হিন্দোল দে, কলকাতা : নিউ গড়িয়ার অভিজাত আবাসনে বৃদ্ধা খুনের কিনারা। বৃদ্ধা খুনের সন্দেহে গ্রেফতার সেন্টার থেকে সদ্য কাজে যোগ দেওয়া আয়া। আয়া আশালতা সর্দার ও তার এক সঙ্গী জালাল মিরকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। আয়াকে নরেন্দ্রপুর ও জালালকে ঢোলাহাট থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর, খুনের সময় আশালতা ভিতরে ছিল, বাইরে পাহারায় ছিল জালাল। গত বৃহস্পতিবার এই খুনের ঘটনা ঘটে, ফোনের টাওয়ার লোকেশন ধরে গ্রেফতার। লুঠের উদ্দেশ্যেই এই খুন বলে ধারণা পুলিশের। একাকী থাকা অথর্ব দম্পতিকে টার্গেট করে হানা, ধারণা পুলিশের। লুঠের আগে বাড়ির বিদ্যুৎসংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। কেটে দেওয়া হয়েছিল সিসিটিভি ক্যামেরার তার। হাত-পা-মুখ বেঁধে মাথায় ভারী কিছু দিয়ে আঘাত করে খুন। খুনের পর বৃদ্ধার পরে থাকা সোনার গয়না লুঠ করে পালায় অভিযুক্তরা। খুনের সঙ্গে এই ২ জন ছাড়া আর কেউ জড়িত কিনা, খতিয়ে দেখছে পুলিশ। তদন্তে পঞ্চসায়র থানা।
পুলিশ সূত্রে খবর, বৃদ্ধা বিজয়া দাসকে মাথায় আঘাত করে, শ্বাসরোধ করে খুন করা হয়। রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। বৃদ্ধার স্বামীকে অন্য একটি ঘরের খাটের তলা থেকে উদ্ধার করা হয়। তিনি সেখানে কীভাবে পৌঁছলেন, তাও খতিয়ে দেখছে পুলিশ। তদন্তকারীরা আরও জানিয়েছেন, যে ২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, তাদের সিসিটিভি ক্যামেরায় দেখা গিয়েছে। ঘটনার দিন আবাসনে ঢুকেছিল তারা। পুলিশ সূত্রে খবর, ১৫ বছর ধরে এক পরিচারিকা এই বাড়িতে কাজ করেন। গতকাল ভোরে সাড়ে পাঁচটা থেকে ৬টার মধ্যে তিনি বৃদ্ধাদের বাড়িতে যান। কোনও সাড়াশব্দ না পাওয়ায় সন্দেহ হয়। বাড়ির পিছন দিকে গিয়ে দেখেন গেট বাইরে থেকে লাগানো রয়েছে। দরজা খুলে ভিতরে ঢুকে সিঁড়ির পাশে বৃদ্ধাকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন।
পঞ্চসায়র থেকে মাত্র ৬০০ মিটার দূরের একটি বাড়িতে ঘটে গিয়েছে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড। পুলিশ জানিয়েছে, পুরনো এই পরিচারিকার থেকে বৃদ্ধার ফোন নম্বর পাওয়া যায়। প্রসঙ্গত এই ফোনটি খোয়া গিয়েছিল। তবে তা সচল ছিল। এই ফোন নম্বর ট্র্যাক করেই অভিযুক্তদের পাকড়াও করেছে পুলিশ। ঘটনার দিন সন্ধে সাড়ে সাতটা নাগাদ আশালতা এবং জালাল নিউ গড়িয়ার ওই আবাসনে ঢোকে এবং সাড়ে এগারোটার মধ্যে বেরিয়ে যায় বলে পুলিশ সূত্রে খবর। বৃদ্ধাকে যখন রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছিল, তখনই তাঁর পরনে ছিল না কোনও গয়না। পুলিশের অনুমান, লুঠের কারণেই খুন করা হয়েছে বৃদ্ধাকে। ১০-১৫ বছর ধরে একাই থাকতেন বৃদ্ধ দম্পতি। কর্মসূত্রে ছেলে এবং মেয়ে থাকেন মুম্বই এবং জার্মানিতে। একাকী বৃদ্ধ-বৃদ্ধাকেই টার্গেট করেছিল অভিযুক্তরা।