সন্দীপ সরকার, কলকাতা: আর জি কর আন্দোলনের অন্যতম তিন মুখকে একদিনে বদলি করা হল। আর এই বদলি ঘিরে শুরু হল বিতর্ক (Doctor Transfer Controversy)। ব্যাখ্যা চেয়ে স্বাস্থ্যভবনে হাজির হয়েছে জুনিয়র ডক্টর্স ফ্রন্ট। নেপথ্যে প্রতিহিংসা বলে অভিযোগ চিকিৎসকদের। 

 

প্রতিহিংসার অভিযোগে সরব চিকিৎসকরা: আর জি কর আন্দোলনের অন্যতম মুখ তিন জুনিয়র চিকিৎসক। দেবাশিস হালদারকে হাওড়া জেলা হাসপাতাল থেকে মালদার গাজোলে বদলি করা হয়েছে। কাউন্সেলিংয়ে চিকিৎসক দেবাশিস হালদার, সিনিয়র রেসিডেন্ট হিসেবে হাওড়া জেলা হাসপাতালকে বেছে নিয়েছিলেন। হাওড়া জেলা হাসপাতালে তাঁর যোগ দেওয়ার অর্ডারও বেরিয়ে যায়। কিন্তু জয়েনিং অর্ডারে দেখা যায়, হাওড়া জেলা হাসপাতালের পরিবর্তে তা হয়ে গিয়েছে মালদার গাজলের মহকুমা হাসপাতাল। জুনিয়র চিকিৎসকদের অভিযোগ, অভয়ার ন্যায়বিচারের দাবিতে আন্দোলনে যুক্ত থাকার কারণে প্রতিহিংসামূলকভাবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

যে ৬৭৮ জনের তালিকা বেরিয়েছে, প্রাথমিকভাবে দেখা যায় এঁদের মধ্যে একমাত্র দেবাশিস হালদার তাঁরই পোস্টিংয়ের জায়গা বদল হয়েছে। চিকিৎসক দেবাশিস হালদারের অভিযোগ, এর নেপথ্যে রয়েছে প্রতিহিংসা। দেবাশিসের পর বদলি করা হয়েছে আসফাকুল্লা ও অনিকেত মাহাতোকেও। অনিকেত মাহাতোকে রায়গঞ্জ ও আসফাকুল্লাকে পুরুলিয়ায় বদলি করা হয়েছে। কী কারণে এটা হল তার ব্যাখ্যা চাইতে এদিন স্বাস্থ্যভবনে হাজির হয় জুনিয়র ডক্টর্স ফ্রন্ট। জুনিয়র ডক্টর্স ফ্রন্টের দাবি, এই সিদ্ধান্ত প্রতিহিংসামূলক। এই সিদ্ধান্ত বদল করা না হলে তাঁরা আইনের দ্বারস্থ হবেন। এই ধরনের ঘটনার কোনও নজির নেই। 

আর জি কর আন্দোলনে সামনে সারিতে যে তিন তরুণ চিকিৎসকের নাম সামনের সারিতে উঠে এসেছিল। ৯ মাসের ব্য়বধানে সেই তিন জুনিয়র চিকিৎসকের বদলি অর্ডার ঘিরে বিতর্ক তুঙ্গে উঠেছে। অনিকেত মাহাতোর ফাস্ট ইয়ার সিনিয়র রেসিডেন্ট হিসেবে নাম ছিল আর জি কর মেডিক্য়াল কলেজে। পোস্টিং অর্ডারে সেই জায়গা বদলে হয়েছে রায়গঞ্জ মেডিক্য়াল কলেজ। আসফাকুল্লা নাইয়ার ক্ষেত্রেও আরামবাগ মেডিক্য়াল কলেজ বদলে হয়েছে পুরুলিয়ার দেবেন মাহাতো হাসপাতাল। এদিন আসফাকুল্লা নাইয়া বলেন, কোন কারণে, কোন ক্ষমতাবলে সরকার চাইলেই সবকিছু করতে পারে এই ঔদ্ধত্য়ের বিরুদ্ধে আমাদের আন্দোলন।''পোস্টিং অর্ডার সামনে আসতেই এর ব্য়াখা চাইতে স্বাস্থ্যভবনে হাজির হয় জুনিয়র ডক্টর্স ফ্রন্ট। স্বাস্থ্যসচিব নারায়ণ স্বরূপ নিগমের সঙ্গে দেখা করতে চাইলেও দেখা হয়নি তাঁদের। স্বাস্থ্যসচিবের ঘরের বাইরে বিক্ষোভে বসেন জুনিয়র ডক্টর্স ফ্রন্ট। বিতর্ক দানা বাঁধতেই স্বাস্থ্য সচিব নারায়ণস্বরূপ নিগম জানিয়েছেন, লিস্ট বেরিয়েছে, বিভিন্ন সিনিয়র রেসিডেন্টকে পোস্টিং দেওয়া হয়েছে। কারও অভিযোগ থাকলে লিখিত ভাবে জানাতে পারেন। এর মধ্য়ে অন্য কোনও বিষয় নেই।