সুনীত হালদার, হাওড়া: জামাইষষ্ঠীর দিন বাংলার বাড়িতে বাড়িতে যখন উলু, জামাই বরণ চলছে, তখনই মায়ের কোল খালি হল হাওড়া জেলায়। ৬ মাসেই প্রেমের বিয়ে কাড়ল প্রাণ। জামাইষষ্ঠীতে বাপের বাড়ি এসে বহুতল থেকে ঝাঁপ দিয়ে 'আত্মঘাতী' হলেন এক গৃহবধূ !
সোমবার সকালে ঘটনাটি ঘটে উলুবেড়িয়া পুরসভার ২৮ নম্বর ওয়ার্ডের লতিবপুরে। পুলিশ জানায় মৃত তরুণীর নাম প্রীতি বাগ মজুমদার (২৫)। উলুবেড়িয়া থানার পুলিশ দেহটি ময়না তদন্তের জন্য উলুবেড়িয়া শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠিয়েছে। মৃতার পরিবারের লোকজন জানিয়েছে, 'প্রায় সাত বছর ধরে প্রীতির সঙ্গে ভালোবাসার সম্পর্ক ছিল বাগান্ডার ঋত্বিক মজুমদারের। মাস ছয়েক আগে উলুবেড়িয়ার বাগান্ডার বাসিন্দা ঋত্বিক মজুমদারের সঙ্গে বিয়ে হয়।
তরুণীর মা পুতুল বাগের অভিযোগ, 'বিয়ের পর থেকে শ্বশুর বাড়ির লোকজন শারীরিক এবং মানসিকভাবে তাকে নির্যাতন করত। আর এই নির্যাতন সহ্য না করতে পেরে মেয়ে সকালে পাঁচতলা বাড়ির ছাদ থেকে ঝাঁপ দিয়ে আত্মঘাতী হয়। এই মৃত্যুর জন্য দায়ী শ্বশুরবাড়ি লোকজন।'তাঁর মা আরো জানিয়েছেন, 'মৃত্যুর আগে এই নির্যাতনের কথা মেয়ে মোবাইল ক্যামেরায় ভিডিও করে তার কাছে পাঠায়।'
পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে উলুবেড়িয়া থানার পুলিশ। পুলিশ সূত্রে খবর, প্রীতির সমস্ত ভিডিও পরীক্ষা করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি শ্বশুরবাড়ির লোকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। গতবছর আরও একটি মর্মান্তিক ঘটনার সাক্ষী হয়েছিল কলকাতা। নিউটাউনের ইকোস্পেসে কটি বিলাসবহুল আবাসনের ১০ তলা থেকে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেছিলেন গৃহবধূ। মৃতার নাম কবিতা কাউর। বয়স হয়েছিল ৩৫। তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পেরেছিল, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক বিবাদ চলছিল । প্রায় এক বছর ধরে সেই কারণেই মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন।
রাতের বেলা আচমকা ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেছিলেন। পুলিশের পক্ষ থেকে সমস্ত ঘটনার খতিয়ে দেখা হয়েছিল। পরিবারের সদস্যদের সাথে কথা বলাও হয়।একুশ সালে সল্টলেক দত্তাবাদেও একটি মর্মান্তিক ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছিল। বাড়ি থেকে উদ্ধার হয়েছিল গৃহবধূর ঝুলন্ত দেহ । আত্মঘাতী হয়েছিলেন পিউ হালদার। ঘটনায় গ্রেফতার করা হয়েছিল স্বামী সঞ্জয় হালদারকে।ঝুলন্ত অবস্থায় গৃহবধূর মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছিল সল্টলেক দত্তাবাদে ।