কলকাতা: নববর্ষের আগেই বাঙালির জন্য সেরা উপহার। সোমবার সন্ধায় কালীঘাটে নতুন স্কাইওয়াক উদ্বোধন করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। সেইসঙ্গে, হকার্স কর্নার ও নতুন রূপে কালীঘাট মন্দিরেরও শুভ উদ্বোধন করা হয় এদিনের অনুষ্ঠান থেকেই।

স্কাইওয়াক উদ্বোধন: আর পোহাতে হবে না যানজটের ঝক্কি। চৈত্র সংক্রান্তির সন্ধেয় বাংলা নববর্ষের ঠিক আগের দিন কালীঘাটে স্কাইওয়াক উদ্বোধন করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই সঙ্গে হকার্স কর্নার ও নতুন রূপে কালীঘাট মন্দিরেরেও শুভ উদ্বোধন করেন তিনি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, "৯৯ শতাংশ সরকারের খরচে তৈরি হয়েছে। শুধু কালীঘাটের মন্দিরের চূড়া সোনা দিয়ে বাঁধিয়েছে রিলায়েন্স গোষ্ঠী।'' কালীঘাটের এই স্কাইওয়াকের মোট দৈর্ঘ্য ৪৩৫ মিটার। প্রস্থ ১০.৫ মিটার। স্কাইওয়াক জুড়ে থাকছে ২টি এসকালেটর, ৩টি সিঁড়ি ও ৩টি লিফট। স্কাইওয়াকের একটি মুখ থাকবে কালীঘাটের মূল মন্দিরের দিকে। অন্যটি গিয়ে নেমেছে শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি রোডের ওপর। মূলত, যানজট নিয়ন্ত্রণে ও তীর্থযাত্রীদের সুষ্ঠুভাবে চলাচলের জন্যই এই স্কাইওয়াক বিশেষ প্রয়োজনীয়। ওপরে স্কাইওয়াক হওয়ায় নীচে আরও প্রশস্ত হয়েছে ফুটপাত। রাস্তার হকারদের পাশাপাশি, পথচারীদের জন্যও রয়েছে যথেষ্ট জায়গা।সোমবার স্কাইওয়াক ধরে হেঁটে কালীঘাটে মূল মন্দিরে যান মুখ্যমন্ত্রী। প্রতি বছরের মতো এবারও, সপরিবারে পুজো দেন সেখানে। সোমবার উদ্বোধনী মঞ্চ থেকেই, সর্বধর্ম সমন্বয়ের বার্তাও দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, "আমার সরকার সব জায়গায় কাজ করেছে, হিন্দুদের জন্য কালীঘাট তারাপীঠ, জৈন দের জন্য, মুসলিমদের জন্যও উন্নয়ন করেছে সরকার, আমি মানি ধর্ম যার যার উৎসব সবার।'' মুখ্যমন্ত্রীর পাশাপাশি, সোমবারের এই উদ্বোধনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ভারত সেবাশ্রমের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ মহারাজ থেকে শুরু করে মন্ত্রী-সাংসদ-বিধায়কেরাও। তৃণমূল সাংসদ ও অভিনেতা দেব বলেন, "আমি নিজেও কালীভক্ত তাই এতে আমি খুব খুশি হয়েছি। তীর্থযাত্রী সহ সকল পর্যটকদের জন্য সুবিধা হবে এতে।'' এর আগে ২০১৮ সালে, দক্ষিণশ্বরে স্কাইওয়াকের উদ্বোধন করতে গিয়ে, কালীঘাট মন্দির চত্বরে স্কাইওয়াক তৈরির কথা ঘোষণা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই থেকে কাজ শুরু হলেও, মাঝে করোনা থেকে শুরু করে নানা কারণে আটকে গিয়েছিল কাজ। শেষমেষ, ২৫ সালের শুরুর দিকে শেষ হল এর কাজ। অন্যদিকে এই স্কাইওয়াক নির্মাণের জন্য, ২১ সালে, সদানন্দ রোডের মুখে থাকা ১৭৫টি দোকানকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় যতীন দাস পার্কে। পরবর্তীতে, কালীঘাটের স্কাইওয়াক লাগোয়া ৫ তলা বিল্ডিংয়ে আনা হয় সমস্ত হকারদের। সেই হকার্স কর্নারেরই উদ্বোধন করা হল সোমবার। যদিও, এখনও বিল্ডিংয়ে বসতে বাকি আছেন বহু হকার। নতুন বছরের শুরুর দিন থেকেই, কালীঘাটের এই স্কাইওয়াকে চড়ে পুজো দিতে যেতে পারবে রাজ্যবাসী।