কলকাতা: মৃত্য়ুপুরী আনন্দপুর, নাজিরাবাদে অগ্নিকাণ্ডে মৃত বেড়ে ১৬ । ভস্মীভূত গোডাউন থেকে আরও ৫ টি মৃতদেহ উদ্ধার, খবর পুলিশ সূত্রে । ওয়াও মোমোর গোডাউন থেকে উদ্ধার আরও দেহ। ১৪ জনের পরিবার নিখোঁজের অভিযোগ জানিয়েছে, দাবি বারুইপুর জেলা পুলিশের। নিখোঁজ মোট ২৬ জন, দাবি স্থানীয়দের।
ধিকিধিকি আগুনের আঁচ।বাতাসে পোড়া গন্ধ। ইতিউতি ছড়িয়ে পোড়া হাড়গোড়ের টুকরো। পকেট ফায়ার বোজানোর মরিয়া চেষ্টা!আনন্দপুরের কাছে নাজিরাবাদের গোডাউনে আগুন লাগার পর কাটতে চলল ২দিন।মঙ্গলবার সকালেও সেখানে দেখা গেল এই ছবি। কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হযেছে গোটা কারখানা চত্বর। নিখোঁজদের পরিবার গত দু'রাত ধরে দুশ্চিন্তায় দু'চোখের পাতা এক করতে পারেনি।এর মধ্য়ে প্রশ্ন উঠছে, গোডাউনে পড়ে থাকা এই হাড়ের টুকরো কাদের? কী তাদের পরিচয়? জানতে এখন ভরসা কেবল DNA টেস্ট।নিখোঁজ কর্মীর ভাই স্বপনকুমার সাঁউ বলেন, আমরা মৃতদেহ পাচ্ছি না। মালিকের যে একটা ফোন করা কিংবা এসে দাঁড়ানো মালিককেই দেখতে পাচ্ছি না। রবিবার রাত তিনটে নাগাদ দাউদাউ করে জ্বলতে শুরু করে নাজিরাবাদের এই দুই গুদাম, চোখের নিমেষে নিউ পুষ্পাঞ্জলি ডেকরেটার্সের গোডাউনে আগুন ছড়িয়ে পড়ে পাশে থাকা ওয়াও মোমো কারখানায়। দমকল আধিকারিক বলেন, দাহ্য পদার্থ ছিল ডেকরেটার্সের দ্রব্য থাকায় ওরা চট করে সময় দেয় না। ফায়ার এক্সটিংগুইসার ম্যাটেরিয়াল কিছু চোখে পড়েনি। এক্সিট থাকলে ভাল হত। রবিবার গভীর রাতে আগুন লাগে!আর মঙ্গলবার সকালে ঘটনাস্থলে পৌঁছন দমকলমন্ত্রী সুজিত বসু।প্রায় ৩০ ঘণ্টা পর!দমকলমন্ত্রী সুজিত বসু বলেন, এই জায়গাটা একটা জতুগৃহের মতো, আমরা যা দেখলাম। ফায়ার প্রোটেকশনের জন্য যা যা দরকার ছিল, আমরা দেখিনি। যা যা আইনগত ব্যবস্থা আছে, এর বিরুদ্ধে সবকিছু নেওয়া হবে। বিজেপি বিধায়ক অশোক দিন্দা বলেন,শুধু ফায়ার ব্রিগেড রেখে দিয়েছে। সেখানে হাজার হাজার কোটি টাকা ধ্বংস হচ্ছে রাজ্য় সরকারের। কিন্তু কাজের কাজ কিছু হচ্ছে না। মন্ত্রীর গাড়ি ঢুকতে দেখেই গাড়ির সামনে,ঝান্ডা হাতে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা। সুজিত বসু ঘটনাস্থল থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর পাল্টা স্লোগান দিতে শুরু করেন তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকরা।পরে বিক্ষোভ দেখায় কংগ্রেসও।