ময়ূখ ঠাকুর চক্রবর্তী, কলকাতা : কলকাতা পুরসভার অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার গ্রেফতার। তাঁকে গ্রেফতার করল রাজ্য পুলিশের দুর্নীতি দমন শাখা। ধৃতের নাম পার্থ চোঙদার। তাঁর বিরুদ্ধে হিসাব বহির্ভূত ৫ কোটি টাকা বিভিন্ন অ্যাকাউন্টে থাকার অভিযোগ উঠেছে। দুর্নীতি দমন আইনে গ্রেফতার করা হয়েছে পার্থ চোঙদারকে। দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদের পর গ্রেফতার করা হয় এই অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ারকে। প্রিভেনশনস অফ কোরাপশন অ্যাক্ট বা দুর্নীতি দমন আইনে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে। যখন সরকারি আধিকারিক বা কর্মীরা দুর্নীতিতে জড়ান, তখন সেই সরকারি কর্মীর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা হয়। প্রিভেনশনস অফ কোরাপশন অ্যাক্ট মামলা হয়।
অভিযোগ উঠেছে, ৫ বছরে বেতন বাবদ এই পার্থ চোঙদারের থাকার কথা ৫৬ লক্ষ টাকার কাছাকাছি। কিন্তু দেখা গেছে, হিসাব বহির্ভূতভাবে প্রায় ৫ কোটি ৮৬ লক্ষ টাকা এই অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ারের অ্যাকাউন্টে ট্রান্সকশন হয়েছে। বিভিন্ন জায়গায় জমা হয়েছে। এই অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ারের শ্বশুরবাড়ি মালদায়। মালদায় শ্বশুর-শাশুড়ির নামে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট করেছেন। অথচ অ্যাকাউন্টটা করেছেন, নিউটাউনে তাঁর বাড়ির সামনে। এছাড়াও স্ত্রীর নামে তিনি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট করেছেন। সেখানেও মোটা অঙ্কের টাকা তিনি জমা করেছেন। স্ত্রীর নামে রিয়েল এস্টেট কোম্পানিতেও বিনিয়োগ করেছেন। এরকমই বিভিন্ন শেল কোম্পানি তৈরি করে বিনিয়োগ করা হয়েছে, এছাড়া বিভিন্ন মিউচুয়াল ফান্ড, পোস্ট অফিস, বিভিন্ন অ্যাকাউন্ট তৈরি করে সেখানে বিশাল পরিমাণ টাকা তিনি জমা করে রেখেছেন। সেই টাকার উৎস কী তা নিয়ে দুর্নীতি দমন শাখার আধিকারিকদের জানাতে পারেননি। এই পরিস্থিতিতে গোয়েন্দারা তাঁকে গ্রেফতার করেন।
এদিকে পাসপোর্ট জালিয়াতির নেটওয়ার্ক কোথায় কোথায় ছড়িয়ে, তার তদন্তে নেমে মঙ্গলবার বিকেলে ব্যবসায়ী বিনোদ গুপ্তর খড়দার বাড়িতে হানা দেন ED-র আধিকারিকরা। তল্লাশিতে ইডির হাতে নাকি উঠে এসেছে এমন সব তথ্য, যা কার্যত তাক লাগানো। তল্লাশি পর্বের পর চাঞ্চল্যকর দাবি করেছে ED। এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট সূত্রে খবর, ফরেন কারেন্সি এক্সচেঞ্জের সঙ্গে যুক্ত ওই ব্যবসায়ী গত ১০ বছরে ৯০০ বার ব্যাঙ্কক গিয়েছেন ! সপ্তাহে ২ বার করে থাইল্যান্ডের রাজধানী শহরে তাঁর সফর ছিল বাঁধা। ED সূত্রে দাবি, বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই ফরেন কারেন্সি এক্সচেঞ্জের কারবার করতেন ব্যবসায়ী বিনোদ গুপ্ত। ED সূত্রে আরও দাবি, ব্যবসায়ী জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন, গ্রসারি সামগ্রী বিক্রির জন্যই ঘন ঘন ব্যাঙ্কক যেতেন তিনি। সত্যিই কি তাই? কেন এতবার ব্যাঙ্কক যাতায়াত? অবৈধভাবে ফরেন কারেন্সি এক্সচেঞ্জের জন্য? ব্যাঙ্কক থেকে সোনাও আনা হয়েছে অবৈধভাবে? ED সূত্রে খবর, তদন্তে সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।