মধ্যরাতে বিস্ফোরণে কেঁপে উঠল জম্মু-কাশ্মীরের দক্ষিণ শ্রীনগরের নওগ্রাম থানা। বিস্ফোরণে এখনও পর্যন্ত ৯ জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে। আহত হয়েছেন ২৯ জন, এর মধ্যে অধিকাংশই পুলিশ কর্মী। জখম ২৯ জনের মধ্যে ৫ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে পুলিশ সূত্রে খবর। এটা কি দুর্ঘটনাবশত বিস্ফোরণ নাকি নাশকতা ? কী ভাবছে জম্মু কাশ্মীর পুলিশের শীর্ষ কর্তারা ? কী জানাল ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক?
আবার নাশকতা নাকি বাজেয়াপ্ত করা বিস্ফোরকের স্যাম্পল পরীক্ষা করতে গিয়েই এত বড় বিপদ? কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক(MHA) এদিন সাংবাদিক বৈঠকে স্পষ্ট জানিয়ে দিল, শ্রীনগরের নওগ্রামে পুলিশ স্টেশনে বিস্ফোরণটি একেবারেই দুর্ঘটনা। কোনও নাশকতার ঘটনা ঘটেনি।
মন্ত্রকের তরফে বলা হয়, দুর্ঘটনার কারণ তদন্ত করা হচ্ছে। এই ঘটনা সম্পর্কে অন্য কোনও জল্পনা অপ্রয়োজনীয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার জম্মু ও কাশ্মীরের নওগ্রামে একটি সন্ত্রাসী মডিউলের তদন্তের সময় দুর্ঘটনাজনিত বিস্ফোরণে ৯ জন নিহত এবং ৩২ জন আহত হয়েছেন।
জম্মু ও কাশ্মীরের পুলিশের ডিজিপি নলিন প্রভাত সংবাদমাধ্যমকে জানান, বিস্ফোরণটি একেবারেই দুর্ঘটনাজনিত। এই ঘটনার কারণ সম্পর্কে অন্য কোনও জল্পনা অপ্রয়োজনীয়। পুলিশ সূত্রও ৯ জন নিহত হওয়ার খবরটি নিশ্চিত করেছে। সোমবার লাল কেল্লার কাছে আই২০ গাড়িতে বিস্ফোরণের দিনই সকালে ফরিদাহাদ থেকে ৩০০০ কেজির বেশি বিস্ফোরক উদ্ধার করে জম্মুকাশ্মীর পুলিশ। সেই বাজেয়াপ্ত করা বিস্ফোরক পরীক্ষা করতে গিয়েই এই দুর্ঘটনা।
পুলিশ ও সরকারের তরফে নাশকতার প্রসঙ্গ উড়িয়ে দেওয়া হলেও,অসমর্থিত সূত্রে দাবি করা হয়েছে, পিপলস অ্যান্টি-ফ্যাসিস্ট ফ্রন্ট (PAFF) এই ঘটনার দায় নিয়েছে। টাইমস অফ ইন্ডিয়ায় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, এই ঘটনায় PAFF এর হাত থাকলেও থাকতে পারে। এক প্রত্যক্ষদর্শীর মতে, বিস্ফোরণের অভিঘাত এতটাই ছিল যে, তখন অনেক মানুষের দেহের অংশ প্রায় ৩০০ ফুট দূরে উড়ে গিয়ে পড়ে।
পুলিশ সূত্রে খবর, ফরিদাবাদ থেকে উদ্ধার করা অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট শুক্রবার রাতে ফরেন্সিক সায়েন্স ল্যাবরেটরির একটি দল পরীক্ষা করছিল। সঙ্গে ছিলেন পুলিশকর্মীরাও। সেই সময় আচমকা বিস্ফোরণটি ঘটে। বিস্ফোরণের জেরে থানাটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই ছিল যে থানার বাইরে থাকা গাড়িতেও আগুন লেগে যায়। সিসি ফুটেজে বন্দি বিস্ফোরণের মুহূর্তের ছবি।