কলকাতা: ফের ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনা (Train Accident)। ঝাড়খণ্ডের চক্রধরপুরে লাইনচ্যুত হয়েছে হাওড়া-মুম্বই মেলের ১৮টি বগি। সংবাদ সংস্থা PTI সূত্রে খবর, এই ট্রেন দুর্ঘটনায় এখনও পর্যন্ত মৃত ২। আহত হয়েছেন ২০। এই নিয়ে ২ মাসে ৩ বার দুর্ঘটনায় পড়ে। ফের রেলের যাত্রী নিরাপত্তা নিয়ে উঠল প্রশ্ন।
লাইনচ্যুত হাওড়া-মুম্বই মেল: ওড়িশার বাহানাগাবাজারের দুঃস্বপ্ন ফিরল ঝাড়খণ্ডের চক্রধরপুরে। শালিমার-চেন্নাই করমণ্ডল এক্সপ্রেসের স্মৃতি উসকে দিল হাওড়া-মুম্বই মেল। এই নিয়ে গত দু’মাসে তিন-তিনবার ঘটল ট্রেন দুর্ঘটনা। কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেস ও চণ্ডীগড়-ডিব্রুগড় এক্সপ্রেসের পর এবার 12321 হাওড়া মুম্বই CSMT মেল। লাইনচ্যুত হয়েছে ট্রেনের ১৮টি কামরা। সংবাদ সংস্থা সূত্রে খবর, বেশ কয়েক জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন অনেকে। দুর্ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার রাত ৩টে ৩৯-এ। জামশেদপুর থেকে ৮০ কিলোমিটার দূরে সরাইকেলা-রাজাখারসওয়ান জেলায় বড়াবাম্বু স্টেশনের কাছে।
একাধিকবার ট্রেন দুর্ঘটনা: তবে শুধু ২ মাসের হিসেবে এই সংখ্যাটা ৩। গত এক বছরের দেশের নানা প্রান্তে দুর্ঘটনার মুখে পড়েছে ট্রেন। গত এক বছরে একের পর এক ট্রেন দুর্ঘটনা মৃত্য়ু হয়েছে বহু মানুষের। আহত হয়েছেন এমন সংখ্যাটাও নেহাত কম নয়।
একনজরে গত এক বছরের ট্রেন দুর্ঘটনা
২ জুন ২০২৩: বালেশ্বরে করমণ্ডল এক্সপ্রেস দুর্ঘটনায় ২৯৬ জনের মৃত্যু২৬ অগাস্ট ২০২৩: মাদুরাইয়ে ট্রেনে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ, ৪ জনের মৃত্যু ১১ অক্টোবর ২০২৩: বিহারের বক্সারে দুর্ঘটনার কবলে দিল্লি-কামাখ্যা এক্সপ্রেস, মৃত ৫, আহত ৩০২৯ অক্টোবর ২০২৩: বিশাখাপত্তনমে দুই প্যাসেঞ্জার ট্রেনের সংঘর্ষে ১৩ জনের মৃত্যু, আহত ৫০১৭ জুন, ২০২৪: দুর্ঘটনার কবলে কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সরপ্রেস, মৃত্যু ১০ জনের১৮ জুলাই, ২০২৪: চণ্ডীগড়-ডিব্রুগড় এক্সপ্রেস দুর্ঘটনা, মৃত ৩৩০ জুলাই, ২০২৪: হাওড়া-মুম্বই মেল দুর্ঘটনা, ২ জনের মৃত্যু
রেল সূত্রে খবর, সোমবার রাত ১০টা ২০-তে হাওড়া থেকে ছাড়ে মুম্বইগামী 12321 হাওড়া মুম্বই CSMT মেল ভায়া নাগপুর। রাত ৩টে ৩৯-এ ট্রেনটি যখন ঝাড়খণ্ডের বড়াবাম্বু স্টেশন পার করছিল তখন তার গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১২০ কিমি। যাত্রীরা তখন গভীর ঘুমে, তখনই ঘটে দুর্ঘটনা। রেল সূত্রে খবর, হাওড়ামুখী একটি মালগাড়ির চারটি বগি লাইনচ্যুত হয়। এর মধ্যে একটি বগি ছিটকে পাশে মুম্বই-মেলের লাইনে গিয়ে পড়ে। বড়াবাম্বু স্টেশন পার করার পরই ওই বগির সঙ্গে ধাক্কা লেগে লাইনচ্যুত হয় মেল ট্রেন। কিন্তু আগে যে মালগাড়ি লাইনচ্যুত হয়েছে, তার খবর কি জানতেন না রেল কর্তারা? কোনও খবর ছিল না লোকো পাইলটের কাছে? কেন এড়ানো গেল না সংঘর্ষ? কোথায় গেল সুরক্ষা কবচ? রেল সূত্রে খবর, মনে করা হচ্ছে- ট্রেনের গতি বেশি থাকায় ব্রেক কষেও ট্রেন থামাতে পারেননি চালক। দুর্ঘটনার পরেই চক্রধরপুর থেকে রওনা দেয় রিলিফ ট্রেন। খড়গপুর থেকে রেল কর্মীদের নিয়ে একটি স্পেশাল ট্রেনও রওনা হয় দুুর্ঘটনাস্থলের উদ্দেশে।
আপনার পছন্দের খবর আর আপডেট এখন পাবেন আপনার পছন্দের চ্যাটিং প্ল্যাটফর্ম হোয়াটস অ্যাপেও। যুক্ত হোন ABP Ananda হোয়াটস অ্যাপ চ্যানেলে।
আরও পড়ুন: Kolkata News: লাঠিসোঁটা নিয়ে চড়াও, ম্যানেজার-সহ কর্মীদের পেটানোর অভিযোগ কলকাতার পানশালায়