বিজেন্দ্র সিংহ, সৌভিক মজুমদার, আশাবুল হোসেন, কলকাতা: নিজের দলের নাম ও 'জোড়াফুল' প্রতীক হারিয়ে, সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নির্বাচন কমিশনের অন্তর্বর্তী সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে দ্রুত শুনানির আর্জি জানান আইনজীবী কপিল সিব্বল। চলতি সপ্তাহেই এই মামলার শুনানি হতে পারে। অন্যদিকে, 'খাম' প্রতীক হারিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা করেছেন ISF বিধায়ক নৌশাদ সিদ্দিকি।

Continues below advertisement

আরও পড়ুন, "২ নম্বর যিনি ছিলেন তিনি লক্ষ কোটি টাকা নিয়ে চলে গেছেন, এই বয়সে মমতা তো আর খেলতে পারবেন না", আক্রমণ মদনের

Continues below advertisement

তৃণমূল আপাতত তার 'জোড়াফুল' প্রতীক হারিয়েছে,'খাম' প্রতীক হারিয়েছে নৌশাদ সিদ্দিকির আইএসএফ। বাঁশি প্রতীক হাতছাড়া হয়েছে হুমায়ুন কবীরের। এই পরিস্থিতিতে আপাতত হলেও, নিজের দলের নাম ও প্রতীক হারিয়ে, সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার, নির্বাচন কমিশনের অন্তর্বর্তী সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে দ্রুত শুনানির আর্জি জানান আইনজীবী কপিল সিব্বল।

মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস আইনজীবী ও সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন,  প্রধান বিচারপতির এজলাসে মেনশন করেছি। কপিল সিব্বল মেনশন করেছে, আমিও ছিলাম। আমরা স্টে (স্থগিতাদেশ) চাই এটায়। অর্ডারটা এটা তো হতে পারে না। আদালত যেমন বলে, ‘‘যখন নির্বাচন কমিশন নির্বাচনের বিজ্ঞপ্তি জারি করে, তখন নির্বাচনী প্রক্রিয়া শুরু হয়ে যায়। সেই প্রক্রিয়ায় কোনও হস্তক্ষেপ করা যায় না।’’ তেমনই নির্বাচন কমিশন কীভাবে সেই প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করতে পারে?

 বৃহস্পতিবার বিকেলে 'কালীঘাট-তৃণমূল' এবং 'ঋতব্রত-তৃণমূল'-এর সঙ্গে আলাদা আলাদা ভাবে বৈঠক করে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। এরপর রাতেই অন্তর্বর্তী নির্দেশে কমিশন জানিয়ে দেয়,'কালীঘাট-তৃণমূল' এবং 'ঋতব্রত-তৃণমূল' কেউই 'জোড়াফুল' প্রতীক ব্য়বহার করতে পারবে না। মমতা-শিবিরের নতুন নাম এখন 'মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস'।

অন্যদিকে, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের নাম দেওয়া হয়েছে 'গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস'তাঁদের প্রতীক হল 'খাম'। 'মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস' নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন,'আমরা কখনও ভাবিনি যে, ওরা (নির্বাচন কমিশন) আমাদের প্রতীক ও দলের নাম ফ্রিজ করে দেবে। গণতন্ত্রের ইতিহাসে আজ কালো দিন। দেশে যা হচ্ছে সেটা খুব দুর্ভাগ্য়জনক, অসাংবিধানিক, অনৈতিক, অগণতান্ত্রিক এবং পুরোপুরো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য় প্রণোদিত।'

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, অতি দর্পে হত লঙ্কা, অতি মানে চ কৌরবা। দম্ভ যার হবে, সেই দম্ভের চূর্ণ ভগবান করবে। সর্বশক্তিমান আছেন। নির্বাচন কমিশনের এই অন্তর্বর্তী নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করেই সোমবার সুপ্রিম কোর্টে যায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির।চলতি সপ্তাহেই এই মামলার শুনানি করা হতে পারে বলে জানিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। অন্যদিকে, ISF যে প্রতীক এতদিন ব্যবহার করত, সেই 'খাম' আপাতত গেছে 'গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস'-এর কাছে। শুক্রবার এই প্রতীক 'ঋতব্রত শিবির'কে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। বদলে ISF-এর প্রতীক হয়েছে আলমারি। আর এই প্রতীক-বিতর্কের জল গড়িয়েছে হাইকোর্ট পর্যন্ত। গত বিধানসভা নির্বাচনে যে 'খাম' চিহ্ন তাদের বরাদ্দ করা হয়েছে, সেই একই প্রতীক কেন 'ঋতব্রত শিবিরকে' দেওয়া হল? এই প্রশ্ন তুলে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা করেছেন ISF বিধায়ক নৌশাদ সিদ্দিকি।এখন এই প্রতীক-বিতর্কের জল কতদূর গড়ায় সেটাই দেখার।