ব্রতদীপ ভট্টাচার্য, কলকাতা: একটি ভাইরাল ফটোকে কেন্দ্র করে কসবাকাণ্ডে নতুন রহস্য দানা বেধেছে। সাউথ ক্যালকাটা ল' কলেজের প্রিন্সিপালের ভূমিকা নিয়ে।কসবা ল' কলেজে ছাত্রীকে 'গণধর্ষণ' এর সময় কলেজেই ছিলেন ভাইস প্রিন্সিপাল ? মূলত ভাইরাল হওয়া ভাইস প্রিন্সিপালের হাজিরা নিয়ে পরতে পরতে প্রশ্ন উঠেছে !

আরও পড়ুন, রাজন্যার মন্তব্য বিতর্কের মধ্যেই এবার TMC কাউন্সিলর জুঁই বিশ্বাসের পোস্ট, ' শুধু নিজের স্বার্থ নিয়ে রাজনীতি করতে আসা..' !

গত জুন মাসেই কসবাকাণ্ড প্রকাশ্যে আসে। ঘটনার দিন অর্থাৎ ২৫ জুন কলেজের রেজিস্টারে দেখা যাচ্ছে ভাইস প্রিন্সিপালের ইন-আউট টাইম লেখা রয়েছে '৯.৫০' ।  আর এখানেই উঠেছে প্রশ্ন।  তাহলে কি একই সময়ে ঢুকলেন এবং বেরিয়ে গেলেন ভাইস প্রিন্সিপাল? ৯.৫০-এর পাশে সকাল কিংবা সন্ধে AM/ PM কেন লেখা নেই ? তাহলে কি মনোজিৎদের অত্যাচারের সময় কলেজেই ছিলেন ভাইস প্রিন্সিপাল? মূলত ছাত্রীর বয়ান অনুযায়ী সন্ধে ৭.৩০ থেকে রাত ১০.৫৫ পর্যন্ত কলেজে আটকে অত্যাচার চলেছিল। বেরোনোর সময় রাত ৯.৫০ হলে, ধর্ষণের সময় কলেজেই ছিলেন ভাইস প্রিন্সিপাল ? ভাইরাল রেজিস্টার নিয়ে এখানেই প্রশ্ন উঠেছে। কিন্তু কোনও স্পষ্ট জবাব নেই ভাইস প্রিন্সিপালের।

সাউথ ক্যালকাটা ল’ কলেজে আইনের ছাত্রীকে গণধর্ষণকাণ্ডে ইতিমধ্যেই দু’ বার ভাইস প্রিন্সিপালকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ। বেশ কয়েকঘণ্টা ধরে ভাইস প্রিন্সিপাল নয়না চট্টোপাধ্যায়কে জিজ্ঞাসাবাদ করেন SIT-র সদস্যরা। পুলিশ সূত্রে খবর,CC ক্যামেরার ফুটেজ থেকে ১৬ জনকে চিহ্নিত করে তাঁদের সম্পর্কে কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে তথ্য চাওয়া হয়েছিল। এরপর ওই পড়ুয়াদের নোটিসও পাঠানো হয়েছে। আইন কলেজের ৬ জন পড়ুয়াকে জিজ্ঞাসাবাদও করেছে পুলিশ। বেশ কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন‍্য ডাকা হয়েছে। পড়ুয়ারা কী দেখেছিলেন, তাঁরা কী জানতেন, ওই দিন কলেজ ক্যাম্পাসে কে কে ছিলেন, তা নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।

 প্রসঙ্গত, অভিযোগকারিণীর বয়ানের সঙ্গে পারিপার্শ্বিক তথ্য়প্রমাণ হুবহু মিলে যাচ্ছে। ঘটনাক্রম থেকেই বোঝা যাচ্ছে অভিযুক্তরা কতটা বেপরোয়া ছিল। এই সওয়ালে ভর করেই, মনোজিৎ মিশ্র-সহ কসবা গণধর্ষণকাণ্ডে মঙ্গলবার ধৃত চারজনকে ফের পুলিশ হেফাজতে পাঠানোর পক্ষে সওয়াল করেন সরকারি আইনজীবী। তিনি আদালতে বলেন, অভিযোগকারিণীর যে বয়ান, তার সঙ্গে ইলেকট্রনিক এভিডেন্স অর্থাৎ সিসি ক্য়ামেরার ফুটেজ, মোবাইলের ভিডিও মিলে যাচ্ছে। অভিযুক্তদের ফের ঘটনাস্থলে নিয়ে যেতে হবে। পারিপার্শ্বিক তথ্য়প্রমাণ আরও খতিয়ে দেখার প্রয়োজন রয়েছে।

পাশাপাশি অপরাধের বীভৎসতা বোঝাতে সরকারি আইনজীবী আদালতে বলেন, অভিযোগকারিণী জানিয়েছেন, প্রথমে তাঁর ওপর এক দফা নির্যাতন চালানো হয়। তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে, ইনহেলার কিনে, তাঁকে দিয়ে, সুস্থ করে, ফের যৌন নির্যাতন চালানো হয়। এর থেকেই বোঝা যাচ্ছে অভিযুক্তরা কতটা বেপরোয়া ছিল। ইতিমধ্য়ে সেই ইনহেলারের বিলও এবিপি আনন্দর হাতে এসেছে।