কলকাতা: ওয়াকফ সংশোধনী আইন প্রত্যাহার-সহ একাধিক দাবিতে ISF-এর কর্মসূচি ঘিরে ধর্মতলায় তুলকালাম হয় বুধবার। ভাঙড়ের ISF বিধায়ক নৌশাদ সিদ্দিকি-সহ ৯৫ জনকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। ধৃতদের আজ ব্যাঙ্কশাল কোর্টে তোলা হয়। বৃহস্পতিবার সেখানেই নৌশাদ সিদ্দিকি-সহ জামিন পেলেন ৯৫ জন ISF নেতা-কর্মী।
ISF বিধায়ক-সহ ৯৫ জনের জামিনের আবেদন জানান নৌশাদের আইনজীবী। পাল্টা জামিনের বিরোধিতায় জেল হেফাজতের আবেদন জানান সরকারি আইনজীবী। নায্য দাবিতে আন্দোলন, জামিন চেয়ে সওয়াল নৌশাদের আইনজীবীর। দু'পক্ষের সওয়াল-জবাব শেষে জামিনের আবেদন মঞ্জুর। হেয়ার স্ট্রিট থানায় নৌশাদ-সহ ৮৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়। ISF-এর ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয় বউবাজার থানায়। একাধিক জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা রুজু করে পুলিশ। সবকটি মামলাতেই নৌশাদ-সহ ৯৫ জনের জামিন। ১০ নভেম্বর ব্যাঙ্কশাল কোর্টে মামলার পরবর্তী শুনানি।
ধৃতদের বিরুদ্ধে পুলিশের কাজে বাধা, পুলিশকে মারধর, সরকারি সম্পত্তি নষ্ট-সহ বেশ কয়েকটি জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা রুজু হয়েছিল। জামিনে ছাড়া পেয়ে নৌশাদ সিদ্দিকি বলেন, 'আমাদের আন্দোলন কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে। তৃণমূল সরকার তাঁদের পুলিশ দিয়ে আমাদের আন্দোলনকে ভূলুন্ঠিত করার চেষ্টা করছে। কোর্ট যা জিজ্ঞেস করেছে কিছু জবাব দিতে পারেনি। আমাদের নিরস্ত্র অবস্থায় গ্রেফতার করেছে। আমার মাদ্রাসা, মসজিদের জায়গা কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। আমরা সত্যিকারের এসটি, এসসি শ্রেণির। অথচ সেই সার্টিফিকেট দেওয়া হচ্ছে না। আমরা আতঙ্কিত যে আমাদের এসআইআর এর নামে ভোটার তালিকা থেকে বাদও দিতে পারে। ধর্নার মঞ্চে বসে কাঁদতে চাই। এই রাজ্য সরকার সেটাও করতে দেবে না। এর জবাব বাংলার মানুষ দেবে'।
এ প্রসঙ্গে কুণাল ঘোষ বলেন, 'যেখানে আন্দোলন করার কথা ছিল, নিশ্চয়ই সেভাবে করেনি। রাস্তাঘাট আঁটকে যানজট করলে সাধারণ মানুষের তো অসুবিধা হবে। তাই পুলিশকে সেই মতো ব্যবস্থা নিতে হয়েছে।'
ধৃতদের আইনজীবী ফিরদৌস শামিম বলেন, 'অগণতান্ত্রিক সরকার গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে থামাতে চেয়েছিল। নিঃশর্ত জামিন দিয়েছে আদালত। আদালতের রায় থেকেই স্পষ্ট গ্রেফতারির প্রয়োজন ছিল না।'