কলকাতা: দূরপাল্লার এক্সপ্রেস ট্রেনে দুঃসাহসিক ছিনতাই। দূরপাল্লার ট্রেনের সংরক্ষিত শীততাপ নিয়ন্ত্রিত কামরায় দুঃসাহসিক ছিনতাই। আতঙ্কে যাত্রীরা। শনিবার ভোররাতে ডাউন দার্জিলিঙ মেলের বি-১ কামরায় এনজেপি থেকে ফিরছিলেন হাওড়ার ডোমজুড়ের প্রশস্থের ১৯ জনের একটি দল। ভোর ৩ টে নাগাদ চলন্ত ট্রেনের ওই কামরার ২০ নম্বর সিটের যাত্রী শ্যামলী সাহার ব্যাগটি হঠাৎই এক দুষ্কৃতি ছিনিয়ে নিয়ে চলন্ত ট্রেন থেকে ঝাঁপিয়ে চম্পট দেয়। অন্যান্য যাত্রীরা 'চোর চোর' বলে চিৎকার করে উঠে দুষ্কৃতী ধরার চেষ্টা করলেও নিমেষের মধ্যে সে ওই ব্যাগ নিয়ে পালিয়ে যায়।
শ্যামলী সাহার স্বামী গৌতম সাহার বলেন, 'ওই ব্যাগে নগদ প্রায় ৫০ হাজার টাকা, দামি একটি মোবাইল ফোন ও আধার-কার্ড, প্যান-কার্ড ছিল। পুরোটাই খোয়া গেছে।' বর্ধমান স্টেশনে ঘটা এই ঘটনার জেরে ক্ষোভে ফেটে পড়মন ওই বগির যাত্রীরা। তাঁরা বলেন, "চলন্ত ট্রেনের এসি কামরাতেও ছিল না কোনও নিরাপত্তারক্ষী। অবাঞ্ছিত লোকজনে ভর্তি ছিল ট্রেন। অনেক হকারেরও আনাগোনা ছিল। কামরার অ্যাটেনডেন্ট রাতের বেলাও দরজা খুলে রেখেছিলেন। নিরাপত্তার গাফিলতির কারণেই এমন ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটল।'
এদিকে, পুরো ঘটনার বিবরণ সহ ট্যুইট করে রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবকে জানিয়েছেন রেলযাত্রীরা। শিয়ালদহ স্টেশনে নেমে ক্ষোভে ফেটে পড়েন তাঁরা। রেল পুলিশের কাছে অভিযোগ জানাতে গেলও তাদের সহায়তা করা হয়নি বলে অভিযোগ। অবশেষে তাঁরা শিয়ালদহ জিআরপিতে অভিযোগ দায়ের করেন। ঘটনার জেরে আতঙ্কিত যাত্রীরা বলেন, 'এসি কামরাতেও ট্রেন-সফর এখন আতঙ্কের হয়ে গেছে। দিন দিন ভাড়া বাড়ালেও যাত্রীদের নিরাপত্তার বিষয়ে রেল কর্তৃপক্ষের কোনও হেলদোল নেই।' জানা গিয়েছে ডোমজুড় থেকে ১৯ জনের একটি পর্যটকের দল গত ২৭ শে ডিসেম্বর গ্যাংটক এবং পেলিং এর উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিল। শনিবার তারা বাড়ি ফেরেন। ছিনতাই এর ঘটনার জেরে এখনো তাদের চোখে মুখে আতঙ্কের ছবি স্পষ্ট।