কৃষ্ণেন্দু অধিকারী : এক হুমায়ুন কবীরকে আরেক হুমায়ুন কবীরের আমন্ত্রণ। ডেবরার তৃণমূল বিধায়ককে সাসপেন্ডেড বিধায়কের ফোন। বাবরি মসজিদের কাজ দেখতে ডেবরার তৃণমূল বিধায়ককে আমন্ত্রণ জানানো হল। 'যদি সময় পাই, সবকিছু ঠিকঠাক থাকে নিশ্চয়ই যাব বলে আশ্বাস' তৃণমূল বিধায়কের। 'উনি এলে ভাল লাগবে' বলে প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন সাসপেন্ডেড তৃণমূল বিধায়ক। অর্থাৎ, বাবরি মসজিদ নিয়ে নতুন সমীকরণের জল্পনা বাড়িয়ে আমন্ত্রণ। ১১ ফেব্রুয়ারি প্রস্তাবিত বাবরি মসজিদের নির্মাণকাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হচ্ছে।
আমন্ত্রণ প্রসঙ্গে এবিপি আনন্দকে একান্ত সাক্ষাৎকার দেন ডেবরার তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। তাঁকে প্রশ্ন করা হয়, ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ুন কবীর নতুন দল গড়েছেন এবং ইতিমধ্যে মহম্মদ সেলিমের সঙ্গে বৈঠকও করেছেন। ১১ তারিখ প্রতীক্ষিত বাবরি মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে তাঁর তরফ থেকে। এক হুমায়ুন কবীর উদ্যোগ নিচ্ছেন, তাতে এত মানুষ জড়ো হচ্ছে, কী বলবেন ? উত্তরে ডেবরার তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবীর বলেন, "এটা গণতান্ত্রিক দেশ। এখানে যে কোনও মানুষেরই অধিকার আছে তাঁর দল গড়ার, প্রচার করার, নির্বাচনে অংশ নেওয়ার...সবই ঠিক আছে। এগুলো নিয়ে আমার কিছু বলার নেই। ১১ তারিখ বাবরি মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের জন্য আমাকে ফোনে নিমন্ত্রণ জানিয়েছেন উনি। আসতে চেয়েছিলেন। আমি বললাম, দরকার নেই। আপনি ফোন বললেই হবে। কারণ, আমি ডেবরায় ছিলাম। বাবরি মসজিদের একটা আবেগ রয়েছে মুসলিমদের মধ্যে। এটা অস্বীকার করার কোনও জায়গা নেই।"
প্রশ্ন : কেন বলছেন আবেগ রয়েছে ?
ডেবরার তৃণমূল বিধায়ক : দেখুন, বাবরি মসজিদ ভেঙে দিয়েছে সেই ১৯৯২ সালে। সেটা আজ দেখতে দেখতে ৩৩ বছর হয়ে গেছে। এখন এটার জাজমেন্টটা ঠিক ছিল...ভুল ছিল...এটা নিয়ে বহু বিতর্ক হয়েছে। কিন্তু, মুসলমানদের মনের ভিতরে যে একটা আবেগ রয়ে গিয়েছিল যে, বাবরি মসজিদটা অন্যায়ভাবে ভাঙা হয়েছে। সেই আবেগটা এখনও কাজ করছে। ধিক ধিক জ্বলছে। সেটা আমরা দেখেছিলাম, যেদিন বাবরি মসজিদ উদ্বোধনের ডাক দিয়ে হুমায়ুন কবীর বেলডাঙায় মিটিং ডেকেছিলেন। সেখানে বহু মানুষ এসেছিলেন। সেটা বাবরি মসজিদের জন্যই। বাবরি মসজিদ ঘিরেই। অন্য কিছু নয়।
প্রশ্ন : এই আবেগ কি গোটা রাজ্যেই আছে ?
ডেবরার তৃণমূল বিধায়ক : এই আবেগটা পশ্চিম মেদিনীপুরে নেই। বর্ধমানে এসপি ছিলাম, হুগলিতেও ছিলাম। সেখানে আমি দেখিনি। আমার মনে হয়, মালদা, মুর্শিদাবাদ, উত্তর দিনাজপুর, নদিয়া, বসিরহাটে কিছুটা বা ভাঙড়...এইসব এলাকায় খানিকটা পড়তে পারে। গোটা পশ্চিমবঙ্গে পড়বে বলে আমার মনে হয় না। এটাই আমার পর্যবেক্ষণ। আমি যা খবর পাচ্ছি।
প্রশ্ন : আপনি কি দেখা করেছেন হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে ?
ডেবরার তৃণমূল বিধায়ক : না, না। ফোনে কথা হয়েছে। উনি আমায় নিমন্ত্রণ জানিয়েছেন। আমি বলেছি, ভাই সময় যদি পাই, যদি সবকিছু ঠিকঠাক থাকে, নিশ্চয়ই আসব।
এ প্রসঙ্গে বাবরি মসজিদ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হুমায়ুন কবীর বলেন, "১১ ফেব্রুয়ারি, বুধবার বেলা ১২টায় আনুষ্ঠানিকভাবে বাবরি মসজিদের নির্মাণকাজ শুরু হতে যাচ্ছে। তাই আমি, আমাদের একসময় এই জেলার এসপি ছিলেন, অনেক আগে থেকে এসডিপিও ছিলেন কান্দির। তারপর এসপি ছিলেন। বর্তমানে তিনি ডেবরার তৃণমূল বিধায়ক। সেই হুমায়ুন কবীরকে আমি ব্যক্তিগতভাবে কল করে ১১ তারিখে এখানে থাকার জন্য আমন্ত্রণ করেছি। আসব বলে কথা দিয়েছেন। তিনি এলে আমার ভাল লাগবে।"