কলকাতা: সপ্তাহের শুরুতেই মেয়ো রোডে ধুন্ধুমার। গান্ধীমূর্তির পাদদেশে তৃণমূলের মঞ্চ খুলে দিল সেনা। ভিনরাজ্যে বাংলাভাষীদের হেনস্থার অভিযোগে 'তৃণমূলের ভাষা আন্দোলনের মঞ্চ' খোলা ঘিরে সোমবার দুপুরে তুলকালাম বাঁধল। ত্রিপল থেকে বাঁশের কাঠামো- ফ্লেক্স। একে একে খুলতে শুরু করে সেনাবাহিনী! তৈরি হয় নাটকীয় পরিস্থিতি! মঞ্চ খোলার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছন মমতা বন্দোপাধ্যায়। সেনাবাহিনীকে ডাফরিন রোডের দিকে যেতে দেখে আগেই গাড়ি থেকে নেমে পড়েন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, 'সেনাবাহিনী নয়, পিছনে কী আছে? ছুপা রুস্তম বিজেপি পার্টি আছে এবং তাঁদের সরকার আছে । আমি যখন এখানে আসছিলাম, আপনারা অনেকে ছবিও পেয়েছেন। প্রায় ২০০-র মতো সেনা, তাঁরা আমাকে দেখে ছুটে পালাচ্ছিল । আমি বললাম আপনারা পালিয়ে যাচ্ছেন কেন? আপনারা আমার বন্ধু। এটা আপনাদের দোষ নয়, আপনারা বিজেপির কথায় করেছেন । দিল্লির কথায় করেছেন।'
এদিকে, মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যের প্রেক্ষিতে মমতা বন্দোপাধ্যায়কে আক্রমণ করে শুভেন্দু অধিকারী সোশাল মিডিয়ায় লেখেন, 'ভারতীয় সেনাবাহিনীকে অপমান করার আপনার সাহস এক নতুন মাত্রায় নেমে এসেছে। আমরা জানতাম আপনি একজন দেশদ্রোহী, কিন্তু ময়দানে পৌঁছানোর পর ২০০ জন সাহসী সেনা পালিয়ে গেছে বলে দাবি, শুধুমাত্র আপনার বলা সবচেয়ে বড় মিথ্যে কথাই নয়, বরং আমাদের বাহিনীর সম্মান নষ্ট করার একটি ঘৃণ্য প্রচেষ্টা, যাদের সাহস এবং ত্যাগের তুলনা হয় না।'
পাল্টা তোপ দেগেছেন সুকান্ত মজুমদার। তিনি বলেন, 'মমতা বন্দোপাধ্যায়কে তো পাকিস্তানের নিয়ে যাওয়া উচিত। মমতা বন্দোপাধ্যায়কে দেখে যদি ২০০ ভারতীয় সেনা পালিয়ে যায় মমতা বন্দোপাধ্যায়ের এখানে অপব্যবহার হচ্ছে ওঁর পাকিস্তানে যাওয়া উচিত। আসিফ মুনিরের সঙ্গে সাহায্য করা উচিত ওঁনাকে। ভারতীয় সেনা কাউকে ভয় পায় না। ওঁর মতো লোককে তো ভয় পাওয়ার কোনও প্রশ্নই নেই।'
সেনাবাহিনীর তরফে বিবৃতি দিয়ে স্পষ্ট করে জানানো হয়, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে ময়দান চত্বরে দু'দিন কর্মসূচির জন্য অনুমতি দিয়েছিল সেনা। ৩ দিনের বেশি কর্মসূচির জন্য প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের থেকে অনুমতি নিতে হবে। কর্মসূচির জন্য ২ দিনের অনুমতি ছিল, কিন্তু প্রায় এক মাস মঞ্চ রেখে দেওয়া হয়, একাধিকবার মঞ্চ সরানোর কথা বলা হয় আয়োজকদের, কিন্তু সরানো হয়নি। এরপর কলকাতা পুলিশকে জানানো হয়েছিল সেনা মঞ্চ সরাচ্ছে।