রুমা পাল, কলকাতা : জন্মের আগেই মিলেছে জন্মের শংসাপত্র? SIR-প্রক্রিয়ার একেবারে শেষলগ্নে এসে এমনই আজব কাণ্ড চোখে পড়ল নির্বাচন কমিশনের। কমিশন সূত্রে খবর, বরানগর বিধানসভা এলাকায় এক ভোটারের জন্মের তারিখ ১৯৯৩ সালের ৬ মার্চ। অথচ, ১৯৯৩ সালের ৪ মার্চ অর্থাৎ জন্মের ২ দিন আগেই ইস্যু করা হয়েছে শংসাপত্র। কীভাবে জন্মের আগেই জন্মের শংসাপত্র তৈরি করা সম্ভব? উঠছে প্রশ্ন। SIR স্ক্রুটিনি করতে গিয়ে এমনই তথ্য পেয়ে কার্যত বিস্মিত হয়েছেন কমিশনের উচ্চপদস্থ আধিকারিকেরা। এবার ওই সংশ্লিষ্ট ভোটারের বিরুদ্ধে আইনানুগ পদক্ষেপ নিতে ERO-কে নির্দেশ দিল নির্বাচন কমিশন। এমনকী সূত্রের খবর, ওই ব্যক্তির নাম চূড়ান্ত ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হবে। 

Continues below advertisement

যে ব্যক্তি জন্মগ্রহণই করলেন না, তাঁর বার্থ সার্টিফিকেট ২ দিন কীভাবে ইস্যু হয়ে গেল? উঠছে প্রশ্ন। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, SIR-এর চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের আগে প্রকাশ্যে একের পর এক অসঙ্গতি প্রকাশ্যে এসেছে। সুপার চেকিংয়ে ধরা পড়ছে একের পর এক অসঙ্গতি। দক্ষিণ ২৪ পরগনায় জমা পড়েছে 'অস্তিত্বহীন' সার্টিফিকেট। দক্ষিণ ২৪ পরগনার মোহনপুর পঞ্চায়েতের নামে 'ব্লাড রিলেশন সার্টিফিকেট'। এই ধরনের সার্টিফিকেটের কোনও অস্তিত্বই নেই, দাবি নির্বাচন কমিশনের। চুড়ান্ত তালিকা প্রকাশের আগে স্ক্রুটিনিতে এসেছে চমকে দেওয়ার মতো সব তথ্য। 

বেশ কিছু অসঙ্গতি ধরা পড়েছে। মেমারিতে এনুমারেশন ফর্ম ফিলআপ করা হয়েছে। জন্ম তারিখের আগে লেখা হয়েছে চারটি 'এক্স'। জন্ম ১৯৮৭ সালে। এটা কী করে সম্ভব? মেটিয়াবুরুজে একজনের ১০টি সন্তান। বেশিরভাগ সন্তানের জন্ম পয়লা জানুয়ারি। একজন সন্তানের সঙ্গে আরেকজনের বয়সের ফারাক ১ মাস। এটাই বা কী করে হতে পারে? রয়েছে একাধিক অসঙ্গতি। শুধু ভোটার নয়, একাধিক ফরম্যাট নির্বাচন কমিশনের বলে চালিয়ে দেওয়া হচ্ছে। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে এগুলি কোনওটাই বৈধ নয়, বেআইনি। শুনানি প্রক্রিয়া শেষের পথে। চলছে সুপার চেকিং। নজরে আসছে অনেক নথিই বৈধ নয়। এগুলি ইচ্ছাকৃত ভুল নাকি অন্য কিছু, খতিয়ে দেখতে হবে ইআরও- দের। আর সেই যাচাইয়ের পর অবস্থা বুঝে নির্দিষ্ট ভোটারের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে বলেও জানা গিয়েছে নির্বাচন কমিশন সূত্রে। 

Continues below advertisement

'আনম্যাপড্' ভোটারদের তালিকায় থাকার শেষ সুযোগ দিচ্ছে নির্বাচন কমিশন? 'আনম্যাপড্ ভোটারদের বৈধতা প্রমাণ করতে একটি ফিল্ড এনকোয়ারি রিপোর্ট হাতে পাওয়া গেছে', যেখানে ৫ জন বৈধ ভোটারের স্বাক্ষর করার জায়গা রয়েছে, দাবি BLO ঐক্য মঞ্চের। ওই রিপোর্টে রয়েছে সংশ্লিষ্ট BLO, সুপারভাইজার ও ERO-র সইয়ের নির্দিষ্ট জায়গা। এই নথি সংক্রান্ত সমস্ত দাবি খারিজ করেছে নির্বাচন কমিশন। কোথা থেকে মিলল এই সংক্রান্ত নথি? খতিয়ে দেখা হচ্ছে, জানিয়েছে কমিশন।