কলকাতা : পালাবদলের পর দখল হওয়া পার্টি অফিস ভাঙলেন বাড়ির মালিক। বেলেঘাটার মাঠপুকুরের 'বেআইনিভাবে পার্টি অফিস' তৃণমূলের। পালাবদলের পর সেই পার্টি অফিসে গেরুয়া রং করে দেয় তৃণমূল, দাবি মালিকের। ঘটনাস্থলে যান বিজেপি নেত্রী অর্চনা মজুমদার ও ট্যাংরা থানার পুলিশ। পুরনো জমি ফেরত পেয়েই 'বেআইনি পার্টি অফিস' ভাঙলেন বাড়ি মালিক।

Continues below advertisement

জমির মালিক ঝর্ণা কুণ্ডু বলেন, "২০১১-তে তৃণমূল এসে আমার জায়গাটা জোর করে দখল করে নেয়। বলে, ক্লাব করব। কিন্তু, ক্লাব তো হয়ই না। এখানে পার্টি অফিস করা হয়। মদের আসর বসে। ছেলে-মেয়ে একসঙ্গে রাত ২টো অবধি...জোরে ডিজে বাজানো হয়। আমাকে অস্বস্তি করে মারে। আমার বাড়িতে জোরজবরদস্তি করে...এটুকু দিয়েছি আমি, তাও ওদের পোষাচ্ছে না। সবথেকে বদমাস হচ্ছে রাজু ঘোষ। আর মিন্টু, বাচ্চু গাঙ্গুলী। এই তিনজন। তারা গিয়ে আমার ঘরে সমস্ত রেখে আসে। আমরা কিছু বলতেই পারি না। কারণ, আমি, আমার মেয়ে, আমার স্বামী...কী বলব বলুন তো ! যে-ই ৪ তারিখে বিজেপি জিতল, ওরা নিজেরা এসে...বাচ্চু গাঙ্গুলী, ওর বড় ছেলে...তৃণমূলের লোকজন সমস্ত...নিজেরা সমস্ত ভাঙল। গেরুয়া রং করেছে। আমাদের শুভেন্দু অধিকারীকে অপমান করেছে। ৪ তারিখে রং করে শুভেন্দু অধিকারী, প্রধানমন্ত্রীর ছবি টাঙিয়ে...ওরা দেখাচ্ছে আমরা বিজেপি।"

জমি মালিকের মেয়ে পায়েল কুণ্ডু বলেন, "৪ তারিখের আগে এখানে পুরোপুরি তৃণমূলের কার্যালয় ছিল। এখান থেকেই তৃণমূলের আশপাশের কাজকর্ম চালাত। ৪ তারিখে যখন ভোটে বদল হল, ওরাও নিজেদের চেঞ্জ করে নিল। রং করে নিল। নিজেরাই ভাঙচুর করে নিল...মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের যা ছবি ছিল সব নিজেরাই ভাঙচুর করে, নিজেরাই রং চেঞ্জ করে নিল। তারপরে লেখাগুলোও সব মুছে দিয়েছে।" 

Continues below advertisement

এ প্রসঙ্গে বিজেপি নেত্রী অর্চনা মজুমদার বলেন, "আমাদের রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যর কাছে ওঁরা গিয়েছিলেন। সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারের। তাঁদের পুরো বাড়ির সামনেটা জবরদখল করে দোতলায় প্রথমে কার্যালয়, তারপর ব্যায়াম সমিতির নামে, বিজেপির নামে চালিয়ে দেওয়া...এই দখলদারির বিরুদ্ধে বিজেপি। বলা হয়েছে যে, বেআইনি দখলদারি মুক্ত করতে হবে এবং বিজেপির নাম লাগিয়ে, বিজেপির রং লাগিয়ে কেউ যদি বেআইনি কাজ করে, আমরা সঙ্গে সঙ্গে স্পটে থেকে যারা আসল অধিকারী-মালিক, তাঁদের আমরা এই জমিটা ফেরত দিয়ে দেব। আমরা চাই, গ্রাসরুট থেকে এগুলো মুক্ত হোক। তাই পাড়ায় পাড়ায় সর্বত্র আমাদের এই অভিযান। যেখানেই বেআইনি দখলদারি আছে, আমরা মুক্ত করছি।"