কলকাতা: দীর্ঘদিন পরে বড়পর্দায় ফিরছেন অভিনেত্রী তথা তৃণমূল সাংসদ শতাব্দী রায় (Satabdi Roy)। মৈনাক ভৌমিকের পরিচালিত ছবি 'বাৎসরিক'-এ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় দেখা যাবে শতাব্দীকে। এছাড়াও এই ছবিতে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে থাকছেন ঋতাভরী চক্রবর্তী (Ritabhari Chakraborty)। চলতি বছরের ৬ জুন মুক্তি পাবে এই ছবিটি।

'বাৎসরিক' ছবিটি একটি মৃত্যুকে ঘিরে তৈরী। ছবিতে ঋতাভরীর স্বামী ও শতাব্দীর ভাই মারা যাবে। অর্থাৎ সম্পর্কে ঋতাভরীর ননদের ভূমিকায় দেখা যাবে শতাব্দীকে। কিন্তু তাঁদের দুজনের মধ্যে সম্পর্ক ভাল নয়। দুজনেই ঋতাভরীর স্বামীর মৃত্যুর জন্য একে অপরকে দায়ী করেন। শুধু মৃত্যুর জন্য দায়ী করাই নয়, দুজনের মধ্যে একটা অদ্ভূত সমীকরণ ধরা পড়বে এই ছবিতে। মৃত্যু কি আদৌ দুটো মানুষকে কাছাকাছি আনতে পারে? আসলে তাঁদের মধ্যে সমীকরণ ঠিক কেমন হয়, সেই গল্পই ফুটে উঠবে এই ছবিতে। 

সিনেমাটি নিয়ে মৈনাক ভৌমিক বলছেন, 'এই ছবিটির মূল বিষয়বস্তু ভূত। এটি একটি হরর ছবি। খুব ভাল করে বললে বলতে হয়, এটা হরর আর ড্রামার মাঝামাঝি একটা ছবি। কিন্তু সেই সঙ্গে এই ছবিটার মধ্যে ভীষণ আবেগের একটা গল্প রয়েছে। ভূত বলতে একদিকে আমরা যেমন ভয় পাই, তেমনই ভূত বলতে আমরা অতীতকেও বুঝি। অতীতকে আমরা সবসময় ভয় পাই না। অতীত আমাদের কষ্ট ও দেয়। এই ছবিতে ভূত যেমন ভয় দেখাবে, তেমনই একটা আবেগের, দুটো মানুষের সমীকরণের গল্প শোনাবে। একজন মানুষের চলে যাওয়ার পরে কীভাবে দুজন মানুষের সমীকরণ পরিবর্তিত হয় সেটাই তুলে ধরবে এই ছবিটি। ছবিতে ভূত আছে বটে, কিন্তু কেবল ভূতকেন্দ্রিক নয় এই ছবি। এর অনেকগুলো দিক ও রয়েছে।'

দীর্ঘদিন পরে শতাব্দী রায়ের বড়পর্দায় ফেরা। কেন তাঁকেই এই চরিত্রের জন্য ভেবেছিলেন মৈনাক? পরিচালক বলছেন, 'শতাব্দীদির সঙ্গে অনেকদিন থেকেই কাজের কথা হচ্ছিল। যখন এই ছবিটার চিত্রনাট্য চূড়ান্ত হল, তখন মনে হল এই ছবিটার হাত ধরেই শতাব্দীদির আবার বড়পর্দায় প্রত্যাবর্তন হোক না। এত বড়মাপের একজন অভিনেত্রী দীর্ঘদিন বড়পর্দা থেকে দূরে রয়েছেন, তাঁকে দেখার জন্য তো দর্শক মুখিয়ে থাকবেনই। সেটাই এই ছবির অন্যতম ইউএসপি হতে চলেছে।'

ছবির শ্যুটিং ইতিমধ্যেই হয়ে গিয়েছে। এখন একেবারে শেষমূহূর্তের কাজ চলছে। চলতি বছরের ৬ জুন মুক্তি পাবে এই ছবিটি।