কলকাতা: গুপ্তা ব্রাদার্সে (Gupta Brothers) গুন্ডাগিরি, আগেও বিজেপির যুব নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ! দোকানে হামলার পর এখনও আতঙ্কে রয়েছেন বালিগঞ্জে গুপ্তা ব্রাদার্সের কর্মীরা। আতঙ্কে সন্ধের পর অনেক কর্মীই দোকানে কাজ করতে চাইছেন না। মিষ্টি ব্যবসায়ীদের সম্মেলনে গিয়ে তাঁদেরকে আশ্বস্ত করেছিলেন দিলীপ ঘোষ। তাঁকে বলতে শোনা গিয়েছেৃ, 'যা দাদাগিরি, গুন্ডাগিরি বন্ধ হয়ে এসেছে, বাকিটাও হয়ে যাবে।'
তবে গুপ্তা ব্রাদার্সে তাণ্ডবকাণ্ডের পরের দিনই জামিন পেলেন বিজেপি যুব নেতা বিবেক ত্রিপাঠী। আরেক মামলাতেও জামিন হল তাঁর। কড়েয়া থানায় প্রতারণার মামলায় বৃহস্পতিবার গ্রেফতার হন ওই নেতা। নেতাজিনগরের এক বাসিন্দার সঙ্গে ফ্ল্যাট দেওয়ার নামে প্রতারণার অভিযোগ করা হয়েছিল বিবেকের বিরুদ্ধে। প্রায় ৮ লক্ষ টাকার প্রতারণার মামলায় বৃহস্পতিবার গ্রেফতার হন বিবেক ত্রিপাঠী। ২০২২ সালেও বেনিয়াপুকুর, শেক্সপিয়র সরণি থানাতেও একাধিক অভিযোগ। তবে বিবেক গুপ্তার বিরুদ্ধে একাধিক থানায় জালিয়াতি-প্রতারণার অভিযোগ থাকলেও গ্রেফতারির ঠিক পরের দিনই জামিনে মুক্ত হলেন বিজেপির যুব নেতা।
শুক্রবার কলকাতার মিষ্টি ব্যবসায়ীদের সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন দিলীপ ঘোষ। আর সেখানেই মিষ্টির দোকানে গুন্ডামির ঘটনা নিয়ে সরব হন বালিগঞ্জে গুপ্তা ব্রাদার্সের মালিক উমেশ গুপ্তা>। তিনি বলেন, ‘আমরা তো ডাকাত না, গুন্ডা না। আমরা বিজনেসম্যান। যাকে মেরেছে ও ভয় পেয়ে গেছে। এরকম কখনও হয়নি। কোনও ঘটনা হয়নি। যাকে মেরেছে ও ভয় পেয়ে গেছে। গুন্ডা, মস্তান আছে। ওর নামে বাজারে অনেক কিছু আছে।’ তাঁর ছেলে মুকেশ জানান আক্রান্ত কর্মচারী আতঙ্কে ভুগছেন। ভয়ে একবেলা কাজেই আসছেন না। তিনি জানান, ‘ভয়ে একবেলা আসছে, একবেলা আসছে না। বলে স্যর রাত্রিবেলা গেলে যদি কিছু হয়ে যায়। আমি (কর্মী) দিনের বেলা বেরিয়ে যাচ্ছি।’
আরও পড়ুন:- বেসরকারি কারখানায় চুল্লি ফেটে আহত তিনজন শ্রমিক, শ্রমিক নিরাপত্তায় গাফিলাতির অভিযোগ
শুধু যে গুপ্তা ব্রাদার্সেই এই ঘটনা ঘটেছে, এমনটা নয়। নবান্নের পাশে ব্যাটরা মিষ্টান্ন ভাণ্ডারের মালিক সৈকত পালের দাবি, ব্যবসা চালাতে গিয়ে তিক্ত অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হয়েছে তাঁকেও। মিষ্টি উদ্যোগের জয়েন্ট সেক্রেটারিকে বলতে শোনা যায়, ‘বিশ্বাস করবেন না, রাত্রিবেলা দোকান খুলতে ভয় পাই। আমরা ভয়ে থাকি রাত ৮টার পর মিষ্টির ব্যবসা করতে, কারণ বহু লোক আসেন, বহু মানুষজন আসে, বহু সমাজবিরোধী আসে, তাদেরকে আমাদেরকে কখনও বিনা পয়সায় মিষ্টি দিতে হবে। কখনও কম পয়সায় মিষ্টি দিতে হবে। কোনও মিষ্টির পয়সা নেওয়া যাবে না। এরকম দাদাগিরি চলে। এসে গালিগালাজ করা। প্রতিদিন।’
মিষ্টি উদ্যোগের সভাপতি ধীমান দাসকে বলতে শোনা যায়, ‘ভীত তো অবশ্য়ই। কেননা এরকম দোকানে ঢুকে যদি গুন্ডামি হয়, তাহলে তো স্বভাবতই আমরা ভয়ে থাকব। ঢুকে যদি কেউ মারধর করে, যে কোনও ব্যবসাতেই এটা নিশ্চয়ই ভয়ের ব্য়াপার। আঙুল ভেঙে যাচ্ছে মারে, এগুলো তো ঠিক কথা নয়। এই জিনিস এর আগে হয়নি।’
গুপ্তা ব্রাদার্সে এই গুণ্ডাগিরি নিয়ে সরব হয়েছেন বিরোধীরাও। কুণাল ঘোষ এই নিয়ে বিজেপিকে কাঠগড়ায় তুলে বলেন, 'গুপ্তা ব্রাদার্সের ঘটনা বাংলার লজ্জা। নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছে। এটা লজ্জার। ১০০ দিনের সবচেয়ে বড় কাজ তোলাবাজি। এই সরকার কোথায় রাখবে। ভয়ংকর দিকে যাচ্ছে।'
তবে মিষ্টি ব্যবসায়ীদের সম্মেলনে পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ ব্যবসায়ীদের সুরক্ষা নিয়ে আস্বস্ত করেন। ‘যে সমস্যাগুলো মাননীয় ধীমানবাবু বলছিলেন, সুরক্ষা, ইত্যাদি...আইনশৃঙ্খলার সমস্যা। এটা খালি মিষ্টিওয়ালাদের নয়, এটা সার্বিকভাবে সাড়ে ১০ কোটি মানুষ পশ্চিমবাংলার প্রত্যেকের জন্য সুরক্ষা দরকার। প্রত্যেকের আত্মসম্মান, প্রত্যেকের ব্যবসাবাণিজ্য করার অধিকার আছে। সেটা সুরক্ষিত হওয়া উচিত। এখানে পরিবর্তন শুরু হয়েছে। যে পরিবর্তনটা দরকার ছিল সেটা আপনারা করে দিয়েছেন। এবার বাকিটা আমরা করব। পুরো আস্থা রাখুন। বিশ্বাস রাখুন।’ বলেন দিলীপ ঘোষ।
এবার প্রশ্ন আগামী দিনে কি ছবিটা পাল্টাবে? সেটাই দেখার।
