কলকাতা: গাঁধীমূর্তির পাদদেশে, ২০১৬-র SLST নবম থেকে দ্বাদশের চাকরিপ্রার্থীদের (Job Seekers Agitation) অবস্থান-আন্দোলন আজ ২ বছরে পা দিল। কিন্তু কবে কাটবে অনিশ্চয়তা? কবে হবে যোগ্য়দের নিয়োগ? মেলেনি উত্তর। এদিন তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ হিসেবে, রক্তদান শিবিরের আয়োজন করেন আন্দোলনরত চাকরিপ্রার্থীরা।

অবস্থান-আন্দোলন আজ ২ বছরে পা দিল: নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় কলকাতা হাইকোর্টের (Calcutta High Court) নির্দেশে চাকরি যাচ্ছে অযোগ্য়দের। অথচ চাকরি যাওয়ার বিরোধিতা করছেন মুখ্য়মন্ত্রী। আর এই অবস্থাতেই যোগ্য়দের প্রশ্ন, মুখ্য়মন্ত্রী অযোগ্য়দের জন্য় আবেগপ্রবণ হলেও, তাঁদের জন্য় কেন হচ্ছেন না? হাত শিকল, সামনে পড়ে রয়েছে প্রতীকী চক, ডাস্টার, ব্ল্যাকবোর্ড। ধর্নামঞ্চে ঝুলছে সার দেওয়া শুকনো রুটি। প্রত্যেকের বুকে প্ল্য়াকার্ড। সেখানে লেখা চাকরি চাই, অন্ন চাই, বাঁচতে চাই। গাঁধী মূর্তির পাদদেশে, ২০১৬-র SLST নবম থেকে দ্বাদশের চাকরিপ্রার্থীদের অবস্থান আন্দোলন। মঙ্গলবারই ২ বছরে পড়ল। ২ বছর... অর্থাৎ ৭৩০ দিন। রোদ, ঝড়, জল সবই কেটেছে খোলা আকাশের নিচে। উৎসবে সবাই যখন পরিবারের সঙ্গে আনন্দে মেতেছে। তখন রাস্তায় বসে, দুচোখে জল নিয়ে তা দেখতে হয়েছে এই চাকরিপ্রার্থীদের। তবে কোনও কিছুই তাদের আন্দোলন বিমুখ করতে পারেনি। ২ বছরেও অবসান হয়নি উত্‍কণ্ঠার। দূর হয়নি অনিশ্চয়তা।

এক চাকরিপ্রার্থী বলেন, “শুধু দুর্নীতি করা হয়নি। যোগ্য়দের বঞ্চনা করা হয়েছে। OMR - এ ০ টা যেমন ৫৫ হয়েছে। ৫৫ পেয়েছে যে, তাঁর নম্বর ৫ করা হয়েছে। এর বিরুদ্ধে আমাদের লড়াই। যোগ্য়দের নিয়োগ দিন।’’ মঙ্গলবার দুবছর পেরনোর দিনে, তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ হিসেবে, রক্তদান শিবিরের আযোজন করেন আন্দোলনরত চাকরিপ্রার্থীরা। আরেক চাকরিপ্রার্থীর কথায়, “চাকরি দেওয়ার ব্যাপারে মুখ্যমন্ত্রী দায়বদ্ধতা না দেখালেও, হবু শিক্ষক হিসেবে তাঁরা সমাজের প্রতি দায়বদ্ধ। তাই গরমে রক্তসঙ্কটের কথা ভেবে এই রক্তদান শিবিরের আয়োজন করা হয়েছে।’’ এদিকে, নিয়োগের দাবিতে আন্দোলনরত, ssc-র শারীরশিক্ষা ও কর্মশিক্ষা চাকরিপ্রার্থীদের সংগঠন, যুব ছাত্র অধিকার মঞ্চকে শহিদ মিনার চত্বরে অবস্থানের অনুমতি দিল হাইকোর্ট। বৃহস্পতিবার থেকে অবস্থানের অনুমতি দিয়েছেন বিচারপতি রাজাশেখর মান্থা।                                                                 

আরও পড়ুন: Adenovirus: অ্যাডিনো উপসর্গ নিয়ে কত শিশু ভর্তি? তথ্য তলব স্বাস্থ্য কমিশনের