কলকাতা: এখনও ধোঁয়াশা কাটেনি কীভাবে মৃত্যু হল বছর একুশের মেয়েটার? কীভাবে মৃত্যু হল যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়া অনামিকা মণ্ডলের? জল্পনা বাড়াল বিশ্ববিদ্যালয়ের এক নিরাপত্তারক্ষীর বক্তব্য।

আরও পড়ুন, বেটিং অ্যাপ মামলায় দিল্লিতে ED দফতরে অঙকুশ হাজরা, কী বললেন অভিনেতার আইনজীবী ?

তাঁর দাবি, বৃহস্পতিবার রাতে একটি মেয়ে ছাত্রদের খবর দিতে আসে। যাকে তিনি চিনতেন না। নিরাপত্তারক্ষীর দাবি, অনামিকার জলে পড়ে যাওয়ার খবর পেয়ে তারা যখন ঘটনাস্থলে যান, তখন দেখেন, সেখানে আর অন্য কেউ ছিলেন না। এখানেই প্রশ্ন উঠছে, কে সেই মেয়ে? যিনি অনামিকাকে পড়ে যেতে দেখেন। তিনি কি অনামিকার সঙ্গেই ছিলেন? উঠছে প্রশ্ন। 

যাদবপুরে পড়ুয়া মৃত্যুর ঘটনায় আগেই খুনের অভিযোগ দায়ের করেছিল মৃত অনামিকা মণ্ডলের পরিবার। আর এবার সেই তদন্তের নিরিখে মঙ্গলবার যাদবপুরের ক্যাম্পাসে এল লালবাজারের গোয়েন্দা বিভাগ। ঘটনাস্থলে পরিদর্শন করেন খোদ কলকাতা পুলিশের অপরাধ বিভাগের যুগ্ম কমিশনার রূপেশ কুমার। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি অনার্সের তৃতীয় বর্ষের পড়ুয়া অনামিকা মণ্ডলের, মৃত্যু কি দুর্ঘটনা? নাকি খুন? ছাত্রী মৃত্যুর পর ৪ দিন কেটে গেলেও তা এখনও স্পষ্ট নয়।মেয়ের মৃত্য়ুর ঘটনায় সোমবারই খুনের মামলা করেছে পরিবার। মঙ্গলবার তার তদন্তে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে গেল লালবাজারের গোয়েন্দা বিভাগ। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করলেন কলকাতা পুলিশের অপরাধ বিভাগের যুগ্ম কমিশনার রূপেশ কুমার। ক্যাম্পাসের একাধিক এলাকা ঘুরে দেখেন ডিসি SSD বিদিশা কলিতা। বৃহস্পতিবার রাতে,যাদবপুর ক্যাম্পাসের ঝিল থেকে উদ্ধার হয় তৃতীয় বর্ষের পড়ুয়া অনামিকা মণ্ডলের অচৈতন্য দেহ।মৃত্যুর আগে, গোটা দিন জুড়ে কাদের কাদের সঙ্গে দেখা হয়েছিল ছাত্রীর? ইউনিয়ন রুম ও ঝিলের মাঝের গলিতে কি একাই গেছিলেন অনামিকা? নাকি তাঁর সঙ্গে অন্য কেউ গেছিলেন? আপাতত সেই বিষয়টি খতিয়ে দেখছে কলকাতা পুলিশের হোমিসাইড শাখা।SFI রাজ্য সম্পাদক দেবাঞ্জন দে বলেন, যাদবপুরের ঘটনা প্রথম বর্ষের, একটা আতঙ্ক তৈরি হল। এরকম একটা মেয়ে মারা গেলে, দ্রুত তদন্ত করুন, কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে কেন হল। কর্তৃপক্ষকে দ্রুত একজনকে উপাচার্য করুন, দীর্ঘ পরিকাঠামোর উন্নতি করতে হবে।চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল, প্রতিষ্ঠান এক নম্বর হলেও, পরিকাঠামোর অভাব। ইতিমধ্যেই, একাধিক পড়ুয়ার বয়ান রেকর্ড করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।

অন্যদিকে, মৃত পড়ুয়ার পরিবারের দাবি, বৃহস্পতিবার রাতে, হোয়াটসঅ্য়াপের ফ্যামিলি গ্রুপেসন্ধে ৭ টা ২২ মিনিটে অনুষ্ঠানের ছবি পাঠিয়েছিলেন তৃতীয় বর্ষের পড়ুয়া অনামিকা।রাত ৮টা ৫৬ ও রাত ৯টা ১মিনিটে অনুষ্ঠানের দু'টি ভিডিও পাঠান তিনি।রাত ৯টা ৮ মিনিটে মায়ের সঙ্গেও কথা হয় তাঁর।সম্প্রতি মৃত অনামিকা মণ্ডলের বাবা বলেন, মাকে ভিডিও পাঠাচ্ছিল। ৯টা ৮-এ মায়ের সঙ্গে কথা হল। বলল আরও ভিডিও পাঠাচ্ছি। মা বলল আর পাঠাতে হবে না। এবার বেরিয়ে আয়। বলল সাড়ে ৯টায় বেরিয়ে যাব। এখানেই প্রশ্ন উঠছে, ওই রাতে বাবা-মা ছাড়া আর কার কার সঙ্গে ফোনে কথা হয় অনামিকার? যাদবপুরের ছাত্রী মৃত্যুর ঘটনায় ময়না তদন্তের রিপোর্টে জানা গেছে,জলে ডুবে মৃত্যু হয়েছে অনামিকা মণ্ডলের।  মৃতের পরিবারের দাবি, সাঁতারই জানতেন না অনামিকা। মৃত অনামিকা মণ্ডলের বাবা অর্ণব মণ্ডল বলেন, ও অ্যাকচুয়ালি সাঁতার জানত না। দেখলাম, ওর কনুইয়ের এখানে আর এখানে ছোলা। মানে পড়ে গিয়ে কেটে গেলে যে অবস্থা হয়, ঠিক সেই রকম। ফলে প্রশ্ন উঠছে, অনামিকার সাঁতার না জানার কথা কারা জানতেন? অনামিকা সাঁতার জানতেন না, তা জেনেই কি পুকুরের দিকে ডেকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল? মৃতদেহ উদ্ধার করার সময়ে, ঘটনাস্থলে আর কারা উপস্থিত ছিল? কেপিসি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করার সময়ই বা পাশে ছিলেন কারা?

কলকাতা পুলিশের নজর থেকে এড়িয়ে যাচ্ছে না এই বিষয়টিও।তবে ছাত্রী মৃত্যু নিয়ে রাজনীতি চলছেই। বিরোধী দলনেতা  শুভেন্দু অধিকারী বলেন, এসব চাপা পড়ে যাবে। রানাঘাটের ছেলেটার কী হয়েছে? বিজেপিকে আনতে হবে পশ্চিমবঙ্গে। যদি যাদবপুরকে মূল স্রোতে ফেরাতে হয় এবং যাদবপুরের হৃত গৌরব ফিরিয়ে আনতে হয়। প্রচণ্ড আবর্জনা হয়েছে এবং সেই আবর্জনাটা বিষাক্ত। বিষাক্ত আবর্জনাকে পরিষ্কার একমাত্র বিজেপি করতে পারে।'ছাত্রী মৃত্যুর সঠিক কারণ কী?তাঁর বাবা-মার পাশাপাশি, সেটা জানতে চান সহপাঠীরাও।