হিন্দোল দে, কলকাতা : খাস কলকাতার আনন্দপুরের গেস্ট হাউসে এক তরুণীর রহস্যমৃত্যু ঘিরে ঘোর চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, গত কয়েক বছরে, আনন্দপুরের এই এলাকায় একের পর এক পানশালা গজিয়ে উঠেছে। সেই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে অসামাজিক কাজকর্ম। এলাকার সাধারণ মানুষ ত্রস্ত। দুই দিন অন্তর নানা অসামাজিক কাজকর্মের খবর মিলছে এই এলাকায়। কখনও উদ্ধার হচ্ছে দেহ। কখনও খুনের অভিযোগ। কখনও আবার পানশালার অশান্তির প্রভাবে থমথম করছে এলাকা। মঙ্গলবার আনন্দপুরে এক তরুণীর রহস্যমৃত্যু ঘিরে এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশ সূত্রে খবর, মৃতার নাম শ্রেয়া ভার্মা। বাড়ি লুধিয়ানায়। পেশায় বার ডান্সার তিনি। অন্যদিকে, এই আনন্দপুরেরই নোনাডাঙা এলাকার একটি ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার হয়েছে গৃহবধূর ঝুলন্ত দেহ। ওই একই দিনে আবার, আনন্দপুরের এক পিকনিক স্পট থেকে এক অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির দেহ উদ্ধার ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়ায়। দুই ঘটনাতেই মৃত্যুর কারণ এখনও জানা যায়নি। সব মিলিয়ে এলাকাজুড়ে থমথমে পরিবেশ। উদ্বেগে এলাকার পুরনো বাসিন্দারা।
পুলিশ সূত্রে খবর, মৃত শ্রেয়া ভার্মা গভীর রাত পর্যন্ত মদ্যপান করেন সোমবার। পরদিন সকালে প্রবল অস্বস্তিবোধ হয়। তারপরই মৃত্যু হয় তাঁর। পুলিশ সূত্রে খবর, মৃতার নাম শ্রেয়া ভার্মা(২৭)। বাড়ি পঞ্জাবের লুধিয়ানায়। পেশায় বার ডান্সার তিনি। পুলিশ সূত্রে খবর, রবিবার রাতে শ্রেয়া ও তাঁর সঙ্গী মহম্মদ চাঁদ এই ব্যক্তি HCN গেস্টহাউসে ওঠেন। গভীর রাত পর্যন্ত মদ্যপানও করেন একসঙ্গে। পরের দিন সকালে হঠাৎ অসুস্থ বোধ করেন শ্রেয়া। তড়িঘড়ি তাঁকে ফর্টিস হাসপাতালে নিয়ে যান তাঁর সঙ্গী মহম্মদ চাঁদ। সেখানেই শ্রেয়াকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়। রহস্য়জনকভাবে এই ঘটনার পর থেকে মৃতার সঙ্গী মহম্মদ চাঁদ পলাতক।
অন্যদিকে, এই এলাকারই নোনাডাঙার একটি ফ্ল্যাট থেকে এক গৃহবধূর দেহ উদ্ধার ঘিরেও চাঞ্চল্য ছড়ায় এদিন। পুলিশ সূত্রে খবর, ২১ বছর বয়সী ওই বধূর নাম মৌসুমী মণ্ডল। মাত্র এক বছর আগে বিয়ে হয়। সোমবার সকালে ঘর থেকেই ওই গৃহবধূর দেহ উদ্ধার করেন তাঁর স্বামী। তিনি জানান, রবিবার, আত্মীয়র বাড়িতে খাওয়া দাওয়া করতে গিয়েছিলেন। পরের দিন দরজা ভেঙে স্ত্রীকে ওই অবস্থায় দেখেন । ঝগড়ঝাটি কিছুই হয়নি। কী করে কী হল বুঝতে পারছেন না বলেই তাঁর দাবি।
আবার, আনন্দপুরের একটি পিকনিক স্পট থেকেও এক অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির পচাগলা দেহ উদ্ধার করেছে আনন্দপুর থানার পুলিশ।
একের পর এক এই ধরনের ঘটনায় বিরক্ত এলাকার মানুষ। স্থানীয় বাসিন্দা রাহুল সিংহ জানাচ্ছেন, 'এরকম একটা লোকালয়ে এসব ঘটনা ঘটবে কেন..রাত হলেই সব ছেলেমেয়েদের রুম দরকার হয় এখানে'। আরেক বাসিন্দারও দাবি, 'এখানে রেগুলার ঝুটঝামেলা হয়, এই তো কিছুদিন আগেই একটা মেয়েকে মারধর করা হচ্ছিল। পুলিশের নজরদারি নেই, এই নিয়ে ওরা শুধু টাকা নেয় আর চলে যায়'
সপ্তাহখানেক আগেই আনন্দপুরের নোনাডাঙা খাল থেকে উদ্ধার হয় জোড়া মৃতদেহ। প্রথমে রোহিত আগরওয়াল নামে এক যুবকের দেহ, তারপর রণিতা বৈদ্য নামে এক তরুণীর দেহ উদ্ধার হয়। পুলিশ সূত্রে খবর, রোহিত আগরওয়ালের কাছে স্কুটার চালানো শিখছিলেন রণিতা বৈদ্য। সোমবার রাতের সিসিটিভি ক্য়ামেরার ফুটেজে নোনাডাঙা খালের কাছে শেষবার একসঙ্গে দেখা গিয়েছিল তাদের। এর পর ঠিক কী হয়েছিল, তা নিয়ে এখনও রয়ে গেছে ধোঁয়াশা। এমন একের পর এক ঘটনায় অস্বস্তিতে আনন্দপুরের বাসিন্দারা।