ঋত্বিক প্রধান, কলকাতা: সোমবার সন্ধে। সবকিছু স্বাভাবিক ছিল কয়েক মুহূর্ত আগেই, আর পাঁচটা দিনের মতো। রাস্তায় লোকজনের ভিড়, অল্পবিস্তর যানজট.. সব মিলিয়ে ছবিটা একেবারেই একরকম ছিল। তবে মুুহূর্তের বিস্ফোরণে বদলে গেল সবটা, চারিদিকে আর্তনাদ, হাহাকার। ২৬/১১-র স্মতি উস্কে, দিল্লিতে ১০/১১। বোমা বিস্ফোরণ। ছিন্নভিন্ন হয়ে ছড়িয়ে পড়ল সাধারণ নাগরিকদের দেহ, মূহুর্তে শেষ অনেকগুলো প্রাণ। বিস্ফোরণের অভিঘাত এতটাই ভয়াবহ ছিল যে, ৩ দিন পরেও আশেপাশের বাড়ির চাল থেকে উদ্ধার হচ্ছে মানুষের দেহাংশ।
কেন এই বিস্ফোরণ হল? এই বিস্ফোরণ কী পরিকল্পিত নাকি ধরা পড়ে যাওয়ার ভয়ে বিস্ফোরক ভর্তি গাড়ি জনবহুল জায়গায় নিয়ে গিয়ে বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে? গোটা বিষয়টা নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা রয়েছে। যা যা তথ্য উঠে আসছে, তার কোনোটাতেই সিলমোহর পড়েনি এখনও। ঘটনার তদন্ত চালাচ্ছে দেশের একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা। অন্যদিকে, দিল্লি বিস্ফোরণকাণ্ডে আটক করা হয়েছে আরও ১ জনকে। ধৃতের নাম দীনেশ সিংলা ওরফে ডাব্বু শিকারাইয়া। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে পুলিশ ও তদন্তকারী এজেন্সিগুলি। হরিয়ানার নুহ থেকে আটক করা হয় এই সন্দেহভাজনকে। 'নুহ থেকে প্রায় ৩ লক্ষ টাকার সার কেনা হয়েছিল। মুজাম্মিল ও তার সহযোগীরা ৩ লক্ষ টাকার সার কিনেছিল, দাবি তদন্তকারীদের।
আর দেশের এই পরিস্থিতির আঁচ এসে পড়ল পশ্চিমবঙ্গেও। বিস্ফোরণের দিন কলকাতায় জারি হয়েছিল হাই এলার্ট। এরপরে, নজরদারি বাড়ল দিঘার জগন্নাথ মন্দিরে। পাশাপাশি একাধিক পর্যটন কেন্দ্রগুলি, যেখানে সাধারণত জনসমাগম হয়, সেই সমস্ত জায়গাতেও বাড়ানো হয়েছে নজরদারি। দিঘা লাগোয়া ওড়িশা বর্ডার এলাকায় নাকা চেকিংয়ের পাশাপাশি দিঘা জগন্নাথ মন্দিরের নিরাপত্তার বিষয়ে একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে জেলা পুলিশ। বুধবার সন্ধ্যায় দিঘা জগন্নাথ মন্দিরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখেন এসপি শুভেন্দ কুমার। মন্দিরে সিসি ক্যামেরার নজরদারির পাশাপাশি মন্দিরে প্রবেশের মেন গেটে ও ৬নম্বর গেটে বসানো হয়েছে এক্সরে ব্যাগেজ স্ক্যানার। তাছাড়া মেটাল ডিটেক্টর ও স্ক্যানার বসানো হয়েছে প্রত্যেকটি গেটে।
তবে শুধুমাত্র দিঘার জগন্নাথ মন্দির নয়, সেই সঙ্গে দিঘা, মন্দারমনি, তাজপুর, শংকরপুর সহ সমুদ্র উপকূলবর্তী পর্যটনকেন্দ্রগুলিতে বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তা। খতিয়ে দেখা হচ্ছে হোটেলে আসা পর্যটকদের কাগজপত্র। জেলা জুড়ে নাকা চেকিং ও পুলিশি নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। এই সময়ে বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে সাধারণত ভিড় জমান মানুষ। সেই ভিড়ের সুযোগ নিয়ে কেউ যাতে কোনওরকম বিস্ফোরণের ছক না কষতে পারে, সেই কারণেই এই নিরাপত্তা।