সুনীত হালদার, হাওড়া : হাওড়ার পিলখানায় প্রোমোটার সফিক খানকে খুনের ঘটনায় ৩ অভিযুক্তকে গ্রেফতার করল গোলাবাড়ি থানা। ধৃত ৩৬ বছর বয়সি মহম্মদ বিলাল কলকাতার জোড়াসাঁকো থানার কলাবাগান এলাকার বাসিন্দা। ধৃত ৩২ বছর বয়সি মহম্মদ ওয়াকিল ওরফে মুন্না ও দিলদার হোসেন বউবাজার এলাকার বাসিন্দা। গতকাল গভীর রাতে হাওড়া সিটি পুলিশের গোয়েন্দারা এবং গোলাবাড়ি থানা গোপন সূত্রে খবর পেয়ে জোড়াসাঁকোর গোপন আস্তানা থেকে ৩ জনকে গ্রেফতার করে। পুলিশ সূত্রে খবর, সফিক খানকে খুনের পরে হারুন খান এবং রোহিত হোসেন জোড়াসাঁকোয় মহম্মদ বিলালের কাছে আশ্রয় নেয়। হারুন খান ও রোহিত হোসেনের কাছে নিয়মিত যাতায়াত ছিল ধৃত তিন জনের। দুই মূল অভিযুক্তর খোঁজ পেতে তিনজনকে দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করছে হাওড়া সিটি পুলিশের গোয়েন্দারা। ধৃতদের বিরুদ্ধে খুনের মামলা রুজু করেছে গোলাবাড়ি থানা।
তবে হাওড়ায় ২৭ বছর বয়সী প্রোমোটার সফিক খানকে খুনের ঘটনায় সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যাওয়া মূল আততায়ী হারুন খান এবং রোহিত হোসেনের এখনও খোঁজ পায়নি পুলিশ। পুলিশের একাধিক টিম এই ২ আততায়ীর খোঁজে তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। তবে ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও, হাওড়ায় প্রোমোটার খুনের ঘটনায় মূল ২ অভিযুক্ত গ্রেফতার না হওয়ায় উঠছে প্রশ্ন। ইতিমধ্যেই হাওড়া উত্তরের বিধায়ক গৌতম চৌধুরীর বাইকের পিছনে বসা হারুন খানের ভিডিও ভাইরাল হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। অন্যদিকে, বিধায়কের সঙ্গে একসঙ্গে হাঁটছে হারুন খান, সেই ছবিও ভাইরাল হয়েছে সমাজমাধ্যমে। ফলে প্রশ্ন উঠছে, 'শাসক ঘনিষ্ঠ' হওয়ার কারণেই কি ফুটেজ থাকার পরেও আততায়ীদের নাগাল পাচ্ছে না পুলিশ...
ভোটের মুখে হাওড়ায় হাড়হিম করা ঘটনা! ২৭ বছরের তরতাজা যুবক, পেশায় প্রোমোটারকে পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে গুলি করে খুন করল দুষকৃতীরা। সিসিটিভি ফুটেজে ধরা পড়েছে গোটা ঘটনা। যা নিয়ে এদিন দফায় দফায় উত্তেজনা ছড়াল এলাকায়। চলল রাস্তা আটকে, আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ। খুনে অন্যতম অভিযুক্তের সঙ্গে স্থানীয় তৃণমূল বিধায়কের ছবি ভাইরাল হওয়ায় এই ঘটনায় লেগেছে রাজনীতির রং!
রাস্তার ওপর প্রোমোটার খুনের পর, হাওড়ায় খবর করতে গিয়ে আক্রান্ত হলেন এবিপি আনন্দর সাংবাদিক ময়ূখ ঠাকুর চক্রবর্তী। বেধড়ক মারে ঝরল রক্ত, ভাঙল নাকের হাড়। কয়েক মুহূর্ত আগে DC এবং AC-র নেতৃত্বে RAF যে জায়গায় টহল দিয়ে যায়, সেখান থেকেই ভয়ডরহীন দুষ্কৃতীরা এবিপি আনন্দর সাংবাদিককে টেনে হিঁচড়ে নিয়ে গিয়ে বেধড়ক মারধর করে। কিন্তু, তখন আর কোথাও দেখা যায়নি পুলিশকে।
