ময়ূখ ঠাকুর চক্রবর্তী, কলকাতা : শহরে অবসরপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীর দেহ উদ্ধার, আটক ১। মৃতের জামাইকে আটক করল পুলিশ। গল্ফগ্রিন এলাকায় বাড়ির মধ্যে উদ্ধার দেহ। সিঁড়ির পাশে পড়ে ছিল বৃদ্ধের দেহ। দেহের বিভিন্ন জায়গায় আঘাতের চিহ্ন আছে। ঠেলে ফেলে দিয়ে খুন বলে প্রাথমিক ধারণা পুলিশের। দেহের ময়নাতদন্ত হবে, ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে লালবাজারের হোমিসাইড শাখা। একই বাড়িতে গুরুতর অসুস্থ হয়ে শয্যাশায়ী অবস্থায় আছেন বৃদ্ধের স্ত্রী।
প্রাথমিক ভাবে পুলিশের অনুমান করছিল, উপর থেকে পড়ে যাওয়ায় যে ধরনের চোট-আঘাত কারও দেহে থাকে, তেমনই চিহ্ন এই বৃদ্ধের দেহে ছিল। এরপর আরও খতিয়ে দেখে তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে যে বৃদ্ধের দেহে আরও চোট-আঘাতের চিহ্ন রয়েছে, কালশিটে রয়েছে। এর থেকে পুলিশের অনুমান যে বৃদ্ধকে মারধর করা হয়েছে। মৃতের জামাইকে আটক করার পাশাপাশি, বৃদ্ধের ছেলেকেও জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। প্রতিবেশীদের একাংশের মধ্যে দিন ১৫-২০ আগে বৃদ্ধের মেয়ের বিয়ে হয়েছে। এক প্রতিবেশীর দাবি, বৃদ্ধের জামাই কিছু কাজ করতেন না, মদ্যপান করতেন। জামাইকে ঢুকতে দেওয়া হতো না বলেও জানিয়েছেন প্রতিবেশীদের একাংশ।
এ জি বেঙ্গলে চাকরি করতেন বৃদ্ধ। প্রায়শই এই বাড়িতে কিছু বিষয় নিয়ে চিৎকার চেঁচামেচি হত বলে জানিয়েছেন স্থানীয়দের অনেকে। এই পরিবার এলাকায় সেভাবে বিশেষ কারও সঙ্গে মিশত না বলেও দাবি করেছেন স্থানীয়দের একাংশ। বৃদ্ধের দেহে একাধিক চোট-আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, তাঁকে খুন করা হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা এর সঙ্গে যুক্ত বলেই সন্দেহ তদন্তকারীদের। তবে নিশ্চিত ভাবে পুলিশের তরফে এখনও কিছু জানানো হয়নি। যদিও প্রাথমিক তদন্তে মোটামুটি তাঁরা নিশ্চিত যে বৃদ্ধকে সম্ভবত খুনই করা হয়েছে এবং এই ঘটনার সঙ্গে সম্ভবত তাঁর পরিবারের সদস্যদের যোগসাজশ রয়েছে।
সম্পত্তির বিষয়ে খুন? নাকি বাড়ির প্রোমোটারি নিয়ে চাপ? বৃদ্ধের টাকাপয়সা হাতিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্য? নাকি অন্য কোনও কারণ? বৃদ্ধের মৃত্যুর কারণ জানতে সমস্ত সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। ঘটনাস্থল সিল করে দিয়েছে পুলিশ। বাইরের কাউকে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। দেহ ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে। লালবাজারের হোমিসাইড শাখা এবং সায়েন্টিফিক শাখার গোয়েন্দারা ঘটনাস্থলে গিয়েছেন, তদন্তের স্বার্থে নমুনাও সংগ্রহ করেছেন। জোরকদমে শুরু হয়েছে তদন্ত। কীভাবে বৃদ্ধের মৃত্যু হল তা জানতে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে পুলিশ।
