হাওড়া: গত কয়েকদিনের বৃষ্টিতে তথৈবচ অবস্থা রাজ্যের জেলায় জেলায়। এর মধ্যে অন্যতম হাওড়া। বিশেষ করে উত্তর হাওড়াতে জল জমে ভোগান্তির মুখে সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে উত্তর হাওড়ায় জল যন্ত্রণা দেখা দিয়েছে। এদিকে পুরসভাকে জানিয়েও কোনও সমাধান মেলেনি বলে অভিযোগ। এরপরেই এদিন প্রতিবাদ, বিক্ষোভ স্থানীয়দের।
আরও পড়ুন, কলকাতায় ৪০০ জনের উপরে ডেঙ্গি টেস্টের রেজাল্ট পজিটিভ
জলমগ্ন উত্তর হাওড়া, জলযন্ত্রণার জেরে প্রতিবাদ বিক্ষোভ স্থানীয়দের।সালকিয়ায় বামনগাছি ব্রিজের কাছে রাস্তা অবরোধ। দফায় দফায় ভারী বৃষ্টির জেরে জলমগ্ন একাধিক এলাকা। মেন রোড থেকে জল নেমে গেলেও অলিতে গলিতে থৈ থৈ করছে জল। হাওড়া পুরসভায় বারবার জানানো হলেও কোনও সুরাহা মেলেনি অভিযোগ স্থানীয়দের। প্রতিবাদে বিক্ষোভ বাসিন্দাদের, বেনারস রোড অবরোধ। ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ।
সম্প্রতি ভারী বৃষ্টিতে জলমগ্ন হয়ে পড়ে দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলা। আসানসোল থেকে হলদিয়া, জলমগ্ন হয়েছিল একাধিক ওয়ার্ড। পূর্ব মেদিনীপুরে একাধিক নদীর জলস্তর বেড়ে যাওয়ায় ভোগান্তিতে পড়ে স্থানীয় মানুষজন। পরিস্থিতি পরিদর্শনে গিয়েছিলেন মন্ত্রী, বিধায়করা। গভীর নিম্নচাপের বৃষ্টিতে ভেসে গিয়েছিল দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলা। কোথাও কোমর জল, কোথাও রাস্তা আর নদী আলাদা করার উপায় নেই। এই পরিস্থিতিতেই, পুরুলিয়ায় জলের স্রোতে বাইক-সহ ভেসে গিয়েছিলেন চালক। কোনওমতে তাঁকে উদ্ধার করে আনলেন স্থানীয়রা।
কোটালডি রেলগেটের সামনে রাস্তার উপর দিয়ে বইছে স্রোত। সেই রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময়ই স্রোতের টানে বাইক নিয়ে ভেসে গিয়েছিলেন চালক। বরাতজোরে রক্ষা পেয়েছিলেন তিনি। পশ্চিম বর্ধমানের, আসানসোলে সোমবার রাতে টানা চার ঘন্টার বৃষ্টিতে একাধিক এলাকায় কার্যত তৈরি হয়েছিল বন্যা পরিস্থিতি। রেলপার এলাকা , পাঁচ পুল রাস্তা , দিলদারনগর , হটন রোড সহ বেশ কিছু এলাকা ছিল জলের তলায়। পূর্ব মেদিনীপুরে, কেলেঘাইয়ের জলস্তর বাড়ায় ভোগান্তি বাড়ছিল স্থানীয়দের। বাগুই নদীর জলস্তর বেড়ে যাওয়ায় তৈরি হয়েছিল বন্যা পরিস্থিতি। খোলা হয়েছিল কন্ট্রোল রুম।
কেলেঘাই নদীর তীরবর্তী আমগাছিয়া ও লাঙলকাটা এলাকা ঘুরে দেখেছিলেন রাজ্যের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দফতরের প্রতিমন্ত্রী ও ভগবানপুরের বিধায়ক শান্তনু প্রামাণিক। বন্যা পরিস্থিতি পরিদর্শনে গিয়েছিলেন রাজ্যের সেচ মন্ত্রী অরূপকুমার দাস-ও। পটাশপুর ও ভগবানপুরে বন্যা পরিস্থিতি এলাকা পরিদর্শন করেছিলেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। ঝাড়গ্রামে, ভারী বৃষ্টিতে ফুঁসছিল একাধিক নদী। ডুলুং নদীর জল বেড়ে জলের তলায় চলে গিয়েছিল জামবনির চিল্কিগড় কজওয়ে।নিম্নচাপের বৃষ্টিতে জলমগ্ন হয়ে পড়েছিল হলদিয়া পুরসভার ২৯টি ওয়ার্ডই । অধিকাংশ ঘরবাড়িতে ঢুকে গিয়েছিল জল।
