অর্ণব মুখোপাধ্যায়, কলকাতা : কলকাতা পুরসভা থেকে সাসপেন্ড কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়। পুরসভার এমপি ল্যাড বিভাগের আধিকারিক পদ থেকে সাসপেন্ড করা হয়েছে তাঁকে। তারাতলাকাণ্ডে নাম জড়িয়েছে কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের। এবার সেই কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে সাসপেন্ড করলেন পুর কমিশনার স্মিতা পাণ্ডে। আগেই গ্রেফতার হয়েছেন তিনি। কালীচরণকে সঙ্গে নিয়ে তাঁর হাওড়ার বাড়িতে এসআইটি ইতিমধ্যেই তল্লাশি অভিযানও চালিয়েছে।
তারাতলার গোডাউন-বিপর্যয়ে কালীচরণ আপাতত পুলিশ হেফাজতে। আর এই 'কালী'-র ছিটে গিয়ে লেগেছে কলকাতার প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমের গায়ে। কলকাতা পুরসভা সূত্রে খবর, ফিরহাদ হাকিম মেয়র হওয়ার পর OSD হিসেবে তাঁর কাজ সামলাতেন কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর হাতে ছিল প্রচুর ক্ষমতা। মেয়রের কাছে পৌঁছতে গেলে 'কালীবাবু' হয়েই যেতে হত সবাইকে। এই আবহে কালীচরণের গ্রেফতারির সূত্র ধরে, প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন পুর ও নগরোন্নয়নমন্ত্রী।
DJ মামলায় আগামী ৮ তারিখ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কণ্ঠস্বরের নমুনা পরীক্ষা
চাকরি ছেড়ে তিনি ফিরহাদ হাকিমের OSD হয়েছিলেন। তাঁকে যদি ধরা হয়, তাহলে যিনি প্রাক্তন মন্ত্রী, যাঁর সই ছিল, তাঁকে কেন ধরা হবে না? কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের গ্রেফতারির সূত্র ধরে, প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমের বিরুদ্ধে সরব হলেন পুর ও নগরোন্নয়নমন্ত্রী। পুরসভার কালীর প্রতি প্রেম এবং আস্থা প্রবল। আমি বলেছিলাম, কান টানলে মাথা আসে- মন্তব্য কুণাল ঘোষের। তারাতলায় গোডাউন-বিপর্যয়ের পর, বৃহস্পতিবার বিধানসভায় মুখ্য়মন্ত্রীর বক্তব্য়ে উঠে আসে কালী-র নাম।
২০২৪ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর ফিরহাদ হাকিমের তৎকালীন OSD কালীচরণ বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের বিরুদ্ধে শেক্সপিয়ার সরণি থানায় অভিযোগ দায়ের হয়। অভিযোগ করেছিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের অফিসের এক কর্মী। তাঁর অভিযোগ ছিল ফিরহাদ হাকিমের OSD কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ বলে দাবি করে, ব্যবসায়ী, সরকারি আধিকারিক ও সাধারণ মানুষের থেকে তোলা আদায় করছেন। এবার গোডাউন-বিপর্যয়ে প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমের OSD, সেই কালীচরণ বন্দ্য়োপাধ্য়ায়কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ৪ জুলাই পর্যন্ত কালীচরণকে পুলিশ হেফাজতে পাঠিয়েছেন বিচারক।
পেটের দায়ে কাজে এসেছিলেন গরিব মানুষগুলো। প্রাণটুকু নিয়ে ফিরতে পারলেন না। তারাতলায় নির্মীয়মান গোডাউন ভেঙে মৃত্যু হয়েছে ১৬ জনের। স্বজনহারাদের হাহাকারে বারবার ফিরে আসছে একটাই প্রশ্ন এতগুলো মৃত্য়ুর জন্য় দায়ী কারা? এই ঘটনায় কলকাতা পুরসভার প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমের OSD কালীচরণ বন্দ্য়োপাধ্য়ায়কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। কালীচরণের রক্ষাকর্তা কে? তাঁর মাথায় কার হাত? উঠছে একাধিক প্রশ্ন।
