সন্দীপ সমাদ্দার, ঝালদা (পুরুলিয়া) : তৃণমূল (TMC) পরিচালিত ঝালদা পুরসভায় (Jhalda Municipality) অনাস্থা আনলেন কংগ্রেস ও নির্দল কাউন্সিলররা। ঝালদারই কংগ্রেস কাউন্সিলর তপন কান্দু খুনে (Tapan Kandu Murder) চরমে উঠেছিল তৃণমূল ও কংগ্রেসের চাপানউতোর। বৃহস্পতিবার, পুরপ্রধানের বিরুদ্ধে অনাস্থাপত্র জমা দেন তপন কান্দুর ভাইপো মিঠুন কান্দু।
ফের ডামাডোল পুরুলিয়ার ঝালদা পুরসভায়। অনুন্নয়নের অভিযোগ তুলে তৃণমূল পরিচালিত পুরসভায় অনাস্থা প্রস্তাব আনলেন কংগ্রেস ও নির্দল কাউন্সিলররা। বৃহস্পতিবার, মহকুমাশাসক ও জেলাশাসকের দফতরে পুরপ্রধান সুরেশ আগরওয়ালের বিরুদ্ধে অনাস্থাপত্র জমা দেন ৫ কংগ্রেস কাউন্সিলর ও এক জন নির্দল কাউন্সিলর।
তপন কান্দু-খুনে চরমে ওঠে দ্বন্দ্ব-
ঝালদা পুরসভায় ১২টি আসন। কংগ্রেস ও তৃণমূল দুই দলই দখল করে ৫টি করে আসন। নির্দল প্রার্থীদের দখলে যায় ২ আসন। বোর্ড গঠন নিয়ে তৃণমূল-কংগ্রেস দ্বৈরথের মধ্যে গত ১৩ মার্চ খুন হন কংগ্রেসের জয়ী প্রার্থী তপন কান্দু। সেনিয়ে চরমে ওঠে দুদলের দ্বন্দ্ব।
উপনির্বাচনে কংগ্রেস ওই আসন ধরে রাখলেও, ১ নির্দল প্রার্থীকে সঙ্গে নিয়ে বোর্ড গঠন করে তৃণমূল। শাসকদল পরিচালিত সেই ঝালদা পুরসভাতেই এবার অনাস্থা প্রস্তাব আনল কংগ্রেস।
প্রসঙ্গত, ঝালদায় (Purulia News) গত পৌরসভা নির্বাচনে (Municipal Election) তপন কান্দুর বিরুদ্ধে তৃণমূল প্রার্থী ছিলেন তাঁরই ভাইপো দীপক কান্দু। পৌর নির্বাচনে ভাইপোকে হারিয়ে জয়ী হন কাকা তপন। এরপর গত ১৩ মার্চ, বোর্ড গঠনের আগে দুষ্কৃতীদের গুলিতে খুন হয়ে যান তিনি।
তদন্ত শুরু হলে একে একে গ্রেফতার হন দীপক, তাঁর বাবা নরেন কান্দু, ঝালদার ধূপ ব্যবসায়ী আশিক খান, হোটেল মালিক সত্যবান প্রামাণিক এবং ভাড়াটে খুনি যোগসূত্রে অভিযুক্ত কলেবর সিংহ। পরে ‘ভাড়াটে খুনি’ জাবিরের নাগাল পায় সিবিআই।
ঝালদায় পৌরবোর্ড দখল করতে, তপন কান্দুকে, তৃণমূল খুন করিয়েছে বলে শুরু থেকে অভিযোগ করে আসছে নিহতের পরিবার। তপনকে তৃণমূলে যোগ দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছিল, এমন অভিযোগও ওঠে। তাতে নাম জড়ায় ঝালদা থানার আইসি সঞ্জীব ঘোষের। ভাইরাল হয় একাধিক অডিও ক্লিপও।
এদিকে তপন খুন হওয়ার পর, তাঁর ২ নম্বর ওয়ার্ডে জয়লাভ করেন তাঁর আর এক ভাইপো মিঠুন কান্দু। ব্যবধান ৬ গুণ বাড়িয়ে ৭৭৮ ভোটে জয়ী হন তিনি। তা নিয়ে তপনের স্ত্রী পূর্ণিমা বলেন, "এই জয় আমার স্বামীর রক্তের জয়, ঝালদার মানুষের জয়। ২ নম্বর ওয়ার্ডের মানুষ মিঠুনকে প্রার্থী করেছিলেন, আমিও চেয়েছিলাম পরিবার থেকেই প্রার্থী হোক। তৃণমূলের নেতারা চাননি যে, আমার স্বামী চেয়ারম্যানের আসনে বসুক। এই ওয়ার্ডের মানুষ তাদের ভালভাবে জবাব দিয়েছেন।"
আরও পড়ুন ; তপন কান্দু খুনে পাকড়াও ‘ভাড়াটে খুনি’, ঝাড়খণ্ডে আটক করল সিবিআই