কলকাতা: আজ নেতাজির জন্মদিন। সাড়ম্বরে পালিত হচ্ছে বাংলা-সহ সারা দেশে। উযদাপনের মাঝেই এল খারাপ খবর। ফের মর্মান্তিক ঘটনার মুখোমুখী কলকাতা মেট্রো। গড়িয়ায় মেট্রোর সামনে ঝাঁপ, টালিগঞ্জ থেকে নিউ গড়িয়া পর্যন্ত আপ ও ডাউন লাইনে মেট্রো চলাচল বন্ধ। দক্ষিণেশ্বর থেকে টালিগঞ্জ পর্যন্ত চলছে মেট্রো রেল।
চরম মানসিক চাপের মাঝে, 'পাশে আছি', হাত ধরে বলার মানুষগুলি কি কমে যাচ্ছে এশহরে ? এপ্রশ্ন ফেরে বারবারই। এদিকে একের পর এক মরণঝাপের ঘটনায়, একাধিক সতর্কতা অবলম্বন করেছে কলকাতা মেট্রো। ইস্ট ওয়েস্টে রয়েছে বিশেষ গেট। যা মেট্রো আসলেই খোলে। কলকাতার সবমেট্রো স্টেশনগুলিতেই রয়েছে বিপদসীমার সাদা রেখা। সর্বক্ষণ রেলপুলিশের নজরদারি। সক্রিয় সিসিটিভি। তারপরেও আটকানো যাচ্ছে না এই ঘটনাগুলি। নতুন বছরে ফের মর্মান্তিক ঘটনার মুখোমুখি হতে হল এশহরকে।
গত কয়েকবছর নয় নয় করে কম আত্মঘাতী হওয়ার ঘটনা ঘটেনি। কখনও কখনও যাত্রী কিংবা কর্তব্যরত রেল পুলিশের তৎপরতায় কোল ফাঁকা হয়নি মায়েদের। বিশেষ করে এদিনের কথা আলাদা হলেও, অফিস টাইমে এহেন ঘটনায়, কম ঝক্কিও পোয়াতে হয়নি নিত্য যাত্রীদের। এধরণের খবরে বুকে কাঁপে বাড়িতে অপেক্ষারত সদস্যগুলির। ফোন বাজলেও বুক ধড়ফড় শুরু হয়। চেনা কারও কিছু হল না তো ? কিন্তু অচেনা হলে, দায়বদ্ধতা কমে বুঝি ? এ প্রশ্নও ঘোরে যাত্রীদের মুখেমুখে। কারণ এই শহরই দেখেছে, মহানগরের রাস্তায় মাঝা ভেঙে পড়ে থাকা যাত্রীকে কেউ ছুঁয়েও দেখেনি। যদিও এইমুহূর্তে অনেকটাই তৎপর প্রশাসন তথা রেল। কার মনের ভিতর কী চলছে, সে জানান যে দেয় না চেকিং মেশিনগুলি!
অপরদিকে, নিত্যযাত্রীদের ভোগান্তি মেটাতে, ব্যস্ত সময়ে নোয়াপাড়া থেকে নিউ গড়িয়া পর্যন্ত অতিরিক্ত মেট্রো চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সম্প্রতি মেট্রো রেল কর্তৃপক্ষ। অন্যদিকে, বউবাজার মেট্রোর সিগনালিং-এর কাজের জন্য ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৩ মার্চ - দেড় মাস সম্পূর্ণ বন্ধ থাকতে পারে ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রো। পাশাপাশি, ব্যারাকপুরের সাংসদের উদ্য়োগে আশার আলো দেখছে নোয়াপাড়া থেকে ব্যারাকপুর মেট্রো। রেলমন্ত্রী থাকাকালীন নোয়াপাড়া থেকে ব্যারাকপুর মেট্রোর ঘোষণা করেন তৎকালীন রেলমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়।
আরও পড়ুন, গত ৮ দিনে এই নিয়ে ৫ , ফের হেলে পড়ল বহুতল ! আতঙ্কিত বাসিন্দারা
তবে, এতগুলো বছরে বিন্দুমাত্র অগ্রগতি হয়নি কাজের। নোয়াপাড়া থেকে ব্যারাকপুর মেট্রোয় বিটি রোড বরাবর লাইন হওয়ার কথা। বিটি রোডের নীচে টালা-পলতা জল প্রকল্পের ৬টি লাইন। সেসময় বলা হয়, এখান থেকে মেট্রো লাইন পাতা হলে ব্যাহত হতে পারে বিস্তীর্ণ অঞ্চলের জল সরবরাহ। সেই প্রকল্পই এতবছর পর সামান্য আশার আলো দেখছে ব্যারাকপুরের সাংসদ পার্থ ভৌমিকের রেলমন্ত্রীকে পাঠানো চিঠিতে। এই প্রকল্পের অগ্রগতি চাওয়ার পাশাপাশি শুধু ব্যারাকপুরই নয় কল্যাণী অবধি মেট্রোর দাবি জানিয়েছেন তিনি।