কলকাতা: তৃণমূলের রাজ্যসভার প্রার্থীর নাম ঘোষণা। তৃণমূলের রাজ্যসভার প্রার্থী হলেন তৃণমূল বিধায়ক বাবুল সুপ্রিয়। এছাড়াও তৃণমূলের রাজ্যসভার প্রার্থী তালিকায় প্রাক্তন ডিজিপি রাজীব কুমার। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামীও তৃণমূলের রাজ্যসভার প্রার্থী করা হয়েছে। অঙ্কের হিসেবে রাজ্যসভার তৃণমূলের ৪ প্রার্থীরই জয় নিশ্চিত, এমনটাই মনে করা হচ্ছে। একটি আসনে বিজেপি যাঁকে প্রার্থী করবে তিনি হয়ত নিশ্চিতভাবে জয়লাভ করবেন।

Continues below advertisement

একেবারে চমকের পর চমক বলাই যায়! রাজ্যের প্রাক্তন ডিজিপিকে প্রার্থী করাটা কিন্তু নজিরবিহীন। বাবুল সুপ্রিয় রাজ্যের মন্ত্রী। বালিগঞ্জ থেকে তিনি বিধায়ক হয়েছিলেন। এবার তিনি টিকিট পাবেন কি না তা নিয়ে একটা সংশয় তৈরি হয়েছিল। আর পাশাপাশি সবচেয়ে বড় চমক হয়ত কোয়েল মল্লিক। বাংলার ছবির জনপ্রিয় অভিনেত্রীকে প্রার্থী করে রাজ্যসভায় প্রার্থী তালিকায় চমক দিল তৃণমূল। একটা বিষয় স্পষ্ট যে প্রচলিত রাজনৈতিক ধারার বাইরে বেরিয়ে প্রার্থী করা হচ্ছে সেলেবদের। কিছুদিন আগেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় রঞ্জিত মল্লিকের সঙ্গে দেখা করেছিলেন। তৃণমূলের উন্নয়ণের পাঁচালি নিয়ে গিয়েছিলেন অভিষেক। সেদিন অবশ্য কোয়েল মল্লিক ছিলেন না বাড়িতে। কিন্তু তাঁর রাজনীতিতে আসাটা কিন্তু বেশ তাৎপর্যপূর্ণ।

রাজীব কুমার কিছুদিন আগেই অবসর নিয়েছিলেন। রাজীব কুমারকে নিয়ে কম বিতর্ক হয়নি। তাঁর পাশে দাঁড়িয়ে রাস্তায় নেমে পড়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়। তৃণমূল কংগ্রেসের হয়ে প্রাক্তন পুলিশ কর্তাদের প্রার্থী হওয়া নতুন কিছু নয়। কিন্তু রাজীব কুমারের বিষয়টি আলাদা। তবে মনে করা হয়েছিল যে তাঁকে অবসরের পর এমন কোনও পোস্ট হয়ত দেওয়া হবে, যাতে তিনি অ্য়াডভাইসার হিসেবে পুরোটা দেখভাল করতে পারবেন। কিন্তু অবসর নেওয়ার পর কোনও পদ নেননি রাজীব কুমার। এরপরই কানাঘুষো শোনা গিয়েছিল যে রাজীব কুমার আর পুলিশ প্রশাসনের মধ্য়েই থাকতে চাইছেন না। বাবুল সুপ্রিয় এখানে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব একমাত্র। একটা সময় কেন্দ্রীয় সরকারের মন্ত্রী ছিলেন। পরবর্তীতে বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দিয়েছিলেন। মেনকা গুরুস্বামীও সুপ্রিম কোর্টে রাজ্যের হয়ে মামলা লড়েছেন। তাঁকেও তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী করেছেন।

Continues below advertisement

সম্প্রতি তৃণমূল সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে শোভনদেব চট্টোপাধ্য়ায়কে খড়দহ থেকে এনে বালিগঞ্জে দাঁড় করানো হবে। তাই বাবুল সুপ্রিয় যিনি বালিগঞ্জের বিধায়ক ছিলেন, তিনি টিকিট পাবেন কি না তা নিয়েই প্রশ্ন উঠেছিল। অবশেষে চমক দিয়ে রাজ্যসভায় প্রার্থী করে দেওয়া হল জনপ্রিয় সঙ্গীতশিল্পীকে।