এ যেন "শাপমোচন"। অবশেষে 'বিচারাধীন' থেকে বৈধ ভোটারের স্বীকৃতি পেলেন শতবর্ষের শেখ ইব্রাহিম। একসময় ভারতের হয়ে স্বাধীনতার লড়াই লড়েছিলেন তিনি। আর আজ, তিনি লড়লেন তাঁর অস্তিত্বের লড়াই। পূর্ব বর্ধমানের জামালপুরের শেষ ইব্রাহিম চোখের সামনে দেখেছিলেন হাওড়া ব্রিজ তৈরি হতে। ভারত ছাড়ো আন্দোলনের সময় কলকাতার রাস্তায় পা মিলিয়েছিলেন প্রতিবাদে।

Continues below advertisement

আর সেই ইব্রাহিমের নামের পাশেই ছিল 'বিচারাধীন' তকমা। তবে শেষ পর্যন্ত পিছু হঠল যান্ত্রিক ত্রুটি। সোমবার গভীর রাতে কমিশনের সাপ্লিমেন্টারি তালিকায় ভোটাধিকার ফিরে পেলেন ১০০ বছরের বেশি বয়সী ইব্রাহিম।

কেন এই টানাপোড়েন?

গত ২৯ জানুয়ারি হঠাৎই ইব্রাহিম সাহেবের বাড়িূতে BLO - এর নোটিশ এসে পৌঁছায়। সেই নোটিশে ছিল বিডিও অফিসে সশরীরে হাজিরার নির্দেশ। কারণ? তথাকথিত ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’। অর্থাৎ, তাঁর বয়স ও তাঁর বেঁচে থাক নিয়ে সন্দেহ। কমিশন শেষমেশ বাড়িতে গিয়ে শুনানি করলেও চূড়ান্ত তালিকায় তাঁর নাম আসেনি। ফলে তিনি শতবর্ষ পেরিয়েও তাকিয়ে চিলেন সাপ্লিমেন্টারি লিস্টের দিকেই।

Continues below advertisement

তথ্য কী বলছে?

ইব্রাহিমের জন্ম বাংলার ১৩২৯ সালের মাঘ মাসে। বর্তমানে তিনি পূর্ব বর্ধমানের জামালপুর থাকেন। এই ইব্রাহিম দেশের প্রথম নির্বাচন থেকে গত লোকসভা, সমস্ত নির্বাচনেই ভোট দিয়েছেন। তাঁর নাম বৈধ তালিকায় না আসায়, আক্ষেপ করেছিলেন ইব্রাহিম সাহেব। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, "বেঁচে আছি এটাই কি আমার দোষ?" অপমানিত বোধ করছিল তাঁর পরিবারও। তবে সাপ্লিমেন্টারি লিস্ট প্রকাশ হতেই মেঘ কেটেছে। ছেলে শেখ রাইহান উদ্দিন জানালেন, "তালিকায় এখন বাবা এবং পরিবারের বাকি সদস্যদের নাম ‘বৈধ’ ভোটার হিসেবেই দেখাচ্ছে।"

আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে ভোট দিতে এখন মুখিয়ে জামালপুরের এই প্রবীণ। এই ভুলের সংশোধন শুধুমাত্র ভোটার তালিকায় একটা নামের অন্তর্ভুক্তি নয়। বরং ১০০ বছর বয়সের একজন মানুষের সম্মান ফিরিয়ে দেওয়া।

উল্লেখ্য, নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর, ৩২ লক্ষ বিবেচনাধীন ভোটারের মধ্যে নাম বাদ পড়তে চলেছে ৪০ শতাংশ ভোটারের। অর্থাৎ, বাদ পড়তে চলেছে প্রায় ১৩ লক্ষ ভোটারের নাম। কমিশন সূত্রে আরও জানা গিয়েছে প্রথম সাপ্লিমেন্টারি তালিকায় (SIR Supplementary List) উঠেছে প্রায় ১০ লক্ষ নাম। তাহলে বাকি ৯ লক্ষের স্টেটাস কী? তাদের নাম কোন তালিকায় মিলবে? কী বলছে নির্বাচন কমিশন? আসলে এই ৯ লক্ষের নাম কেন, প্রথম তালিকায় কত নাম আছে সেটাও কিন্তু নির্বাচন কমিশন এখনও অফিসিয়ালি কোনও প্রেস রিলিজ দিয়ে কিছুই জানায়নি। ফলে, ওই ৯ লক্ষের ভবিষ্যত কি, তা নিয়ে এখনও প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।