সুকান্ত মুখোপাধ্যায়, কলকাতা : গীতাপাঠের অনুষ্ঠানে চিকেন প্যাটিস বিক্রেতাকে মারধরের অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছে ৩ জন। পুলিশের হাতে গ্রেফতার সৌমিক গোলদার, তরুণ ভট্টাচার্য ও স্বর্ণেন্দু চক্রবর্তী নামের তিন ব্যক্তি। ধৃত সৌমিক গোলদার উত্তর ২৪ পরগনার গোবরডাঙার বাসিন্দা। অন্যদিকে, হুগলির উত্তরপাড়ার তরুণ ভট্টাচার্য ও অশোকনগরের স্বর্ণেন্দু চক্রবর্তীও গ্রেফতার হয়েছে এই ঘটনায়। ভাইরাল ফুটেজ খতিয়ে দেখে ৩ জনের খোঁজ পাওয়া গিয়েছে, খবর পুলিশ সূত্রে। গত ৭ ডিসেম্বর, গীতা পাঠের দিন চিকেন প্যাটিস বিক্রেতাকে মারধর করা এবং স্টল ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছিল।
গত ৭ ডিসেম্বর কলকাতায় ময়দানে ছিল ৫ লক্ষ কণ্ঠে গীতা পাঠের অনুষ্ঠান। ব্রিগেডের এই অনুষ্ঠানে ২ জন চিকেন প্যাটিস বিক্রেতাকে মারধরের অভিযোগ ওঠে। জানা যায়, এই দুই ব্যক্তিদের মধ্যে একজন ট্যাংরার বাসিন্দা। অন্যজন কসবার বাসিন্দা। এই ২ জনের মধ্যে একজনের নাম মহম্মদ সালাউদ্দিন এবং শেখ রিয়াজুল। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে এই দুই ব্যক্তিকে মারধরের ভিডিও। একদল ব্যক্তিকে দেখা যায়, তারা ওই ২ জনকে ঘিরে ধরেছেন প্রথমে। তারপর শুরু হয় বেধড়ক মারধর। এই ঘটনায় ২টি এফআইআর দায়ের হয় ময়দান থানায়। তদন্ত শুরু করে পুলিশ। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া ফুটেজ খতিয়ে দেখে এই ৩ জনের হদিশ পায় পুলিশ। আজ তাদের ব্যাঙ্কশাল কোর্টে পেশ করা হবে এবং ৩ অভিযুক্তকে হেফাজতে চেয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চায় পুলিশ। আর কেউ এই ঘটনায় জড়িত ছিল কিনা তা জানার চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ। জানা গিয়েছে, অভিযুক্তদের আইনজীবীরা আজই তাদের জামিনের আবেদন জানাবে আদালতে।
যে ৩ জন গ্রেফতার হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, ওই ২ প্যাটিস বিক্রেতাকে মারধরের পাশাপাশি, আটকে রাখা হয়েছিল অকারণে। যে স্টলে প্যাটিস বিক্রি করা হচ্ছিল, সেখানেও ভাঙচুর চালানো হয় বলে অভিযোগ। পুলিশ জানতে পেরেছে মারধর করার জন্য মূলত উস্কানি দিয়েছিল সৌমিক গোলদার। তিন অভিযুক্তকে সাতদিনের জন্য নিজেদের হেফাজতে নিতে চায় পুলিশ। আজ ৩ অভিযুক্তকে থানায় আনার পর হিন্দু সেবা দলের একটি সংগঠন থানার সামনে এসে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে বেশ কিছুক্ষণ ধরে। ফলে থানার পিছনের গেট দিয়ে অভিযুক্তদের বের করে প্রিজন ভ্যানে নিয়ে যাওয়া হয় আদালতে। সূত্রের খবর, আদালতেও গিয়েছে হিন্দু সেবা দলের ওই সংগঠন। আর তাই সেখানেও রয়েছে কড়া নিরাপত্তা।