কলকাতা: নাজিরাবাদের ঘটনাস্থল ও তার আশপাশের ১০০ মিটারের মধ্যে ৫ জনের বেশি লোকের জমায়েত নিষিদ্ধ করল প্রশাসন। আজ নাজিরাবাদে যাচ্ছেন শুভেন্দু অধিকারী। ২০ জন বিধায়ককে নিয়ে ঘটনাস্থলে যাবেন বলে জানিয়েছেন বিরোধী দলনেতা। ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পরে নরেন্দ্রপুর থানা পর্যন্ত মিছিল করার কথা রয়েছে তাঁর। তার আগে বিজ্ঞপ্তি জারি করে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১৬৩ ধারা জারি করল প্রশাসন। নাজিরাবাদের ঘটনাস্থলে জমায়েত হলে তথ্য, প্রমাণ নষ্ট হতে পারে এবং সাধারণ মানুষের অসুবিধা হতে পারে বলে মনে করছে পুলিশ।

আরও পড়ুন, "অভিভাবকদের না জানিয়েই সিঙ্গুরে মুখ্যমন্ত্রীর সভায় নিয়ে যাওয়া হয় স্কুল পড়ুয়াদের"! গুরুতর অভিযোগ প্রকাশ্যে

আনন্দপুরের গুদামে শুধুই হতাশা-শোক-কান্না , জীবন্ত দেখতে পাওয়ার আশাটুরকু আর নেই!কিন্তু প্রিয়জনের দেহাংশটুকু অন্তত পাওয়া যাবে এই আশায় চাতকের মতো অপেক্ষা করছে বহু পরিবার। আনন্দপুরের গোডাউনে কাজ করতেন এমন বহু শ্রমিক এখনও নিখোঁজ। যাদের মধ্যে অনেকেরই বাড়ি পূর্ব মেদিনীপুরে। তমলুকের নিখোঁজ শ্রমিক গোবিন্দ মণ্ডল, রামপদ মণ্ডল, ও ক্ষুদিরাম দিন্দার পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন ময়নার বিজেপি বিধায়ক অশোক দিন্দা। আনন্দপুরের গোডাউনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর, ময়নার বাসিন্দা নিখোঁজ ২ শ্রমিক বুদ্ধদেব জানা ও সৌমিত্র মণ্ডলের পরিবারের সঙ্গেও দেখা করেন দিন্দা। বরাতজোরে বেঁচে ফেরা অগ্নিকাণ্ডে জখম বিষ্ণুপদ খুঁটিয়ার সঙ্গেও দেখা করেন বিজেপি বিধায়ক! ময়না বিজেপিবিধায়ক অশোক দিন্দা বলেন, ময়না থেকে আজকে ৯ জন নিখোঁজ। ৯টা পরিবারে গেলাম। একই জিনিস। পেটের দায়ে তাঁদেরকে ছুটতে হয়। সিজনের কাজে, ফুলের কাজে।  মমতা ব্যানার্জি আজকে ৬০ ঘণ্টা হয়ে গেল এখনও পর্যন্ত মাত্র আধ ঘণ্টাও লাগবে না, ১৫-২০ মিনিট লাগবে ওনার বাড়ি থেকে ওই জায়গায় আসার জন্য। আসে না।  আনন্দপুরের গোডাউনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার, প্রায় ৩০ ঘণ্টা পর, ঘটনাস্থলে পৌঁছেছিলেন দমকলমন্ত্রী। কিন্তু মুখ্য়মন্ত্রী কেন যাননি? এই প্রশ্ন লাগাতার তুলছে বিজেপি। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেন, 'সরকার চোখ বন্ধ করে আছে এবং মুখ্যমন্ত্রী তাঁর বাড়ির অদূরে এই ঘটনা ঘটার পরও তিনি একাধিক আনন্দ অনুষ্ঠান, রাজনৈতিক কর্মসূচি, আইপ্যাক প্রণীত নানা ধরনের নির্বাচনী নাটক, ড্রামাতে অংশগ্রহণ করছেন। কিন্তু আনন্দপুরে তিনি যাওয়ার একবারও সময় পাননি। পরিবারগুলোরও খোঁজ নেওয়ার সময় পাননি। '

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায় বলেন,কালকে আমাদের কিছু বন্ধু প্রাইভেট কোম্পানিতে কাজ করতে গিয়ে মারা গিয়েছেন। আমি ববিকে পাঠিয়েছিলাম। অরূপকে পাঠিয়েছিলাম। তাদের পরিবারকে ১০ লক্ষ টাকা করে ওয়াও মোমোও দিচ্ছে এবং ডেকরেটাররাও ৫ লক্ষ টাকা করে দিচ্ছে। পুলিশকে আমি বলেছি তাদের পরিবারকে একজন করে সিভিকে চাকরি দেওয়ার জন্য। আমরা কিন্তু আপনাদের মতো অমানবিক নই, এটা মাথায় রাখবেন।'