কলকাতা: রাজ্যে নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত নার্স। নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত কাটোয়ার নার্স। নমুনা পরীক্ষার রিপোর্টে নিপা পজিটিভ। আক্রান্ত নার্সের অবস্থা সঙ্কটজনক, ভেন্টিলেশনে রয়েছেন। পূর্ব মেদিনীপুরের এক নার্সও নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত বলে সন্দেহ। পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে নমুনা। বারাসাতের নারায়না হাসপাতালে ভর্তি ২ নার্স। অসুস্থ ২ নার্সের সংস্পর্শে আসা ৫০ জনের নমুনা সংগ্রহ। ২ নার্সের সংস্পর্শে আসা প্রত্যেককেই আইসোলেশনে থাকার নির্দেশ। 

Continues below advertisement

এদিকে, রাজ্যে ফের নিপা ভাইরাসের আতঙ্ক, মুখ্যমন্ত্রীকে ফোন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর। 'মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ফোনে কথা, যাবতীয় সাহায্য করবে কেন্দ্রীয় সরকার। আক্রান্ত সন্দেহে ২জনের খবর পাওয়ার পরেই মুখ্যসচিবের সঙ্গে যোগাযোগ', নিপা ভাইরাস নিয়ে যাবতীয় সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে জানালেন জেপি নাড্ডা। 

কাটোয়ায় নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত নার্স কার কার সংস্পর্শে এসেছিলেন, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে বিশেষ টিম গঠন স্বাস্থ্য দফতরের। আক্রান্ত নার্সের সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। তালিকাভুক্তদের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিচ্ছেন পূর্ব বর্ধমানের মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক। ইতিমধ্যেই কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালের চারজনকে চিহ্নিত করা রয়েছে। প্রত্যেককেই ২৪ তারিখ পর্যন্ত হোম কোয়ারেন্টিনে থাকার নির্দেশ। 

Continues below advertisement

নিপা ভাইরাস একটি Zoonotic Disease এবং এর মৃত্যুর হার অনেক বেশি ও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে—পরিস্থিতিটিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে মোকাবিলা করা হচ্ছে। ভারত সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিব পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে এবং দ্রুত ও সমন্বিত পদক্ষেপ নিশ্চিত করতে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মুখ্য সচিব এবং প্রধান সচিব (স্বাস্থ্য)-এর সঙ্গে আলোচনা করেছেন।

মৃত্যুহার অন্যান্য অনেক ভাইরাসের চেয়ে অনেকটাই বেশি। কয়েকদিনের মধ্যেই আক্রান্ত ব্যক্তিকে কোমায় পাঠিয়ে দিতে পারে এই ভাইরাস। রয়েছে একাধিক উপসর্গ। প্রাণী থেকে মানুষ, এবং 'হিউম্যান টু হিউম্যান'-ও ছড়াতে পারে এই ভাইরাস। জ্বর, মাথাব্যথা ও বমি প্রাথমিক লক্ষণ হলেও গুরুতর অবস্থায় চলে গেলে হতে পারে বিভ্রান্তি ও শ্বাসকষ্ট।                              

নিপা ভাইরাস থেকে বাঁচতে কী কী করা উচিত? চিকিৎসকরা বলছেন, শুয়োর পালন ও শুয়োরের মাংস খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। যে কোনও ফল ভাল করে ধুয়ে খেতে হবে। একই সঙ্গে N-95 মাস্ক ব্যবহার করার কথা বলছেন বিশেষজ্ঞরা। বাইরের খাবার থেকে যতটা সম্ভব বিরত থাকতে হবে।