কলকাতা: অ্যাডিনো-আতঙ্কের মধ্যেই বি সি রায় হাসপাতালে বাড়ছে শিশু মৃত্যু। গতকাল উত্তর ২৪ পরগনার ২ শিশুর মৃত্যু হল। অ্যাকিউট রেসপিরেটরি ইলনেসে মৃত্যু বলে ডেথ সার্টিফিকেটে উল্লেখ করা হয়েছে। ১ জানুয়ারি থেকে ১৫ মার্চ পর্যন্ত অ্যাডিনো উপসর্গ নিয়ে কত জন শিশু বেসরকারি হাসপাতালগুলিতে ভর্তি হয়েছে, তার তথ্য চাইল স্বাস্থ্য কমিশন।

অ্যাডিনো উদ্বেগ রাজ্যে:  দিনে দিনে ভয়ঙ্কর রূপ নিচ্ছে অ্যাডিনো ভাইরাস (Adenovirus)। বিসি রায় শিশু হাসপাতালে মৃত্যু হল আরও ২ শিশুর। সোমবার বিসি রায় হাসপাতালে উত্তর ২৪ পরগনার কদম্বগাছির দেড়বছরের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।তাকে জ্বর, সর্দি, কাশি, শ্বাসকষ্ট নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বিসি রায় শিশু হাসপাতালেই হাড়োয়ার বাসিন্দা ২ বছর ২ মাসের আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তাকেও জ্বর, শ্বাসকষ্ট নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। দুজনেরই ডেথ সার্টিফিকেটে অ্যাকিউট রেসপিরেটরি ইলনেসে মৃত্যু বলে উল্লেখ করা হয়েছে। বেসরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই নিয়ে ২ মাসে রাজ্যে মৃত্যু হল ১৫০ জন শিশুর। অ্যাডিনো আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে ফের ভর্তি হওয়ার প্রবণ তা উদ্বেগের আছে চিকিৎসকদের দ্বিতীয়বার যে শিশুরা ভর্তি হচ্ছে তাদের ক্ষেত্রে শারীরিক অবস্থা আরও বেশি সংকট জনক হচ্ছে। বেসরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকদের সঙ্গে স্বাস্থ্য দফতর ও IMA-এর রাজ্য শাখার তরফে এদিন ভার্চুয়ালি বৈঠক হয়। চলতি বছরে ১৫ মার্চ পর্যন্ত অ্যাডিনো উপসর্গ নিয়ে কত জন শিশু বেসরকারি হাসপাতালগুলিতে ভর্তি হয়েছে, তার তথ্য চেয়েছে স্বাস্থ্য কমিশন। স্বাস্থ্য কমিশনের চেয়ারম্যান অসীমকুমার বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “জানুয়ারি ১ থেকে ১৫ মার্চ কত শিশু বয়স্ক অ্যাডিনো নিয়ে ভর্তি হয়েছে। কত মৃত্যু হয়েছে। তার তথ্য ৭দিনের মধ্যে দিতে হবে। picu না থকালে তৈরি করতে হবে।’’ সূত্রের খবর, অ্য়াডিনো ভাইরাস আক্রান্তদের চিকিৎসায় পরীক্ষামূলক ওষুধ প্রয়োগ করা যায় কিনা, তা নিয়ে চিন্তাভাবনা শুরু করেছে স্বাস্থ্য দফতর।

'বেলাগাম' বিলে রাশ টানতে চায় রাজ্য: এদিকে বেসরকারি হাসপাতালগুলির একাংশের বিরুদ্ধে বিল নিয়ে অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এবার বেসরকারি হাসপাতাল ও নার্সিংহোমে চিকিৎসা পরিষেবার বিলে রাশ টানতে চায় রাজ্য সরকার। বেসরকারি হাসপাতালগুলি ইন্ডোর ও আউটডোরে চিকিৎসা এবং রোগ নির্ণয়ের ক্ষেত্রে নিজেদের মতো করে দর হাঁকে। এই অভিযোগও ওঠে প্রায়শই। স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে খবর, ইন্ডোর, আউটডোর থেকে শুরু করে রক্ত পরীক্ষা, রোগ নির্ণয় চিকিৎসা সংক্রান্ত সমস্ত ক্ষেত্রেই খরচ বেঁধে দেওয়া হবে।

পরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়িত করতে নবান্নের নির্দেশে ২ মার্চ গঠন করা হয়েছে একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটি। কমিটিতে রয়েছেন, স্বাস্থ্য অধিকর্তা সিদ্ধার্থ নিয়োগী স্বাস্থ্যশিক্ষা অধিকর্তা দেবাশিস ভট্টাচার্য, চিকিৎসক সুকুমার মুখোপাধ্যায় , SSKM-এর ডিরেক্টর মণিময় বন্দ্যোপাধ্যায়, চিকিৎসক অভিজিৎ চৌধুরী, গোপালকৃষ্ণ ঢালি এবং বেসরকারি হাসপাতালগুলির সংগঠন এবং নার্সিংহোমগুলির সংগঠনের প্রতিনিধি। সূত্রের খবর, নবান্নের তরফে স্বাস্থ্য কমিশনের সচিবকে দ্রুত কমিটির বৈঠক ডাকতে বলা হয়েছে।

আরও পড়ুন: Manik Bhattacharya: এমন অর্ডার দিন, রাতে ঘুমোলে সকালে যেন চোখ না খোলে: মানিক ভট্টাচার্য