাচার বলে বাজার গরম করতে চাইছে, এসব বলে লাভ হবে না। পুলিশ সূত্রে খবর, গোয়ার ভাস্কো থানা এলাকায় দেবানন্দ সানা নামে ওই পরিযায়ী শ্রমিক সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করছিলেন। সেই সময় এলাকার লোকজন তাঁকে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। আদালতে তোলার পর অসুস্থ হয়ে পড়েন টাকির বাসিন্দা। সূত্রের খবর, হাসপাতালে ভর্তি করা হলে সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়।

পরিযায়ী শ্রমিকের দিদি রুমা সানা বলেন, কী এমন দোষ করল যে পুরোপুরি মেরে ফেলল ? ভিনরাজ্যে কাজে গিয়ে ঘরে ফেরা হল না পশ্চিমবঙ্গের আরও এক পরিযায়ী শ্রমিকের! গোয়ায় কাজে গিয়ে, বসিরহাটের বাসিন্দা দেবানন্দ সানার মৃত্যু ঘিরে তৈরি হয়েছে রহস্য। মৃত যুবকের পরিবারের অভিযোগ, বিজেপি শাসিত গোয়ায় বাংলাদেশি সন্দেহে পিটিয়ে মারা হয়েছে দেবানন্দকে। মৃত পরিযায়ী শ্রমিকের মা  কমলা সানা, বাঙালি বলে মেরেছে নিয়ে। অত্যাচার না করলে ভাল ছেলে তো মরে না! উনি (মুখ্যমন্ত্রী) যেন ব্যবস্থা নেন।  পরিবার সূত্রে খবর, বছর খানেক আগে গোয়ায় রাজমিস্ত্রির কাজ করতে যান বসিরহাটের টাকির বাসিন্দা দেবানন্দ সানা। অভিযোগ, সেখানে বাংলায় কথা বলায় বাংলাদেশি সন্দেহে বেধড়ক মারধর করা হয় ওই পরিযায়ী শ্রমিককে। মৃতের পরিবারের অভিযোগ, হামলাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে গোয়া পুলিশ গ্রেফতার করে আক্রান্ত দেবানন্দ সানাকেই! পুলিশি হেফাজতে থাকার সময়ে গত ২৬ ডিসেম্বর তাঁর মৃত্যু হয় বলে দাবি করেছে মৃত পরিযায়ী শ্রমিকের পরিবার। শুক্রবার টাকি পুরসভার উদ্যোগে বাড়িতে ফেরে দেবানন্দ সানার মৃতদেহ। বসিরহাট দক্ষিণ তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক সপ্তর্ষি বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, গোয়াতে বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকের ওপর অকথ্য অত্যাচার... বাংলা বিরোধীরা বাঙালিদের ওপর, পরিযায়ীদের ওপর অত্যাচার করছে। 

এই ঘটনায় তোলপাড়ের আবহেই,বিহারের মধুবনীতে বাংলাদেশি সন্দেহে এক ভারতীয় যুবককে ব্যাপক মারধরের ছবি ভাইরাল হয়েছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে, মাটিতে ফেলে ওই যুবকের চুলির মুঠি ধরে মারা হচ্ছে কিল-ঘুসি!গত ৩০ ডিসেম্বরের এই ছবি সামনে আসতেই শুরু হয়েছ বিতর্ক। পুলিশ সূত্রে দাবি করা হয়েছে, ওই ব্যক্তি আদৌ বাংলাদেশি নন, ভারতীয়। এই ঘটনায় খুনের চেষ্টার অভিযোগে মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।