কলকাতা: পহেলগাঁও-কাণ্ডের পর পাকিস্তানের মুখোশ খুলে দিতে, দেশে দেশে ঘুরছেন ভারতের সংসদীয় দলের প্রতিনিধিরা। জাপান ঘুরে দক্ষিণ কোরিয়া পৌঁছেছেন তাঁরা। সেই দলেই রয়েছেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সিওলে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিনিধিদের সামনে সন্ত্রাসবাদের সমর্থনে পাকিস্তানের অবস্থান থেকে 'অপারেশন সিঁদুরে'র সাফল্যের কথা তুলে ধরলেন তিনি। এবার এক্স হ্যান্ডল পোস্টে ৫টি প্রশ্ন তুললেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক।  

তিনি লেখেন, 'পহেলগাঁও হামলার ৫৫ দিন অতিক্রান্ত। কী করে ৫ জন জঙ্গি সীমান্ত পেরিয়ে এসে ২৬ জন নিরপরাধ মানুষকে খুন করল? গোটাটাই গোয়েন্দা ব্যর্থতা, তারপরেও হামলার একমাসের মধ্যে কেন গোয়েন্দাপ্রধানের মেয়াদ বৃদ্ধি? যদি বিরোধী দলনেতাদের বিরুদ্ধে মোদি সরকার পেগাস্যাস সফটওয়ার ব্যবহার করতে পারে, তাহলে জঙ্গিদের ক্ষেত্রে কেন নয়? কোথায় আছে পহেলগাঁওয়ে হামলা চালানো জঙ্গিরা? তার কি মৃত না জীবিত? কেন এই নিয়ে নীরব সরকার? POK কবে দখল করবে ভারত?যুদ্ধবিরতি নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্টের দাবির উত্তর কবে আসবে? কেন ১৪০ কোটির আবেগ গুরুত্ব পাচ্ছে না?' ৩৩টি দেশে পহেলগাঁও হামলার পর গেল প্রতিনিধিদল। তাদের মধ্যে ক'টি দেশ পুরোপুরি ভারতের পাশে দাঁড়িয়েছে? পহেলগাঁওকাণ্ডের প্রেক্ষিতে মোদি সরকারের উদ্দেশে পরপর ৫টি প্রশ্ন অভিষেকের। 

তবে এই প্রথম নয়, পহেলগাঁওকাণ্ড নিয়ে সংসদের স্ট্যান্ডিং কমিটির বৈঠকেও প্রশ্ন তুলেছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সূত্রের খবর, বিদেশ সচিব বিক্রম মিস্রীকে তৃণমূল সাংসদ প্রশ্ন করেছিলেন, ৪ জন জঙ্গি কীভাবে ভারতে ঢুকেছিল? তারা বর্তমানে কোথায়? তারা কি ধরা পড়েছে? নাকি তাদের শনাক্ত করে হত্যা করা হয়েছে? 

বিদেশ সচিব তাঁকে জানান, এটা তাঁর মন্ত্রকের বিষয় নয়, নিরাপত্তা এবং সীমান্ত সংক্রান্ত বিষয় প্রতিরক্ষা এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অধীন। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দ্বিতীয় প্রশ্ন ছিল, আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সংঘর্ষবিরতি মন্তব্যে আপত্তি জানাতে ভারত কি তার কূটনৈতিক পদ্ধতি ব্যবহার করেছে? তৃণমূল সাংসদের এই প্রশ্নের সরাসরি কোনও উত্তর দেননি বিদেশ সচিব বিক্রম মিস্রী, এমনটাই ছিল সূত্রের খবর।