সুকান্ত মুখোপাধ্যায়, কলকাতা : ফের অগ্নিকাণ্ড কলকাতায়। লালবাজারের কাছে একটি গাড়ির যন্ত্রাংশের গোডাউনে আগুন লেগেছে বলে খবর। গোডাউনের একতলায় আগুন লেগেছে। ধোঁয়ায় ঢেকেছে গোটা এলাকা। দমকলের ১০টি ইঞ্জিন কাজ করছে বলে শোনা যাচ্ছে। বিশেষ মাস্ক পরে অক্সিজেন সিলিন্ডার নিয়ে ভিতরে ঢোকার চেষ্টা করছেন দমকল কর্মীরা। ধোঁয়ার জেরে দৃশ্যমানতা বেশ কম। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালাচ্ছে দমকলবাহিনী। গোডাউনে মজুত রয়েছে প্রচুর জিনিস। দমকল কর্মীদের অনুমান ভিতরে কোনও কেমিক্যাল রয়েছে। তার ফলে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা মুশকিল হচ্ছে। দমকল কর্মীদের রীতিমতো বেগ পেতে হচ্ছে কাজ করার ক্ষেত্রে, কারণ প্রচণ্ড ধোঁয়ায় ঢেকে গিয়েছে সমস্ত এলাকা। ধোঁয়ার পরিমাণ এতটাই যে ভিতরে ঢোকার চেষ্টা করেও বাধ্য হয়ে বেরিয়ে আসতে হয়েছে দমকল কর্মীদের। কেমিক্যালের ঝাঁঝালো গন্ধের জেরে চোখ-মুখ জ্বলছে দমকল কর্মীদের। শ্বাসকষ্টও হচ্ছে ধোঁয়ার জেরে। বারবার চোখে, মুখে জল দিচ্ছেন দমকল কর্মীরা।

Continues below advertisement

ধোঁয়ায় ঢেকেছে আর এন মুখার্জি রোড সংলগ্ন এলাকা। ভিতরে একেবারেই অক্সিজেন নেই। কোনওভাবেই ভিতরে প্রবেশ করতে পারছেন না দমকল কর্মীরা। মেশিন চালিয়েও ধোঁয়া বের করার চেষ্টা করেছে দমকলবাহিনী। গোডাউনের ভিতর একটি নির্দিষ্ট অংশে কাজ হচ্ছিল। অনুমান সেখান থেকে শর্ট সার্কিট হয়ে সম্ভবত আগুন লেগেছে। তিনতলা বিল্ডিংয়ের একতলায় ছিল গাড়ির যন্ত্রাংশের গুদাম। জানলার কাচ ভেঙে ধোঁয়া বের করার চেষ্টা চলছে। বিল্ডিং থেকে ইতিমধ্যেই সবাইকে নিরাপদে বের করে আনা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। কী কারণে, কীভাবে আগুন লাগল, অগ্নি নির্বাপন ব্যবস্থা রয়েছে কিনা, তা ঠিক মতো কাজ করছিল কিনা, সব দিকই খতিয়ে দেখবে দমকলবাহিনী। তবে আপাতত আগুন নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে মূল বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে এই প্রচুর পরিমাণ ধোঁয়া। 

এত বেশি ধোঁয়া রয়েছে ওই এলাকায় যে ভিতরে প্রবেশ করা যাচ্ছে না একেবারেই। ভিতরের অংশের দৃশ্যমানতাও নেই। প্রবল ধোঁয়ার জেরে ভিতরে ঢুকে আগুনের উৎস এখনও বোঝা যায়নি। লালবাজার থেকে মাত্র ২০০ মিটার দূরে লেগেছে এই ভয়াবহ আগুন। জল দিয়ে, বিল্ডিংয়ের কাঁচ ভেঙে ধোঁয়া বের করার চেষ্টা ক্রমাগত চালাচ্ছেন দমকলকর্মীরা। অসুস্থ হয়ে পড়ছেন দমকল কর্মীদের অনেকেই। আশপাশের বাড়ির বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। ব্যস্ত রাস্তা বন্ধ রাখা হয়েছে একপ্রকার বাধ্য হয়েই। চলছে বাইরে থেকে জল দেওয়া। আনা হয়েছে অনেক ল্যাডার। অনুমান করা হচ্ছে, একটি এসি মেশিন থেকে শর্ট সার্কিট হয়ে সম্ভবত আগুন লেগেছে। ওই এসি মেশিন অর্থাৎ আগুনের উৎসের খোঁজ চালাচ্ছেন দমকল কর্মীরা। বিল্ডিংয়ের একতলায় দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ে। স্বল্প পরিসরের সিঁড়ি দিয়েই নেমে আসেন ভিতরে থাকা লোকজন। আশপাশের বাড়িগুলি খালি করে দেওয়া হয়েছে। 

Continues below advertisement