আবির দত্ত, কলকাতা : ভোটের আগে বাঘাযতীনের পূর্ব ফুলবাগান এলাকায় শ্যুটআউট। গুলিতে এক তৃণমূলকর্মীর মৃত্য। মৃতের নাম রাহুল দে। বাঘাযতীনের এক বহুতলের ছাদে অন্তত ৩ রাউন্ড গুলি চলার খবর পাওয়া গিয়েছে। বুধবার রাতে সাড়ে ১২টা নাগাদ ঘটেছে এই দুর্ঘটনা। ঘটনার সময় বহুতলের ছাদে পার্টি চলছিল বলে খবর। জানা গিয়েছে, জিৎ মুখোপাধ্যায় নামে এক পরিচিতর বাড়িতে গিয়েছিলেন রাহুল দে। অনেকদিন যোগাযোগ ছিল না জিৎ এবং রাহুলের। গতকাল আচমকাই রাহুলকে ফোন করে ডাকেন জিৎ। কেন এতদিন ২ জনের যোগাযোগ ছিল না, কেনই বা গতকাল হঠাৎ রাহুলকে ফোন করেছিলেন জিৎ, উত্তর খুঁজছে পুলিশ। 

Continues below advertisement

মৃতের ভাইয়ের চাঞ্চল্যকর দাবি, 'দাদা বলেছিল অন্ধকারে হঠাৎ কিছু ছেলে ছাদে উঠে আসে। কে কে আছে, কিছু একটা নাম ধরে জিজ্ঞেস করে গুলি চালায়। নিজের বাড়ির ছাদে ডেকে এনে ফায়ারিং। এটা তো চক্রান্তই লাগবে।' পিয়ারলেস হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সময় মৃত্যু হয়েছে তৃণমূলকর্মী রাহুল দে- র। রাজনৈতিক শত্রুতার জেরে খুন নাকি ব্যক্তিগত শত্রুতা? তদন্ত করছে পুলিশ। ইতিমধ্যেই জয়ন্ত নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গতকালের ঘটনায় এই ব্যক্তি যুক্ত বলে অনুমান। ধৃতকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। খতিয়ে দেখা হচ্ছে সিসিটিভি ফুটেজ। আর কে বা কারা এর সঙ্গে যুক্ত, খোঁজ চালাচ্ছে পুলিশ। জানা গিয়েছে, জিৎ মুখোপাধ্যায়ও সক্রিয় তৃণমূলকর্মী। তাঁর বিরুদ্ধেও অনেক অভিযোগ রয়েছে আগে থেকেই। আপাতত আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এই যুবক। 

বাঘাযতীন শ্যুটআউটে নিহত তৃণমূলকর্মী রাহুল দে- র ভাই জানিয়েছেন, জিৎ মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে দীর্ঘদিন যোগাযোগ ছিল না তাঁর দাদার। কোনও ঝামেলা ছিল না। তবে কথা হত না বহু বছর। কেন গতকাল আচমকা জিৎ ফোন করে রাহুলকে তাঁর ফ্ল্যাটে ডেকে ছিলেন, তা কোনওভাবেই স্পষ্ট নয় মৃতের ভাইয়ের কাছে। তিনি বলছেন, 'দাদা কীভাবে ওই ফ্ল্যাটের ছাদে গেল, বুঝলাম না।' ওই ফ্ল্যাটের পাশে ছিল বেশ কিছু বাইক। সেগুলিকে বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ। অনুমান, এইসব বাইকে চড়েই এসেছিল দুষ্কৃতীরা। পালানোর সময় বাইক ফেলেই পালিয়ে যায় তারা। এইসব বাইকে ভাঙচুরও চালানো হয়েছে। বাঘাযতীনের যে এলাকায় এই গুলি চলার ঘটনা ঘটেছে সেটি যথেষ্ট ঘন জনবসতিপূর্ণ এলাকা। আতঙ্কে রয়েছেন এলাকাবাসী। এলাকার সমস্ত সিসিটিভির ফুটেজ সংগ্রহ করছে পুলিশ। 

Continues below advertisement