রানা দাস, কেতুগ্রাম : কল্যাণীর রেশ কাটতে না কাটতেই কেতুগ্রামে পরিত্যক্ত বাড়িতে ভয়াবহ বিস্ফোরণ। বিস্ফোরণের অভিঘাতে উড়ে যায় বাড়ির ছাদ, ভেঙে পড়ে দেওয়াল। বাড়ি ঘিরে রেখেছে পুলিশ। আজ ঘটনাস্থলে যেতে পারে ফরেন্সিক দল। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, বাড়িতে প্রচুর বোমা বা বিস্ফোরক মজুত ছিল। প্রশ্ন উঠছে, কে বা কারা, এখানে বোমা বা বিস্ফোরক মজুত করেছিল? খতিয়ে দেখছে কেতুগ্রাম থানার পুলিশ।
শুধু দেওয়াল ভেঙে পড়েছে তা নয়। সেখান থেকে ইট খুলে কয়েক ফুট দূরে গিয়ে পড়েছে। পিলারের অংশ কয়েক ফুট দূরে এসে পড়ে রয়েছে। দূর থেকে দেখে মনে হবে যেন শোলার টুকরো পড়ে আছে। স্থানীয়রা বলছেন, বাড়ি ভূমিকম্পের মতো কেঁপে উঠেছে, অনুভব করেছেন তাঁরা। হঠাৎ করেই এই বিস্ফোরণ হয়েছে। রাস্তা জুড়ে পড়ে রয়েছে দেওয়ালের অংশ, ইট, পিলারের অংশ। কংক্রিটের ছাদ সম্পূর্ণ ধসে গিয়েছে। বোঝাই যাচ্ছে যে বিস্ফোরণের তীব্রতা ঠিক কতটা ছিল। গতকালে ঘটনা, অথচ এখনও পর্যন্ত পাওয়া যাচ্ছে বারুদের গন্ধ।
বিস্ফোরণস্থলে সুতলি দেখা যাচ্ছে বিভিন্ন জায়গায়, ছড়িয়ে রয়েছে সেগুলি। এর থেকে অনুমান, প্রচুর পরিমাণে বোমা ছিল। এইসব সুতলি বোমা বাঁধার কাজেই লাগত বলে অনুমান পুলিশের। বিস্ফোরণস্থল দেখে বোঝা যাচ্ছে পরিত্যক্ত্য বাড়ির এক, একটা ইট খুলে বেরিয়ে এসে কয়েক ফুটে দূরে গিয়ে পড়েছে। সারা রাস্তা জুড়ে জড়িয়ে রয়েছে বাড়ির ইট, ছাদ, দেওয়ালের অংশ। গোটা এলাকা ঘিরে রাখা হয়েছে। কীভাবে এত বড় বিস্ফোরণ হল সেটাই জানার চেষ্টা চলছে। কত পরিমাণ বিস্ফোরক মজুত ছিল তা জানতেই ফরেন্সিক দল নমুনা সংগ্রহ করতে যাবে কেতুগ্রামের ওই ঘটনাস্থলে।
কল্যাণীতে বাজি কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণ
নদিয়ার কল্যাণীতে ভয়াবহ বিস্ফোরণে চারজনের মৃত্যুর ঘটনায় বেআইনি বাজি কারখানার মালিক খোকন বিশ্বাসকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। কল্যাণী পুরসভার ২০ নম্বর ওয়ার্ডের রথতলায় ধৃতের বাড়ির ছাদে মিলেছে বাজি এবং আরও কয়েকটি জায়গায় তল্লাশি চালিয়ে বিপুল পরিমাণ বাজির মশলা উদ্ধার করেছে কল্যাণী থানার পুলিশ। কল্যাণীর এই এলাকায় আরও অনেক জায়গায় বাজি তৈরি হত বলে মনে করা হচ্ছে। বিস্ফোরণস্থল থেকে রানাঘাট পুলিশ জেলার সুপারের অফিসের দূরত্ব মেরেকেটে এক কিলোমিটার। প্রশ্ন উঠছে, এরকম জনবহুল জায়গায় বেআইনি বাজির কারখানা এতদিন চলছিল কীভাবে? কোথায় ছিল পুলিশের নজরদারি?