কলকাতা, দিল্লি, পাঞ্জাব, বিহার থেকে অসম। জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবিতে দেশজুড়ে আন্দোলন। জোরাল হচ্ছে মুখ্য় নির্বাচন কমিশনারের গ্রেফতারের দাবিও। পাহাড়প্রমাণ এই চাপের মুখে শেষপর্যন্ত আদৌ পদ ধরে রাখতে পারবেন দেশের মুখ্য় নির্বাচন কমিশনার? এই নিয়ে উত্তেজনার মাঝেই তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করলেন মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ।  জ্ঞানেশ কুমারকে সরাতে পারে একমাত্র CJP-ই। মনে করছেন কল্যাণ। এবিপি আনন্দকে দেওয়া এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে তিনি বললেন, 'আমাদের লোক বিক্রি হয়ে গেছে, পারবে না কংগ্রেসও' । তিনি মনে করছেন এই জ্ঞানেশ কুমারকে সরাতে পারে সিজেপি-ই। 

Continues below advertisement

কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ' আমরা নিঃসন্দেহে চেষ্টা করব কিন্তু তার আউটকাম কী হবে আমি জানি না। CJP যদি করে কুইক ডিসপোসাল হবে। আসলে ওদের (CJP ) আন্দোলনটা অনেক তুখোড় আন্দোলন। ওরা (CJP ) একটা ইস্য়ু নিয়ে পড়ে থাকে তো ওদের (CJP ) জানপ্রাণ দিয়ে করে। আমাদের জানপ্রাণ দিয়ে করার লোক কটা আছে? আমাদের তো অর্ধেক রাজনীতিবিদ বিক্রিত, সোলড। দেখলেন তো বিধানসভা নির্বাচনের পরে কী ভাবে সোলড পলিটিশিয়ান বেরল পশ্চিমবঙ্গের বুকে। লড়তে লড়তে যখন লড়াইয়ের মুখটাতে যাবেন তখন অনেকেই সোলড। কিন্তু এদের (CJP ) তো অন্য় কিছু চাওয়া নেই। আমাদের অনেক কিছু চাওয়ার আছে। ভারতবর্ষকে বাঁচাতে আগামী দিনে পারবে, ভারতবর্ষের ইয়ং জেনারেশন। যে আন্দোলন তারা করছে (CJP ) সেই ইয়ং জেনারেশন। সেটা যে নামেই হোক। ' 

মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের ইস্তফার দাবিতে চাপ বাড়াচ্ছে বিরোধীরা। এনডিএ-র অস্বস্তি বাড়িয়েছেন LJPর চিরাগ পাসোয়ান। এরই পাশাপাশি, সংসদের উভয় কক্ষে জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্টের নোটিস আনার তোড়জোড় শুরু করেছে বিরোধী শিবির। যা নজিরবিহীনভাবে ৬ মাসের মধ্যে দ্বিতীয়বার! কংগ্রেস সূত্রের খবর, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে সংসদের উভয় কক্ষে ইমপিচমেন্টের নোটিস আনতে চলেছে বিরোধীরা। এবিষয়ে বিরোধী দলগুলোর সাথে যোগাযোগ করেছে কংগ্রেস। 

Continues below advertisement

শনিবারের মধ্যে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার পদত্যাগ না করলে, ২ অক্টোবর মুম্বই থেকে দেশব্যাপী বিক্ষোভ কর্মসূচি শুরু হবে। ফের আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। ঠিক দু মাস আগে নিটকাণ্ডে CJP-র আন্দোলনের প্রেক্ষিতে শেষপর্যন্ত মাথা নোয়াতে হয় মোদি সরকারকে। পদত্যাগ করেন তৎকালীন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। এখন দেখার এই জল আর কতদূর গড়ায় ।