সমীরণ পাল, উত্তর ২৪ পরগনা: ইরানে গিয়ে আটকে পড়েছেন দেগঙ্গার ৫ পরিবারের ১১ জন। চারিদিকে বোমা, মিসাইল, সাইরেনের শব্দ, খাবারে টান... শেষবার ফোন করে ভয়াবহ পরিস্থিতির কথা জানিয়েছিলেন পরিবারকে। তারপর থেকেই যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। পরিজনদের ফেরাতে এখন কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের দিকে তাকিয়ে দেগঙ্গার ৫ পরিবার। 

আরও পড়ুন, 'আমদাবাদে ভেঙে পড়া বিমানের কোনও যান্ত্রিক ত্রুটি ছিল না..', দাবি এবার এয়ার ইন্ডিয়ার CEO-র

ইরানে গিয়ে আটকে পড়েছেন পশ্চিমবাংলার  দেগঙ্গার ১১ জন!

সাহিনা খাতুন, ইরানে আটকে পড়া বাঙালি পর্যটকের মেয়ে ওখানে বোমা পড়ছে, গুলি। ইরান আর ইজরায়েলের মধ্যে যুদ্ধের ঝাঁঝ ক্রমেই বাড়ছে ড্রোন, মিসাইল, সাইরেন, হামলা, পাল্টা হামলা। পুরোদস্তুর যুদ্ধের আবহ। এই পরিস্থিতিতে ইরানে গিয়ে আটকে পড়েছেন পশ্চিমবাংলার  দেগঙ্গার ১১ জন! কেউ গিয়েছেন পড়াশোনা করতে। কেউ তীর্থস্থানে। ভিনদেশে গিয়ে যে এমন ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যে পড়তে হবে তা আঁচ করতে পারেননি কেউ। মুহূর্মুহূ মিসাইল, ড্রোনের হানা, কান ফাটা সাইরেনের শব্দ... বুক কাঁপিয়ে দেওয়ার পক্ষে যথেষ্ট। 

'ওরা প্রচণ্ড আতঙ্কিত আছে..'

 ইরানে আটকে পড়া বাঙালি পর্যটকের ছেলে  হোসেন মেহেদি বলেন,বলল যে চারিদিকে গুলির আওয়াজ, বোমার আওয়াজ, মিসাইলের...এসব আওয়াজ হচ্ছে। ওরা প্রচণ্ড আতঙ্কিত আছে। সঠিক টাইম মতো খাওয়াদাওয়া পাচ্ছেন না ওঁরা। বারবার করে কান্নাকাটি ওঁরা ওখান থেকে করছে, যাতে বাড়ি আসতে পারে, সরকারের কাছে আবেদন করছে। তার উপর পরিবারের সঙ্গেও কার্যত যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন!

'ওরা অসুস্থ, কাল কথা হয়েছিল, পশ্চিমবঙ্গের সরকারের কাছে আবেদন করছি ইরান থেকে যেন আমার বাবা-মা বাড়ি তাড়াতাড়ি ফিরে আসে..' 

দেগঙ্গার ঢালিপাড়ার ৫ জন পর্যটকের ফেরার কথা ছিল বুধবার। কিন্তু যুদ্ধ পরিস্থিতিতে সব থমকে গেছে। ইরানে আটকে পড়া বাঙালি পর্যটকের মেয়ে  সাহিনা খাতুন  বলেন, আমার বাবা-মা যেন তাড়াতাড়ি বাড়ি ফিরে আসে। ওরা অসুস্থ। কাল কথা হয়েছিল। আর কোনও কথা হয়নি। পশ্চিমবঙ্গের সরকারের কাছে আবেদন করছি যেন আমার বাবা-মা বাড়ি ফিরে আসে তাড়াতাড়ি। 

'তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে গিয়ে আটকে পড়েছেন ১৪০ জন কাশ্মীরি পড়ুয়া..' জম্মু-কাশ্মীর স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের তরফে জানানো হয়েছে, তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে গিয়ে আটকে পড়েছেন ১৪০ জন কাশ্মীরি পড়ুয়া। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাঁদের আপাতত গিলান প্রভিন্সে সুরক্ষিত জায়গায় সরিয়ে নিয়ে গেছে। তাঁদের দ্রুত দেশে ফেরাতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের কাছে আবেদন করেছে জম্মু-কাশ্মীর স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন।