ভাস্কর ঘোষ, হাওড়া: নতুন বছরে জমজমাট বেলুড়মঠ। ইংরেজি নববর্ষের প্রথম দিনে দক্ষিণেশ্বরের পাশাপাশি বেলুড়মঠেও প্রচুর মানুষের সমাগম। আজকের দিনে কল্পতরু হয়েছিলেন ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণদেব। আর সেই বিশেষ দিনটিকে কেন্দ্র করে মেতে উঠেছে ভক্ত সহ অসংখ্য সাধারণ মানুষ।

এদিন দক্ষিণেশ্বর, মায়ের বাড়ি তো বটেই  বেলুড়মঠে প্রচুর মানুষের সমাগম হয়। সকাল থেকেই দূর দূরান্ত থেকে হাজির অসংখ্য মানুষ। কেউ এসেছে সপরিবারে, কেউবা একা বা বন্ধুর সাথে। মন্দিরে মন্দিরে ঠাকুর দর্শন, বেলুড় মঠ চত্বরে, গঙ্গার পাড়ে চুটিয়ে আড্ডা এবং প্রসাদগ্রহণ । সব মিলিয়ে বছরের প্রথম দিনের বেলুড় মঠের চিত্রটা একটু অন্যরকম।

কাশীপুর-দক্ষিণেশ্বর-কামারপুকুরে নতুন বছরের প্রথম দিন মহাসমারোহে পালিত হল কল্পতরু উৎসব।প্রতিবারের মতো এবারও শ্রদ্ধায়, ভক্তিতে, পূজানুষ্ঠানে কল্পতরু উৎসব ঘিরে আনন্দমমুখর কাশীপুর উদ্যানবাটী।  কল্পতরু৷ যা ভক্তের মনস্কামনা পূর্ণ করে। ১৮৮৬ সালের পয়লা জানুয়ারি কল্পতরু রূপে ভক্তদের আশীর্বাদ করেছিলেন ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ৷ কাশীপুর উদ্যানবাটীতে ভক্তদের আশীর্বাদ করে বলেছিলেন- ‘তোমাদের চৈতন্য হোক’। এরপর থেকেই প্রতিবছর জানুয়ারি মাসের প্রথম দিনে পালিত হয়ে আসছে কল্পতরু উৎসব। 

রামকৃষ্ণের গৃহী ভক্তদের কথায়, সেদিন ঠাকুর ছিলেন কল্পতরু। আর সন্ন্য়াসী ভক্তরা বলেন, সেদিন অভয় প্রদান করেছিলেন শ্রীরামকৃষ্ণদেব। এদিন, দক্ষিণেশ্বরের ভবতারিণী মন্দিরে মঙ্গলারতি বা দীপারতি দিয়ে সূচনা হয় উৎসবের। ভোর থেকে ভিড় করেন ভক্তরা। দক্ষিণেশ্বর শ্রীরামকৃষ্ণের লীলাভূমি, কর্মভূমি। মূল মন্দির চত্বরের উল্টোদিকে কুঠিবাড়ি। এখানে একসময় থাকতেন শ্রীরামকৃষ্ণের বড় দাদা রামকুমার চট্টোপাধ্যায়। পরে ১৮৫৫ থেকে ১৮৭১ সাল পর্যন্ত মা চন্দ্রমণি দেবীর সঙ্গে থাকতেন শ্রীরামকৃষ্ণ। রানি রাসমণি, তাঁর জামাই মথুরবাবুর কুঠিবাড়িতে যাতায়াত ছিল। এখানে শ্রীরামকৃষ্ণের মূর্তি দেখতে ভিড় করেন ভক্তরা। 

আরও পড়ুন, নতুন বছরে উপচে পড়া ভিড় তারাপীঠে, ভোর থেকেই মায়ের মন্দিরে পুজো শুরু..

ভাইপো অক্ষয়ের মৃৃত্যুর পর, মূল মন্দিরের একটি ঘরেই থাকতে শুরু করেন শ্রীরামকৃষ্ণ। সেটি তাঁর বাসকক্ষ বলে পরিচিত। শ্রীরামকৃষ্ণের শয্যা ও ব্যবহৃত সামগ্রী দর্শন করতে এখানে আসেন পুণ্যার্থীরা। বছরের প্রথম দিন ভবতারিণীর কাছে পুজো। কল্পতরু উৎসব পালিত হল শ্রীরামকৃষ্ণের জন্মস্থান কামারপুকুরেও।  উৎসব উপলক্ষ্যে এদিন সেখানেও ঢল নামে ভক্তদের। ভোরে মঙ্গল আরতি দিয়ে শুরু হয় উৎসবের ।সারাদিন ধরে চলে পুজোপাঠ।

আপনার পছন্দের খবর আর আপডেট পাবেন আপনার পছন্দের চ্যাটিং প্ল্যাটফর্ম হোয়াটস অ্যাপেও। যুক্ত হোন ABP Ananda হোয়াটস অ্যাপ চ্যানেলে।