সুনীত হালদার, হাওড়া : ভালবেসে পালিয়েছিল বাড়ি থেকে। মন্দিরে এক প্রস্থ বিয়েও সারা হয়ে গিয়েছিল। তারপর বাড়িতে ফিরে এলে মেনে নেন পরিবারের লোকজনও। বড়সড় করে আনুষ্ঠানিক বিয়েরও আয়োজন হয়। কিন্তু শেষ রক্ষা হল না। পুলিশ এসে আটকালো বিয়ে। শেষমেষ কনের ঠাঁই হল হোমে ! কিন্তু কেন ?
তারকেশ্বরে দেখা হতে বিয়ের প্রস্তাব
হুগলি চন্ডীতলার বাসিন্দা বছর দশম শ্রেণীর এক ছাত্রীর সঙ্গে পরিচয় হয় এক যুবকের । পুলিশ সূত্রের খবর, কুলগাছিয়ার বাসিন্দা পাত্র যদিও প্রাপ্তবয়স্ক। কিন্তু পাত্রীর বয়স ১৮ র কম । জানা গিয়েছে, ওই যুবক দোলের দিন বন্ধুদের সঙ্গে হুগলির তারকেশ্বর মন্দিরে যান। সেদিনই মেয়েটির সঙ্গে পরিচয়, তারপরই প্রেমের প্রস্তাব। বিয়ের সিদ্ধান্তও নিয়ে ফেলে তারা। ছেলেটির কথা মতো রবিবার মেয়েটি বাড়ি ছেড়ে উলুবেরিয়ায় চলে আসে। স্থানীয় মন্দিরে গিয়ে গোপনে বিয়েও সেরে ফেলে তারা।
বিয়ের দিন কী হয়েছিল?
এরপর হাওড়ার কুলগাছিয়ায় বাড়ি ফিরে গেলে পরিবার সামাজিক রীতিনীতি মেনে বিয়ের ব্যবস্থা করে পাত্রের পরিবার। সোমবার যখন বিয়ের অনুষ্ঠান চলছিল, তখনও সেখানে এসে পৌঁছয় পুলিশ। মালাবদলের মাঝেই ঘটে ছন্দপতন। উলুবেরিয়া থানার পুলিশ এসে বিয়ে থামায়। কারণ ? কনের বয়স ছিল ১৮ র কম। আর ভারতীয় আইন অনুসারে সাবালিকা না হলে বিয়ে বৈধ নয়। বিয়ের আসর থেকে নাবালিকাকে উদ্ধার করে পুলিশ।
উলুবেরিয়া বিডিও অফিসের কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে বিয়ের আসরে পৌঁছয় পুলিশ। প্রথমে পাত্র ও পাত্রীকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর সমাজ কল্যাণ দফতরের আধিকারিকরা ওই বাড়িতে যান। তাঁরা পরিবারের লোকেদের কম বয়সে মেয়ের বিয়ের ক্ষতি সম্পর্কে অবহিত করে। রাতে ওই মেয়েটিকে হোমে পাঠানো হয়। পেশায় রাজমিস্ত্রি ওই যুবকটিকে পুলিশ আটক করে।